সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

গনতন্ত্র ও লাঠিচার্জের তালিকা

লকডাউন শুরুর পর দেশ জুড়ে কবে কোথায় শ্রমিকরা প্রতিবাদে শামিল হয়েছে পর্যাপ্ত খাবার, থাকার যায়গা ও বাড়ি ফেরার দাবি নিয়ে ও সেই বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পুলিশ তাদের উপর লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে তার একটা দিনপঞ্জী তৈরি করেছে সৌম্য চট্টোপাধ্যায় ও তার সহকর্মীরা। শ্রমিক অধিকার, মানবধিকার ও নাগরিক অধিকার রক্ষার জন্য যারা কাজ করছেন এই তথ্য তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিযায়ী শ্রমিকরাও যে এদেশের নাগরিক ও উৎপাদনশীল কাজ করার পর তারাও যে আমার আপনার মত সমস্ত সুবিধা ভোগ করার দাবিদার, এই কথা যেন আমরা কখনও নস্যাৎ না করি। এই তালিকা বলে কীভাবে তারা সেই নাগরিক অধিকার ও মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এমনকি জীবনের অধিকার, বাঁচার জন্য যে নুন্যতম সুরক্ষার প্রয়োজন সেইটুকুও তাদের দেওয়া হয়নি। ভিনরাজ্যে পরে থেকে তাদের অবস্থা জাঁতাকলের ইদুরের মত। না আছে থাকার কোন ব্যবস্থা, না আছে পর্যাপ্ত খাবার। প্রাপ্য মজুরিও তারা পায়নি এবং ঘরভাড়া থেকেও তাদের রেহাই দেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে সরকার থেকে তাদের বাড়ি ফিরিয়ে নেওয়ার কোন সুবন্দোবস্ত ও করা হয়নি। কী ব্যবস্থা তাদের জন্য করা হবে এবং কবে করা হবে তার কোন সদুত্...

প্রকল্পের নাম রবীন্দ্রনাথ

মহীরুহের কাছে যেতে নেই, তাকে নাকি দূর থেকে দেখতে হয় । কিন্তু কাছে না গেলে কি তার ব্যপ্তি অনুভব করা সম্ভব ? রবি ঠাকুর আমদের কাছে সেই মহীরুহের মত । আমরা যে যার মত করে তাঁর কাছে যাই, তাঁর সান্নিধ্যে থাকি । তিনি ধূমকেতু নন । তিনি ধ্রুবতারার মত । অনন্ত বিরাজমান । তাঁর বিচরণ সর্বত্র । শিল্পের সমস্ত শাখায় তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি। বাংলা ভাষার এক অন্যতম ধারক ও বাহক । বিশ্বের দরবারে বাংলার উজ্জ্বল স্থান প্রতিষ্ঠার কারিগর রবীন্দ্রনাথ ।  প্রতিভার গুণে তিনি যুগের পর যুগ পৃথিবীর কাছে অমর হয়ে আছেন, মনের গোপন কুঠুরিতে সর্বদা বিরাজমান । এই প্রতিভা কি তিনি সাবলীল ভাবেই পেয়েছিলেন না কি রপ্ত করেছিলেন ?  সকলে রবীন্দ্রনাথ হন না তেমনই রবীন্দ্রনাথও সকল নন । নিজের সৃষ্টির প্রতি বিশ্বাস ও ভালোবাসা অন্তরের গভীরতম কক্ষ থেকে আসে । কিন্তু সকলে সেই ভালোবাসাকে আগলে রেখে চলতে পারে না । সেই ভালোবাসার কাছে নতজানু হয়ে বসতে পারে না । পারে না সৃষ্টির সাবলিলতার আনন্দে এতটাই মাতোয়ারা হয়ে পড়তে যে কোনও বিষাদই তাঁকে স্তিমিত করতে পারবে না । রবীন্দ্রনাথ পেরেছিলেন । পেরেছিলেন বলেই জীবনের সমস্ত বিষাদের কাছে তিনি ...

ইরফান খানকে লেখা এক চিঠি

প্রিয় ইরফান, গতকাল রাতে ঠিক এই সময়ই শুরু করেছিলাম। এমনিতেই অবসরের দিনে রাতে ঘুম আসতে চায়না। ঘুম এলেও তা বারবার ভেঙে যায়৷ ছোটবেলায় মাথার কাছে একটা ভাঙা অ্যান্টেনার রেডিও থাকত। ঘুম না এলে রাতের বেলায় আসতে করে চালিয়ে দিতাম। শুনতে শুনতে কখন যে ঘুমিয়ে যেতাম খেয়াল থাকত না। এখন হাতের পাশে মোবাইল বা বালিশের পাশে ল্যাপটপ সেই যায়গা দখল করেছে। নির্ঘুম রাত গুলোতে বা হঠাৎ করে উঠে পরা মধ্যরাতে এইগুলোই ভরসা। স্ক্রিন জুড়ে শুধুই চলমান ছবির আনাগোনা। আমরা যারা সিনামাকে খুব কাছ থেকে দেখেছিলাম একসময়, কখন কীভাবে যে সিনেমাও আমাদের জীবনের রুটিনে একান্ত প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর মধ্যে চলে এসেছে তা টেরও পাইনি। গতকাল রাতে একটা মালায়লম ছবি দেখতে শুরু করে বুঝতে পারি সাবটাইটেল নেই। এ ছবি এখন দেখা যাবে না। কিন্তু কী দেখব এটা যখন ভাবছি মাথায় এল তপন সিনহার 'এক ডক্টর কি মউত' এর কথা। অনেকদিন ধরে দেখব দেখব করে দেখিনি, ফেলে রেখেছিলাম। সেই কবে কলকাতা বিশব্বিদ্যালয়ের কড়িবরগার ক্লাসরুমে এই ছবির কথা শুনেছিলাম। ছবির টাইটেল কার্ড দেখার সময় চোখ আটকে গেলো আপনার নামের ওপর। চোখ আটকানোর কারণ ছিল কিছুদিন আগেই বরুন গ্রোভারের একটা ইন...

যখন বৃষ্টি নেমেছিলঃ একটি ছোটগল্প

হঠাৎ ঝড়টর বাঁধিয়ে তেড়ে বৃষ্টি এলেই আমার মনে পড়ে নমিতা চৌধুরীর কথা। তাঁকে দেখতে সুন্দর ছিল বলে টাকার কাঙাল বীরেশ্বর রায় এক দেখাতেই বিয়ে করে নিয়েছিলেন। পয়সা জমানো ছাড়া বিরেশ্বরের আর কোন নেশা ছিলনা কখনই। সমস্তরকম ঝঞ্জাট থেকেই তিনি নিজেকে এড়িয়ে চলতেন। নমিতা মুখে না বললেও বিয়ের একমাস পর থেকেই নর্দমার পোকার থেকেও বেশি ঘৃণা করতেন বীরেশ্বরকে। বীরেশ্বরকে দেখতে কুৎসিত। শুধু পয়সা আছে বলে নমিতা কিছু বলেনি তা নয় বিয়ের সময় শর্তই ছিল বিয়ের পর নমিতার ছোট ভাই আবীর তার মাতাল বাপকে ছেড়ে তাদের সাথে থাকবে। বীরেশ্বর আপত্তি করেননি। কিন্তু তিনি আবীরকে দুচোখে দেখতে পারে না। শুধু মুখে কিছু বলে না। কলেজ পাশ করে বের হওয়ার পর আবীর জামাইবাবুকে বলেছিল একটা কাজ খুঁজে দিতে হবে তাকে। বীরেশ্বরের ইচ্ছে না থাকলেও বলেছিল দেবে। তারপর কাউকে কিছু না জানিয়ে আবীর বিয়ে করল অপর্ণাকে। তাকে সে নিপা বলে ডাকে। বিয়ের রাতে উঠল জিগরি দোস্ত আফিফের বাসায়। আফিফের দুটো ঘর। একটা ঘরে ওদের বাসরের ব্যবস্থা হল। সন্ধ্যে হতেই বীরেশ্বর ডেকে পাঠাল আবীরকে। আবীর না চাইতেও তাকে যেতে হল। রাতে ফিরে দেখল নিপা ঘুমিয়ে পড়েছে। এদিকে আবীর ভেবে এসেছিল আজ সারারা...

নিয়তির কাছে যা যা বলার ছিল

নবারুণ সেই কবেই বলেছিলেন- “গাঁড় মারি তোর মোটরগাড়ির, গাঁড় মারি তোর শপিং মলের। বুঝবি যখন আসবে তেড়ে, ন্যাংটো মজুর সাবান কলের। পেটমোটাদের ফাটবে খুলি, ফাটবে মাইন চতুর্দিকে। গলায় ফিতে নেংটি বেড়াল, তার বরাতেই ছিঁড়বে শিকে”। আজ একুশ দিন শেষ হবার ছিল। শেষ হবার আগেই আরও উনিশ দিনের জন্য লকডাউন কার্যকর হয়ে গেল। প্রধানমন্ত্রী এসে বলেছেন সরকার বহু আগে থেকেই এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত ছিল। হয়ত ছিল কিন্তু কীভাবে ছিল সেই প্রশ্ন কি কেউ করেছে? তিনঘণ্টার নোটিশে দেশে জুড়ে সমস্ত রকমের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেল। আমরা আনন্দ পেলাম। এবারে দীর্ঘ ছুটি। ওয়ার্ক ফ্রম হোম। কিন্তু একবারও ভাবলাম না হোমলেস পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা। যাদের জন্য আমাদের ঝাঁ চকচকে সুন্দর শহরে এখনও বসন্ত এলে আমরা প্রেমে পড়ি। যত ছ্যাঁচড়া কাজের জন্য হাড়হাভাতে মানুষগুলো গ্রাম ছেড়ে শহরের কোণায় কোণায় আস্তাকুঁড়ে আস্তানা গারতে শুরু করে সেই চল্লিশ দশকের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময় থেকে। সত্যজিতের ‘পথের পাঁচালি’র কাশবনের মধ্যে দিয়ে রেলগাড়ি দেখে আমরা দৃশ্য ভাবনার তারিফ করি। কিন্তু রেলগাড়ি ব্যবহারের ইঙ্গিত বুঝতে ব্যর্থ হই। রেলগাড়ি শুধু কাশবনের মধ্য...

লকডাউনে ঘুরে আসার রূপকথা

কথা ছিল সন্ধ্যে ৬টার মধ্যে আমরা সবাই পৌঁছে যাব। এর বেশি দেরি করা যাবে না। কারন হাতে আর খুব বেশি সময় থাকবে না। প্ল্যাটফর্ম থেকে বেশ কিছু জিনিসও কেনার আছে। ট্রেন ছাড়ার সময় ছিল ছটা বেজে পঞ্চাশ মিনিট। গত প্রায় ৬ মাস ধরে চলছিল প্রস্তুতি। কোথাও একটা যেতে হবে। কিন্তু কোথায়? আমাদের দাবী ছিল মূলত তিনটি, বরফ দেখতে পাওয়া, ট্রেকিং করা ও কোন অফবিট যায়গায় শেষ দুদিন প্রকৃতির কোলে থেকে প্রকৃতিকে অনুভব করা একান্ত নিরিবিলিতে। সেইমত যায়গা পছন্দ করা চলছিল। কিন্তু তার আগেই যাওয়ার ও ফেরার ট্রেনের টিকিট কেটে নেওয়া হয়েছিল। অনেক ভেবে চিনতে, ইন্টারনেটের সাহায্য নিয়ে সকলের সম্মতিতে আমরা আমাদের ঘোরার যায়গা গুলো ঠিক করে নিয়েছিলাম। তারপর ছিল ঘুরতে যাওয়ার জন্য কিছু আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রের কেনাকাটি। কিছু জিনিস কেনাও হয়ে গিয়েছিল। বাকি ছিল আরো কিছু। কিন্তু বাধ সাধল এই অতিমারি।  আমি আসতাম মালিগ্রাম থেকে। কথা ছিল হাফবেলা অফিস করে বেড়িয়ে যাব। সাড়ে তিনটের খরগপুর লোকালটা যেভাবেই হোক ধরতে হবে। ওটা ধরতে পারলে তবেই ছটায় পৌছানো যাবে। আমার রুকস্যাক নিয়ে আসার কথা ছিল সুমনের (Suman Paul)। ও আসবে বাড়ি থেকে। শুধু রুকস্যাক নয়, আমাদ...

ভাইরাসঃ নিরলস পরিশ্রমের সার্থকতা

স্টিভেন সোদারবার্গের ‘কন্টেজন্’ মুক্তি পেয়েছিল ২০১১ সালে। আজকে দুনিয়া জুড়ে চলা করোনা অতিমারির প্রকোপে আমরা যখন সকলে ঘরে লকডাউন হয়ে দিন কাটাচ্ছি, তখন এই ছবিটির কথা আমাদের অন্দরমহলে ইতিমধ্যেই পৌছে গিয়েছে। করোনা ভাইরাসের আবির্ভাব ও তার বিস্তারের সাথে এক অদ্ভুত মিল আছে এই ছবিটির। কিন্তু এই সাদৃশ্য সম্পূর্ণই কাকতালীয়। এই পরিসর উক্ত ছবিটির আলোচনা করার জন্য নয়। ২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আশিখ আবু পরিচালিত ‘ভাইরাস’ ছবিটির সাথে সোদারবার্গের ছবির কাঠামোগত, জঁরগত এবং গল্পের নির্মাণগত কিছু সাদৃশ্য পাওয়া যায়। কিন্তু তা শুধুই সিনেমার ভাষা কেন্দ্রিক। ‘ভাইরাস’ আমাদের সামনে এমন একটা থ্রিলার ড্রামা পরিবেশন করে যা শুধুমাত্র গল্পের রুটের মধ্যেই আটকে থাকেনি। থ্রিলার ছবির ক্ষেত্রে মূলত গোটা ছবির ভরকেন্দ্র থাকে সন্দেহভাজনের ওপরই। মুহসিন পারারি সারফু ও সুহাস দ্বারা রচিত চিত্রনাট্য এক্ষেত্রে কিন্তু শুধুমাত্র সন্দেহভাজনের ওপরই ফোকাস করে থাকেনি, চরিত্র থেকে চরিত্রের অন্তরে প্রবেশ করে এক বিশাল পৃথিবীর সামনে এনে আমাদের দাঁড় করায় যার পরতে পরতে জড়িয়ে আছে অনেক কাহিনী ও চরিত্রের দর্শন।  ২০১৮ সালে কেরালাতে নিপাহ ভাইরা...