সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

সেপ্টেম্বর, ২০১৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ভিসারানাই (Visaranai):- ক্ষমতার চরিত্রায়ন

এম . চন্দ্রন কুমার ওরফে অটো চন্দ্রন পেশায় অটোরিকশা ড্রাইভার। বয়স ৫৩। নিবাস তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুর। মেয়ে জিভা ফটোগ্রাফিতে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট। দশম শ্রেণী পাশ করার আগেই স্কুল ছেড়ে দেওয়া কুমারের সম্বন্ধে তার সাথী অটোরিকশা ড্রাইভাররা বলে ওনার জীবনকে দেখার আলাদা একটা ভিসন আছে, কখনও অটোর লাইনে থাকার সময় বা কখনও ট্র্যাফিকে আটকে থাকার সময় উনি গভীর ভাবে মানুষকে পর্যবেক্ষণ করেন, তাদের জীবনধারণের শৈলীকে লক্ষ্য করেন। সময়টা ছিল ১৯৮৩ সালের মার্চ মাস, কুমার বাড়ি থেকে অশান্তি করে পালিয়ে এসেছিল অন্ধ্র প্রদেশের গুন্টুরে। তেলেগু প্রধান অঞ্চলে কুমার পেট চালানোর জন্য কাজ করত একটি হোটেলে। হঠাৎ একদিন পুলিশ এসে তাঁকে এবং তার সাথে আরও তিনজনকে তুলে নিয়ে যায়। যদিও তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ ছিলনা। উপরওয়ালার চাপের কারনে একটি কেসকে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য প্রয়োজন ছিল কিছু তামিলদের, আর প্রয়োজন ছিল তাদেরকে দিয়ে কনফেস করিয়ে নেওয়ার যে সেই কেসের সাথে তারা যুক্ত। কিন্তু কুমার ও তার সাথে থাকা আরও তিনজন কনফেস করতে রাজি হয়নি তাই তাদের ওপর চলেছিল অকথ্য অত্যাচার। ১৫ দিন তাদের জেলে রাখার পর অন্য আরেকটি জেলে তাদেরকে স্থানন্ত...

প্রতিটা মৃত্যুই সমান দুঃখজনক

মৃত্যু সবসময়ই দুঃখজনক, তা সে যে কারোরই হোক। সেই মৃত্যু আরও বেদনাদায়ক যা অসময়ে হয়। উরি সেনা ছাউনিতে ১৭ জন ভারতীয় সেনার সন্ত্রাসবাদী হামলায় মৃত্যু আরও একবার কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেয় আমাদের, সীমান্ত সুরক্ষা করতে গিয়ে আমাদের নিরাপদ জীবন প্রদানের লক্ষ্যে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাও পদে পদে বিপদের সম্মুখ হয়ে পরে। কিন্তু নিরাপরাধ সৈন্য মৃত্যুর দায় কাদের? রাষ্ট্রযন্ত্র তাঁর সেনাকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ। রাষ্ট্রনীতি দিনের পর দিন ধরে এক পচা শামুকের মতন হয়ে গেছে যাতে পা দিলেই পা কাটে। যে সদিচ্ছা নিয়ে ’৪৭ এর দেশ ভাগের পর কাশ্মীরে সেনাবাহিনী পাঠানো হয়েছিল সেই সদিচ্ছা যে আসলে অসদ উপায়ে কাশ্মীরে হস্তক্ষেপ ছিল তা প্রতি দশক প্রমাণ দিয়েছে। ১৭ জন সেনার মৃত্যু ঠিক যতটা বেদনাদায়ক ঠিক ততটাই বেদনাদায়ক শেষ তিনমাসে আশির উপরে সাধারন কাশ্মীরি মানুষের মৃত্যু, ১১০০০ এর উপরে আহত হয়ে পরা এবং কয়েক হাজারের ওপরে মানুষের দৃষ্টিশক্তি হারানো। এই সবকিছুর দায় যদি নিতেই হয় তাহলে তা সম্পূর্ণ আমাদের। আমরাই প্রতি পাঁচ বছর অন্তর এমন সরকার গঠন করি যাদের রাষ্ট্রনীতি বলপূর্বক কাশ্মীর অধিগ্রহণ করতে চায় কিন্তু তাদের মৌলিক অধিকার টুকু প্র...

কাশ্মীরঃ রাষ্ট্রের বন্দুক বনাম সাধারণ মানুষের জীবন

বছর ছয়েক আগের কথা, অক্টোবরের হয়ত কোন এক জ্যোৎস্না মাখা দিনে, বিকেলের ফুরফুরে হাওয়ার সাথে সামনের সুউচ্চ পাহাড়দের সাক্ষী রেখে ১৬ বছরের এক কিশোর বালক দাদা ও তার বন্ধুর সাথে মোটর সাইকেল সাওয়ারিতে বেরিয়েছিল, ঠিক তেমনই যেমন সে এই দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে এখানে ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠছিল রোজ রোজ, তার নিজের এলাকায়, তার নিজের জন্মস্থানে। কিন্তু সে বোধহয় জানত না বেশ কয়েকমাস ধরে রাষ্ট্রের নির্দেশে মিলিটারি সংগঠন একশোর ওপরে সাধারণ মানুষকে মেরে ফেলেছে। কারণ তাঁরা জানত না 'কাশ্মীরিদের মরবার জন্য কোন কারণ হয়না, বেঁচে থাকার জন্য রাষ্ট্রকে এক্সপ্লানেশন দিতে হয়।' মিলিটারি বাহিনী সেই তিন যুবকের বাইক থামিয়ে তাদের জন্য সিগেরেট আনার নির্দেশ দেয়, এনে দেওয়ার পর বিনা কারণে (যার ব্যাখা রাষ্ট্র কোনদিনই কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে দিতে পারেনি) মারধর করে, বাইক ভেঙে দেয়। সেদিনের সেই ১৬ বছরের কিশোরটি ছিল 'বুরহান ওয়ানি'। আর তার সাথে ছিল তাঁর দাদা খালেদ ওয়ানি ও তাঁর এক বন্ধু। দাদা খালেদ ওয়ানিকে এরও বেশ কিছুদিন পর বুরহান দেখবে নিজের বাড়ির দুয়ার থেকে কফিন বন্দি হয়ে বেরোতে। শুধু খালেদকে নয় সে এই দীর্ঘ ছয় বছর...