সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

কবিতার পাতা লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

যেসব কথা তোমায় বলা হলনা

আমি আবার লিখব হাজার বছর পর। সূর্যোদয় থেকে গোধূলি হয়ে যখন রাতের নিশীথে অনবরত বারিধারা নেমে আসবে না আমার চোখ থেকে। আমি হাজার হোক শত কষ্টেও যখন অনুভব করব সুখ কি আমি তখন লিখব তোমায়- তোমাকে ছাড়া নিজেকে কতটা অসহায় লাগে। ৬ বাই ৮ ঘরে ভালোভাবে ঘুমানো যেত না তিনজনে...... টিফিনের সময় বন্ধুদের খাবারের দিকে তাকিয়ে থাকতাম খালি...... আমাকে মিথ্যে বলে দাদুর মৃতদেহের সামনে এনে দাঁড় করানো হয়েছিল... ছোট থেকেই আমায় বলা হয়েছিল আমার কিছু হবে না... পাশের বাড়ির টিনাদি গলায় দড়ি দেওয়ার পর আমাকে যেতে দেওয়া হয়নি ওর কাছে... অপঘাতে মারা গেলে যেতে নেই নাকি কাছে। অথচ আমি চেয়েছিলাম ও একবার কথা বলুক... আমি দেখেছিলাম কিভাবে বুকের মাঝে গভীর ক্ষত নিয়ে আমার কাকা বেঁচে আছে... আমি দেখেছি কিভাবে দিনের পর দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে শুধুমাত্র জল খেয়ে থেকেছে মা... বাড়ির দুটো ইট গাঁথতে কিভাবে লোকের কাছে হাত পাততে হয়েছিল বাবাকে... কিভাবে ক্যান্সারে আক্রান্ত মামা দিনের পর দিন আস্তে আস্তে শুকিয়ে যাচ্ছিল চোখের সামনে... বাবার নাক মুখ দিয়ে গড়িয়ে পড়া রক্তকে আমি মুছে দিয়েছিলাম মেঝে থেকে... অসুস্থ...

দুপুর ভেজা বৃষ্টি আর রেইন-কোর্ট

সকাল থেকেই মেঘগুলো সব মন কেমনের দিস্তা সর্দি বসা শরীর যেমন বর্ষা জলের তিস্তা! অঙ্ক কষি, ঝাপসা দেখি, বৃষ্টি বুঝি আসবে ওই ছোট্ট আমার ট্রেনের স্টেশন, হুল্লোড় আর হইচই। আবেগঘন জলের ধারায় ঠোঁট ছুঁয়েছে বৃষ্টিজল এখন তোমায় কোথায় পাবো, ফোন খুঁজছে অবিরল। পুরোনো ছাতা, জলের লেখা, মেঘবালকের স্বপ্ন মন আমার ভাঙা সংসারে অবাধ ছুটি সারাক্ষণ! দুপুর বড় অভিলাষী, দুপুর বড় স্বার্থপর ঘষা কাঁচে ঝাপসা দেখায়, বৃষ্টি এলে তেপান্তর। তখন তোমার রিংটোনে রেইন-কোর্টের ছবি গান স্মৃতির কাটা জলের লেখায় অন্য কারোর অভিমান। মিথ্যে কথা বলতে শুনি আমি যখন ওদের মুখে একটা ছবি একটা দুপুর দাঁড়িয়ে থাকে মনের সুখে। অতীত হলেও স্পষ্ট দেখি, চোখের কোনে জমছে জল মনোক্রমে ভিজছে কারা, ঝাপসা হয়ে সিনেমা-হল। তোমার চিঠি আজকে পেলাম, টুকরো টুকরো পাতার ভার- হঠাৎ কেনো কাটাকুটি এমন অবুঝ কবিতার? বিশ্বাস যদি করো তবে একটা কথা বলতে চাই এমন অপমানের কথা পূর্ব মেঘেও লেখা নাই। মেঘের পরে মেঘ করেছে আঁধার আলোয় জমছে সুর তোমার কথা লিখতে বসে হারিয়ে যাচ্ছে এই দুপুর। জানি না ঠিক কোথায় আছো এই সময়ে তুমি আমার যেখানে থাকো ভালো থেকো বলেছি মনে...

দু-এক কাপ কফির জন্য

কারোর জন্য আজকে ভীষণ মনখারাপ। ইচ্ছে ছিল , আড্ডা দেব। সঙ্গে কফি দু-এক কাপ। সন্ধ্যে হল, সূর্য বুঝি ডুবল ঐ। ট্র্যাফিক জ্যামে আটকে আছি , সময়ের আর খেয়াল কই ? ঘড়ি বলছে সবে মাত্র ছটা বাজতে পাঁচ। এখনও অনেক দেরি আছে , সাতটা থেকে রেডিওতে মনখারাপের গান বাজে। বাড়ি ফিরতে এই পথে , রোজই শুনি (রেডিওতে) , কারা যেন সব চিঠি লেখে আঁকরে ধরে জাপটে ধরে ভালোবাসে একে অন্যকে। আজকে কোন চিঠি নেই। মনখারাপের বাজছে শানাই , বিকেল থেকেই। রাস্তাঘাটে খুঁজছি তাই আনন্দকে , হন্যে হয়ে শেষমেশ বাড়ির পথে। সুখ কি হয় ? জানিনে আজ। আজ ভীষণ মনখারাপ। কথা ছিল অনেকটা পথ হেঁটে যাব। ফাঁকা থাকবে রাস্তাঘাট। শীত এসেছে। ভিড় এখন তাই হয়না মালুম লোকাল ট্রেনে। রোজই দেখি ওরা দুজন প্রেম করে লুকিয়ে লুকিয়ে স্টেশনে। আজকে ভীষণ হিংসে হল ওদের দেখে , ঠিক যেন আমরা দুজন , বৃষ্টির দিনে এক ছাতাতে। হারিয়ে গেছে সেসব দিন। অনেক ভিড়ের মাঝে , এখন আর হয়না শোনা গুলজারের গান , মাঝে মাঝে ঐ রেডিওতে বাজে। তোমার জন্য আজকে ভীষণ মনখারাপ। হয়ত হবে দেখা। কোনএকদিন। সঙ্গে কফি , দু-এক কাপ।...

নবারুনের প্রতি

শারীরিক স্বাচ্ছন্দ্য জ্ঞাত হওয়ায়, কমিউনিস্ট পার্টির শেষ মিছিলে- শুধু মৃতদেহরা এসেছিল কফিন বন্দী হয়ে। তারপর দিন বদলেছে, আগুন এসে পুড়িয়েছে, শরীরের সকল ছাল চামড়া। ভোরের বাতাসকে দুর্গন্ধ করেছে মোরগের হিসি। রাস্তা ভাসিয়েছে শালিক, কাগের গু। মানুষ অতি সাবধান, আস্তানা গেড়েছে জংলা নদীর পাড়ে। সেখানে নতুন শহর হবে। হবে নতুন শপিংমল, বসবে নতুন মোবাইল টাওয়ার, বিদেয় হবে চড়ুই পাখির দল। শুধু এরপর থেকে বইমেলার এক কোনায়, নতুন বইয়ের গন্ধ নিয়ে চুপচাপ বসে থাকবে না, সাদা চাপ দাড়ির ভদ্রলোক। যিনি চিৎকার করে বলেছিলেন- “এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ নয়”।।  

যেদিন বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম

                        ওপারেতে বৃষ্টি এল ঝাপসা গাছাপালা,                    এপারেতে মেঘের মাথায় একশো মানিকজ্বালা।                     বাদলা হাওয়া মনে পরে ছেলেবেলার গান,                        বৃষ্টি পরে টাপুর-টুপুর নদে এল বান।                        বৃষ্টির কিছু নিয়ম আছে, সে যখন তখন ঝড়ে পড়ে না। ইচ্ছে হলেও না। অনেকটা ঠিক আমাদের মতন, আমরা যেমন চাইলেও কাঁদতে পারি না সবসময়। কান্নার কথা লিখতে গিয়ে মনে পড়ল ক্লাস এইটে এই বৃষ্টির দিনেই একদিন খুব কেঁদেছিলাম। বিকেলে ...