আমি আবার লিখব হাজার বছর পর।
সূর্যোদয় থেকে গোধূলি হয়ে যখন
রাতের নিশীথে অনবরত বারিধারা
নেমে আসবে না আমার চোখ থেকে।
আমি হাজার হোক শত কষ্টেও
যখন অনুভব করব সুখ কি
আমি তখন লিখব তোমায়-
তোমাকে ছাড়া নিজেকে কতটা অসহায়
লাগে।
৬ বাই ৮ ঘরে ভালোভাবে ঘুমানো যেত
না তিনজনে......
টিফিনের সময় বন্ধুদের খাবারের
দিকে তাকিয়ে থাকতাম খালি......
আমাকে মিথ্যে বলে দাদুর মৃতদেহের
সামনে এনে দাঁড় করানো হয়েছিল...
ছোট থেকেই আমায় বলা হয়েছিল আমার
কিছু হবে না...
পাশের বাড়ির টিনাদি গলায় দড়ি
দেওয়ার পর আমাকে যেতে দেওয়া হয়নি ওর কাছে...
অপঘাতে মারা গেলে যেতে নেই নাকি
কাছে।
অথচ আমি চেয়েছিলাম ও একবার কথা
বলুক...
আমি দেখেছিলাম কিভাবে বুকের মাঝে
গভীর ক্ষত নিয়ে আমার কাকা বেঁচে আছে...
আমি দেখেছি কিভাবে দিনের পর দিন
অক্লান্ত পরিশ্রম করে শুধুমাত্র জল খেয়ে থেকেছে মা...
বাড়ির দুটো ইট গাঁথতে কিভাবে লোকের
কাছে হাত পাততে হয়েছিল বাবাকে...
কিভাবে ক্যান্সারে আক্রান্ত মামা
দিনের পর দিন আস্তে আস্তে শুকিয়ে যাচ্ছিল চোখের সামনে...
বাবার নাক মুখ দিয়ে গড়িয়ে পড়া
রক্তকে আমি মুছে দিয়েছিলাম মেঝে থেকে...
অসুস্থ বাবাকে দিনের পর দিন বয়ে
বেড়াচ্ছিলাম নিজের কাঁধে...
রুগ্ন কাকার চিকিৎসার জন্য দ্বারে
দ্বারে গিয়ে ভিক্ষে করেছিলাম......
বন্ধুর বাবার মৃতদেহ কাঁধে করে
পৌঁছে দিয়েছিলাম শ্মশানে...
ঠাকুমার অচল দেহ কোলে নিয়ে
ছুটেছিলাম হাসপাতালে...
রাতের পর রাত হেঁটে বেরিয়েছি
হাসপাতালে আর অতঃপর আমি শুনেছিলাম-
আমার মরে যাওয়া বেঁচে থাকায় তার কিছুই এসে যায়না...
আমি একটা মৃতদেহের পাশে দাড়িয়ে
প্রথমবার চিৎকার করে কেঁদেছিলাম-
অসময়ে আমাকে একা ফেলে চলে যাওয়ার
জন্য...
আমি তোমায় বলতে চেয়েছিলাম
সারাজীবন আমার পাশে থেকে যাও...
এসব আমার কিছুই বলা হয়নি তোমায়।
বলা হয়নি আমার ভয় লাগে নিঃসঙ্গতায়,
আমার ভয় লাগে একাকীত্বে,
আমার ভয় লাগে বেকারত্বে,
আমার ভয় লাগে অন্ধকারে,
আমার ভয় লাগে একলা হাঁটতে,
আমার ভয় লাগে তোমাকে হারাতে।
অথচ কত সুন্দর সুন্দর সব মুহূর্ত
ছিল
ঝড়ো হাওয়ায় নদীর জলে তোমার পা
দোলানো
সারারাত উষ্ণ আলিঙ্গনে উদ্দাম
নৃত্য
আরও কত কিই তো ছিল... থাক না সেসব
বরং।
না চাইতেই তোমার কাছ থেকে পেয়েছি
অনেক,
দিতে পারিনি আমি কিছুই
দিতে কিবা পারি তোমায়!
তাই শুভেচ্ছা দিয়ে যেতে চাই
সুখ হোক তোমার অঙ্গনে,
নির্মল আলোয় ভরে উঠুক তোমার
দুয়ার,
গোলাপের গন্ধে ছয়লাপ হোক তোমার
ঘর,
শিউলির গন্ধে ম ম করুক তোমার
সংসার।
ব্যাস এইটুকুই...
আর আমার!
আমি চাই স্বয়ং ঈশ্বর এসে অনুমতি
দিক আমার ইচ্ছে মৃত্যুর ইচ্ছে কে।
আমি চাই আমার দিন কমে আসুক, আয়ু
কমে আসুক
আমি চাই যত দুঃখ দুর্দশা আছে
তোমার সব আমায় দিয়ে দাও
খুব তাড়াতাড়ি আমি যেন সেসব নিয়ে
চলে যেতে পারি অনেক দুরে,
আমি চলে যাওয়ার সাথে সাথে আমার
ব্যাগে থাকা তোমার ছবি,
আমার বালিশ বিছানা ছড়িয়ে থাকা
তোমার গন্ধ,
আমার টেবিল জুড়ে ছড়িয়ে থাকা তোমার
উপস্থিতি,
আমার মায়ের মন জুড়ে থাকা তুমি,
সব যেন চলে যায়।
ব্যাস এইটুকুই...
যদি সম্ভব হয় পরপারে দেখা কর
একবার,
তোমায় যে দেখতে বড় ইচ্ছে করে।
ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে করে ঐ কাজল চোখ
স্পর্শ করতে ইচ্ছে করে তোমার
ঠোঁটের ক্ষত,
বড় বলতে ইচ্ছে করে যে তোমায়...
খুব ভালোবাসি যে...
ব্যাস এইটুকুই।।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
ধন্যবাদ অসংখ্য।