সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

ঝরাপালক লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

দুপুর ভেজা বৃষ্টি আর রেইন-কোর্ট

সকাল থেকেই মেঘগুলো সব মন কেমনের দিস্তা সর্দি বসা শরীর যেমন বর্ষা জলের তিস্তা! অঙ্ক কষি, ঝাপসা দেখি, বৃষ্টি বুঝি আসবে ওই ছোট্ট আমার ট্রেনের স্টেশন, হুল্লোড় আর হইচই। আবেগঘন জলের ধারায় ঠোঁট ছুঁয়েছে বৃষ্টিজল এখন তোমায় কোথায় পাবো, ফোন খুঁজছে অবিরল। পুরোনো ছাতা, জলের লেখা, মেঘবালকের স্বপ্ন মন আমার ভাঙা সংসারে অবাধ ছুটি সারাক্ষণ! দুপুর বড় অভিলাষী, দুপুর বড় স্বার্থপর ঘষা কাঁচে ঝাপসা দেখায়, বৃষ্টি এলে তেপান্তর। তখন তোমার রিংটোনে রেইন-কোর্টের ছবি গান স্মৃতির কাটা জলের লেখায় অন্য কারোর অভিমান। মিথ্যে কথা বলতে শুনি আমি যখন ওদের মুখে একটা ছবি একটা দুপুর দাঁড়িয়ে থাকে মনের সুখে। অতীত হলেও স্পষ্ট দেখি, চোখের কোনে জমছে জল মনোক্রমে ভিজছে কারা, ঝাপসা হয়ে সিনেমা-হল। তোমার চিঠি আজকে পেলাম, টুকরো টুকরো পাতার ভার- হঠাৎ কেনো কাটাকুটি এমন অবুঝ কবিতার? বিশ্বাস যদি করো তবে একটা কথা বলতে চাই এমন অপমানের কথা পূর্ব মেঘেও লেখা নাই। মেঘের পরে মেঘ করেছে আঁধার আলোয় জমছে সুর তোমার কথা লিখতে বসে হারিয়ে যাচ্ছে এই দুপুর। জানি না ঠিক কোথায় আছো এই সময়ে তুমি আমার যেখানে থাকো ভালো থেকো বলেছি মনে...

দু-এক কাপ কফির জন্য

কারোর জন্য আজকে ভীষণ মনখারাপ। ইচ্ছে ছিল , আড্ডা দেব। সঙ্গে কফি দু-এক কাপ। সন্ধ্যে হল, সূর্য বুঝি ডুবল ঐ। ট্র্যাফিক জ্যামে আটকে আছি , সময়ের আর খেয়াল কই ? ঘড়ি বলছে সবে মাত্র ছটা বাজতে পাঁচ। এখনও অনেক দেরি আছে , সাতটা থেকে রেডিওতে মনখারাপের গান বাজে। বাড়ি ফিরতে এই পথে , রোজই শুনি (রেডিওতে) , কারা যেন সব চিঠি লেখে আঁকরে ধরে জাপটে ধরে ভালোবাসে একে অন্যকে। আজকে কোন চিঠি নেই। মনখারাপের বাজছে শানাই , বিকেল থেকেই। রাস্তাঘাটে খুঁজছি তাই আনন্দকে , হন্যে হয়ে শেষমেশ বাড়ির পথে। সুখ কি হয় ? জানিনে আজ। আজ ভীষণ মনখারাপ। কথা ছিল অনেকটা পথ হেঁটে যাব। ফাঁকা থাকবে রাস্তাঘাট। শীত এসেছে। ভিড় এখন তাই হয়না মালুম লোকাল ট্রেনে। রোজই দেখি ওরা দুজন প্রেম করে লুকিয়ে লুকিয়ে স্টেশনে। আজকে ভীষণ হিংসে হল ওদের দেখে , ঠিক যেন আমরা দুজন , বৃষ্টির দিনে এক ছাতাতে। হারিয়ে গেছে সেসব দিন। অনেক ভিড়ের মাঝে , এখন আর হয়না শোনা গুলজারের গান , মাঝে মাঝে ঐ রেডিওতে বাজে। তোমার জন্য আজকে ভীষণ মনখারাপ। হয়ত হবে দেখা। কোনএকদিন। সঙ্গে কফি , দু-এক কাপ।...

নবারুনের প্রতি

শারীরিক স্বাচ্ছন্দ্য জ্ঞাত হওয়ায়, কমিউনিস্ট পার্টির শেষ মিছিলে- শুধু মৃতদেহরা এসেছিল কফিন বন্দী হয়ে। তারপর দিন বদলেছে, আগুন এসে পুড়িয়েছে, শরীরের সকল ছাল চামড়া। ভোরের বাতাসকে দুর্গন্ধ করেছে মোরগের হিসি। রাস্তা ভাসিয়েছে শালিক, কাগের গু। মানুষ অতি সাবধান, আস্তানা গেড়েছে জংলা নদীর পাড়ে। সেখানে নতুন শহর হবে। হবে নতুন শপিংমল, বসবে নতুন মোবাইল টাওয়ার, বিদেয় হবে চড়ুই পাখির দল। শুধু এরপর থেকে বইমেলার এক কোনায়, নতুন বইয়ের গন্ধ নিয়ে চুপচাপ বসে থাকবে না, সাদা চাপ দাড়ির ভদ্রলোক। যিনি চিৎকার করে বলেছিলেন- “এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ নয়”।।  

যে মিছিলে আমি হেঁটে চলেছি

তোমার মুখ মনে পড়ে, চারিপাশের মানুষের অস্পষ্ট মিছিলে, স্লোগানে, কিংবা এগিয়ে যাওয়া কোন ভিখিরির থলি দেখে। চিৎকার, উন্মাদ হাসি, পেয়ে বসা আদিখ্যেতাকে ছাপিয়ে যায় তোমার উজ্জ্বল মুখ। যে মুখ দেখতে চেয়েছিল, এক বিপ্লবী সকালের ভোর। অগাধ, অতল গভীর সমুদ্রও চুপ করে গিয়েছিল, যখন হৃদয়ে হৃদয়ে কিংবা চেতনায় নবপ্রজন্মের জন্ম হয়েছিল। শহরের কুয়াশারা সাজিয়ে দিয়েছিল চিতার কাঠ। নবপ্রজন্ম সাক্ষী ছিল- ডেসডিমোনা-ওথেলোর মৃত্যুর। আমি রিক্ততা হারিয়ে, সেই কুয়াশায় চিতার আগুনে স্পষ্ট দেখেছিলাম তোমার মুখ। জানিনা আমার মতও তুমিও হাঁটতে চেয়েছিলে কিনা, সেই মৃত্যু মিছিলে।

আর কি বা না পারার আছে আমার

আমি হেঁটে যেতে পারি শত ক্রোশ পথ, আমি কাটাতে পারি অনাহারে দিবারাত, আমি বাঁধতে পারি ছোট কুঁড়ে ঘর- আমি রাধতে পারি আলুসেদ্ধ ভাত। আমি এনে দিতে পারি রঙিন প্রজাপতি, আমি চেয়ে চেয়ে দেখতে পারি জ্যোৎস্না রাত শুধু তুমি সঙ্গে থাকো যদি। সারা ঘর জুড়ে ভালোবাসার ছবি আঁকো যদি, যদি মেখে খাওয়াও আমায় আলুসেদ্ধ ভাত, যদি খেলা কর প্রজাপতির সাথে, তাহলে আমি এ সব পারি, আর কি বা না পারার আছে আমার?   আবার আমি চলে যেতে পারি শত ক্রোশ পথ, আমি কাটাতে পারি সারাজীবন অনাহারে দিবারাত। আমি বেঁধে দিতে পারি ওদের ছোট কুঁড়ে ঘর আমি রেঁধে খাওয়াতে পারি ওদের আলুসেদ্ধ ভাত। ঐ যে ওরা যারা ভালোবাসে একে ওপরকে- ঐ যে ওরা যারা থাকে আমার কবিতার মাঝে।   শুধু তুমি একবার বল চলে যাও, এখুনি বিদেয় হও, দুশ্চিন্তা মুক্ত কর আমায়। দেখ আমি চলে যেতে পারি, আমি সব কথা শুনতে পারি তোমার। আমি এ সবই পারি, আর কি বা না পারার আছে আমার।

যেদিন পিছু নিয়েছিলাম

না চাইলে কি দিতে পারা যায় না, অল্প আলোয় মন? নীল খামে মোড়া আছে সজীব ভালোবাসার রঙ। থাক বরং, মেঘ করেছে বহুদূর, ঠিকানাহীন কোন বাড়ির আনাচে।   ঐ গাছেরা খেলে বেড়ায়, টিপটিপ বর্ষা রাতে, অচেনা কেউ হাত বাড়ায় চায়ের কাপ হাতে।   তবুও লাস্ট ট্রেনে ফিরতে হবেও জেনে আমি পিছু নিই তোমার।   ঠিক কোন পথে গেলে, হারানো যাবে সহজে- পুকুরপারে কথা বলা যাবে নিজের সাথে নিজে।   মন তার ভালো নেই ঐ অজানার সাথে, বালিপথে হাঁটা আর- গোটাকয়েক নুড়ি পাথর হাতে।   এরপরও কোন নিয়ম না মেনে, ফিরতে হবেও জেনে, আমি পিছু নি তোমার।।

ঠিক যতটা ভালোবাসি

বাঁচতে শেখার মানে ইচ্ছে নয় জানি, অন্ধকারে আজও আলোর কাছেই ঋণী, হয়ত আলো নেই তবুও এভাবেই ভেসে যাওয়া যায় তোমার থেকেও বেশী আমি ভালোবাসি তোমায়।   রামধনু রঙ বদলে দেওয়া আকাশ নীলাকার, চেনাপথে, বা প্ল্যাটফর্মে দেখা হয়ে যাবে আবার। অচেনাও আজ চেনা সুরে আমায় রাঙিয়ে যায়, তোমার থেকেও বেশী আমি ভালোবাসি তোমায়।   প্রতিটা শব্দ, বাক্য, কবিতা বা দূরের কোন ঝিল কীভাবে মেলাবো তোমাকে দিয়ে অন্তমিল? শুধু গালিব কিংবা গুলজার নয়, জীবনানন্দও কাঁদায় তোমার থেকেও বেশী আমি ভালোবাসি তোমায়।   আবার হবে দেখা চোখের কোনায় কেন জল? এক শতাব্দী পরও পরিচিত মুখ থাকবে অবিকল। তখনও পথ চেয়ে বসে থেকে জানাবে সময়, তোমার থেকেও বেশী আমি ভালবেসেছি তোমায়।   ভালোবাসার গান http://www.youtube.com/watch?v=OtCLgy-akGc

যে ডাক দিয়ে যায়

যদিও বা দেখার ছিল অনেক কিছু, স্মৃতিরা এখনও নেয় পিছু। রাত ভোর হলে কেউ দেয় না ডেকে তবুও তো থাকে ওরা- খেয়ে পড়ে বেঁচে। সেদিনও না কোন দিন ছিল, না কোন রাত, গভীর স্মৃতির মাঝেই ওরা বেঁচে থাক। ফেরিওয়ালা হাঁক দিয়ে যায়, অনুভূতিরা ঘুমায়, কাল ভোর হলে পাওয়া যাবে, পাখির ডানার শব্দ। বইয়ের পাতায় লেখা শতশত কবিতা প্রেম, চায়ের গ্লাসে ধোঁয়া ওঠা, চোখেরা ভাবে, মাঝে মাঝে সারা শহর কুয়াশা ঘেরা থাকে। তবুও ঐ বুঝি হাঁক দেয়- শহরতলির কেউ।।

সেই ছেলেটা........সেই মেয়েটা

নিচের কবিতাটি নিছক কোনো কবিতা নয়, সংবাদপত্র 'এইসময়'  তে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন ( http://www.epaper.eisamay.com/Details.aspx?id=8165&boxid=144328781  ) পড়ার পর এ আমার একান্ত আত্মব্যক্তি, সমবেদনা ও অনুরোধ সকলকে একবার, মাত্র একটিবার ভেবে  দেখার যে সত্যিই কি আমরা পারিনা শাসন মুক্ত শোষণ মুক্ত ভালোবাসার জন্য একটা  রঙিন পৃথিবী উপহার দিতে?আবেদন রইল সকলের কাছে ওই যে ওই ছেলেটি শুয়ে আছে রেললাইনের ধারে। কিছুক্ষন আগেই যার সারা দেহ লোকাল ট্রেনটি মারিয়ে গেছে । যার কাটা হাত পা আরও কত কিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে আশেপাশে...। চাপচাপ রক্ত লেগেছে পাথরগুলিতে আমি তো ওর কথাই বলছি। আমি ওর কথাই বলবার চেষ্টা করছি... বছর কুড়ির ছেলেটি আজ অপঘাতে মৃত বাড়ির সকলে মূর্ছা যাচ্ছে অনবরত। তারই কিছুদুরে যেখানে আনন্দে খই ফুটছে বিষ দাঁত তুলে সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস নিচছে। সেখানেই কেউ অনবরত কাঁদছে সংসার গড়ার স্বপ্নে নিজের শাঁখা ভাঙছে। সুখ সারির ছবি সে এঁকেছিল খাতায় তাদের কথাই লিখছি আমি আমার ব্লগের পাতায়। ওরা একে অপরের সান্নিধ্যে এসেছিল। ওরা একে অপরকে ভালবেসেছিল। ভা...

৩রা ডিসেম্বর

দুয়ারখানি হাট করে খোলা, জানলা দিয়ে আসে শীতের বাতাস, মা বোধহয় স্নানে গেছে ঠাকুরদালান শোঁকে তুলসীর সুবাস। এসবের মাঝেও ঘটে অনেক কিছু, আদিখ্যেতা না হোক ভালোবাসার পিছু- ছেড়ে এগিয়ে যায় শবের গাড়ি, পিছন থেকে মৃত্যু মশাল, এগিয়ে আসে সারি সারি। জানতাম তুমি এসব কিছুই জানবে না, আরেকবারের জন্য বলবেও না- “ভেবো না সব ঠিক হয়ে যাবে”। আর সত্যিই নেই কিছু বাকি, মৃত্যুর দিনক্ষণ নির্দিষ্ট ৩রা ডিসেম্বর আমি একার সাথেই থাকি। থাক তবে এসব, আমার তো হল বলা। তুমি শুনলে কি না শুনলে, হল না তা জানা। শুধু রাত থেকে দিন, দিন থেকে রাত কীভাবে যেন সময় চলে যায়। আমি চুপি চুপি পিছু নিই, শববাহী গাড়িটার সাথে, সে আমায় পৌঁছে দেয় সময়ের অনন্ত গভীরতায়, যেখানে কেউ বলেছিল একদিন- “ভেবো না সব কিছুই ঠিক হয়ে যায়”।

শেষের অংশটা

অন্ধকারে পথ হাঁটত রবি, আর সুদেষ্ণা আঁকত ছবি। সেই পথেই একদিন দেখা ওদের, প্রথম দেখাতেই প্রেম, এরপর শুরু দিন বদলের।     ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে মেলামেশা, একে ওপরের কাছে আসা। এরপর এক অনিয়মিত আবদার, দেখাশুনাও হত মাঝেমধ্যে আবার।     রবি লিখত চিঠিতে ভরা কবিতা, আর সুদেষ্ণা রাখত বুকের মাঝে গুছিয়ে তা। একটা ইচ্ছে ছিল ওদের ঠিক যেমনটা আছে আমাদের।   কিন্তু সময় বড়ই সূক্ষ্ম, পাশ কাটিয়ে যায়- আর রবি শুধুই অন্ধকারে আলোকে হাতড়ায়, সুদেষ্ণা পাশে এসে দাড়ায়, বৃষ্টির দিনে, একটা ছাতায় ওদের দুজনের চলে যায়।   কিন্তু কটাই বা স্বপ্ন ছিল ওদের? ওরাই তা জানত। আমি শুধু জানি, ওরা একসাথে থাকতে চাইত।     ওরা ঝড় ওঠবার ভয় পেত, লোকাল ট্রেনে আলাদা বসত, আর কখনও বা সুযোগ পেলে- হাতে হাত ধরত।   আর মাঝে মাঝে বলত- ‘শেষের কবিতা’র মতন আমাদের শেষটাও যদি এক হয়?   কিন্তু কেইই বা মানতে চায় সবটা শুধু আমিই দাড়িয়ে দেখেছি শেষটা। ...