সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

ডিসেম্বর, ২০১৩ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

যে ডাক দিয়ে যায়

যদিও বা দেখার ছিল অনেক কিছু, স্মৃতিরা এখনও নেয় পিছু। রাত ভোর হলে কেউ দেয় না ডেকে তবুও তো থাকে ওরা- খেয়ে পড়ে বেঁচে। সেদিনও না কোন দিন ছিল, না কোন রাত, গভীর স্মৃতির মাঝেই ওরা বেঁচে থাক। ফেরিওয়ালা হাঁক দিয়ে যায়, অনুভূতিরা ঘুমায়, কাল ভোর হলে পাওয়া যাবে, পাখির ডানার শব্দ। বইয়ের পাতায় লেখা শতশত কবিতা প্রেম, চায়ের গ্লাসে ধোঁয়া ওঠা, চোখেরা ভাবে, মাঝে মাঝে সারা শহর কুয়াশা ঘেরা থাকে। তবুও ঐ বুঝি হাঁক দেয়- শহরতলির কেউ।।

জন্মদিনের (ভালোবাসার) উপহার

এখন কটা বাজে জানা নেই। হয়ত খুব বেশী রাত নয়, অনেক লোক তো এখনও দেখি রাস্তায়। শুধু আমি নেই, না আমি নেই, কোথাও নেই। ঘরে নেই, বাইরে নেই, কোথাও নেই। জানি তুমি আছ, ঘরে। হ্যাঁ ঘরেই আছ। আজ কোথাও জাওনি জানি। তোমায় ঘিরে এখন অনেক লোক, রঙিন আলো, হয়ত সাথে বেলুনও। একটা ২১ লেখা মোমবাতি, আর বড় একটা কেক। নাহ ক্যাটবেরী ফ্লেভার না, তুমি তো বলতে ওটা ভালো লাগে না। যেটা ভালো লাগে, ব্ল্যাকফরেস্ট- সেটা কেউ আনবে না জানি। তুমি হয়ত বলবেও না। এতক্ষনে সবাই হাততালি দিয়ে ফেলেছে। আনন্দে তোমায় জড়িয়ে ধরেছে, শুভেচ্ছা জানাছে, উপহার দিচ্ছে, আরও কত কি। তোমার মা হয়ত বলছে- “রাতের খাবার কিন্তু রেডি, তোরা তাড়াতাড়ি খেয়ে গল্প করিস”। তোমাদের ডিভিডি তে গান বাজছে হয়ত, তালে তাল মেলাচ্ছ বোধহয়। ছোট খোকা কেক মাখামাখি করে ফেলেছে। তোমার কোন বন্ধু হয়ত, সামনের বারান্দায় এসে তার প্রেমিক কে মেসেজ করছে- “সাবধানে এসো, আমি এখান থেকে বেরিয়ে জানিয়ে দেবো”। তুমি হয়ত সবার জন্য এবারে, আরও এক গ্লাস কোল্ডড্রিঙ্কস আনতে গেলে। মা এসে জিজ্ঞেস করল- “আর কেউ আসবে নাতো”? নাহ আর কেউ আস...

সেই ছেলেটা........সেই মেয়েটা

নিচের কবিতাটি নিছক কোনো কবিতা নয়, সংবাদপত্র 'এইসময়'  তে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন ( http://www.epaper.eisamay.com/Details.aspx?id=8165&boxid=144328781  ) পড়ার পর এ আমার একান্ত আত্মব্যক্তি, সমবেদনা ও অনুরোধ সকলকে একবার, মাত্র একটিবার ভেবে  দেখার যে সত্যিই কি আমরা পারিনা শাসন মুক্ত শোষণ মুক্ত ভালোবাসার জন্য একটা  রঙিন পৃথিবী উপহার দিতে?আবেদন রইল সকলের কাছে ওই যে ওই ছেলেটি শুয়ে আছে রেললাইনের ধারে। কিছুক্ষন আগেই যার সারা দেহ লোকাল ট্রেনটি মারিয়ে গেছে । যার কাটা হাত পা আরও কত কিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে আশেপাশে...। চাপচাপ রক্ত লেগেছে পাথরগুলিতে আমি তো ওর কথাই বলছি। আমি ওর কথাই বলবার চেষ্টা করছি... বছর কুড়ির ছেলেটি আজ অপঘাতে মৃত বাড়ির সকলে মূর্ছা যাচ্ছে অনবরত। তারই কিছুদুরে যেখানে আনন্দে খই ফুটছে বিষ দাঁত তুলে সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস নিচছে। সেখানেই কেউ অনবরত কাঁদছে সংসার গড়ার স্বপ্নে নিজের শাঁখা ভাঙছে। সুখ সারির ছবি সে এঁকেছিল খাতায় তাদের কথাই লিখছি আমি আমার ব্লগের পাতায়। ওরা একে অপরের সান্নিধ্যে এসেছিল। ওরা একে অপরকে ভালবেসেছিল। ভা...

৩রা ডিসেম্বর

দুয়ারখানি হাট করে খোলা, জানলা দিয়ে আসে শীতের বাতাস, মা বোধহয় স্নানে গেছে ঠাকুরদালান শোঁকে তুলসীর সুবাস। এসবের মাঝেও ঘটে অনেক কিছু, আদিখ্যেতা না হোক ভালোবাসার পিছু- ছেড়ে এগিয়ে যায় শবের গাড়ি, পিছন থেকে মৃত্যু মশাল, এগিয়ে আসে সারি সারি। জানতাম তুমি এসব কিছুই জানবে না, আরেকবারের জন্য বলবেও না- “ভেবো না সব ঠিক হয়ে যাবে”। আর সত্যিই নেই কিছু বাকি, মৃত্যুর দিনক্ষণ নির্দিষ্ট ৩রা ডিসেম্বর আমি একার সাথেই থাকি। থাক তবে এসব, আমার তো হল বলা। তুমি শুনলে কি না শুনলে, হল না তা জানা। শুধু রাত থেকে দিন, দিন থেকে রাত কীভাবে যেন সময় চলে যায়। আমি চুপি চুপি পিছু নিই, শববাহী গাড়িটার সাথে, সে আমায় পৌঁছে দেয় সময়ের অনন্ত গভীরতায়, যেখানে কেউ বলেছিল একদিন- “ভেবো না সব কিছুই ঠিক হয়ে যায়”।