সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

এপ্রিল, ২০২৪ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

মণিপুর জ্বলছে! কিন্তু কেন? অন্তিম পর্ব।

  সূচনা। বর্তমান দাঙ্গার সূত্রপাতের কারন হিসেবে যদি কিছু পয়েন্টকে লিস্ট করা যায় তাহলে দাঁড়ায়- বীরেন সিংয়ের রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদ, পোস্ত চাষের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান, অনিবন্ধিত অভিবাসন, কুকিল্যান্ডের দাবি এবং মেইতেই পুনর্জাগরণবাদ।  গত বছরের এপ্রিলে বহুদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভের স্ফুলিঙ্গ  জ্বলন্ত উত্তেজনাকে প্রজ্বলিত করে। অসম রাইফেলসের উপস্থাপনায় এই সময়কালকে "সূচনা" হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই মাসে, মণিপুর হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে মেইতেই সম্প্রদায়কে তফসিলি উপজাতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদনগুলি বিবেচনা করতে বলেছিল-সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী মণিপুরের পাহাড়ি অঞ্চলগুলিতে কুকিদের দ্বারাই বেশিরভাগ সম্পত্তির মালিকানা আছে। 1960 সালের মণিপুর ভূমি রাজস্ব ও ভূমি সংস্কার আইন শুধুমাত্র তফসিলি উপজাতিদের পার্বত্য অঞ্চলে জমি কেনার অনুমতি দেয়। মণিপুরের শীর্ষস্থানীয় উপজাতি নাগরিক সমাজের সংগঠন অল ট্রাইবাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন মণিপুরের পাহাড়ি জেলাগুলিতে যেখানে উপজাতি সম্প্রদায়ের আধিপত্য রয়েছে সেখানে "সংহতি মিছিল" করার আহ্বানের দেয়।  ৩রা মে সেনাপতি, উখরুল, কাংপোকপি, ত...

মণিপুর জ্বলছে! কিন্তু কেন? পর্ব ১

বড়দিনের কয়েকদিন আগে, মণিপুরের কাংপোকপি জেলা যা প্রধানত ক্রিশ্চান কুকি-জো সম্প্রদায়ের মানুষদের আবাসভূমি, সেখানকার একটি গ্রামে একটি টিনের ছাদ দিয়ে ঘেরা বাঙ্কারের ভিতর বন্দুক ও গুলি ভর্তি ব্যাগ রাখতে ব্যস্ত ১৯ বছর বয়সী চনমিনলাল কিপগেন এবং ২৬ বছর বয়সী পাওলাল কিপগেন আশ্চর্যজনক ভাবে বড়দিনের উৎসবের আনন্দে না মেতে খুবই শান্ত ছিল। তারা বন্দুক ও গুলির ব্যবস্থা করছিল কারণ পাহাড়ি অঞ্চলগুলিতে লুকিয়ে থাকা মেইতেই সম্প্রদায়ের সশস্ত্র যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে যাতে লড়াই করতে পারে। তারা নিজেদেরকে গ্রামের স্বেচ্ছাসেবক এবং বেসামরিক নাগরিক বলে আখ্যা দিয়েছিল কারণ তারা তাদের ঘরবাড়ি রক্ষার জন্য অস্ত্র তুলে নিয়েছিল। মণিপুরের রাজধানী ইম্ফল এর থেকে অনতিদুরে সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেই সম্প্রদায়ের মানুষরাও নভেম্বরে শুরুতে তাদের সবচেয়ে প্রিয় উৎসব নিঙ্গোল চকোবারের সময়ও একইরকমভাবে নীরব উদযাপন করেছিল। গত ১১ মাস ধরে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরের দুটি সম্প্রদায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন ফেডারেল সরকারের নজরদারির অধীনে ২১ শতকে দেশের দীর্ঘতম চলমান জাতিগত সংঘাতের মধ্যে আটকে রয়েছে। এই সংঘর্ষে...

চায়ে পে চর্চা

  সতেরো শতকের জার্মান অ্যাডভেঞ্চারার জোহান আলব্রেখট ডি ম্যান্ডেলস্লো ইরান ও ভারতে ভ্রমণ করার পর যখন ১৬৬২ সালে সেই ভ্রমণ বৃত্তান্ত লেখেন সেখানে প্রথম ভারতবর্ষে চা পানের কথা তিনি লিখেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, সেই সময় ভারতে চা-কে আধা-ঔষধি হিসেবে পান করা হত। ১৬৮৯ সালে ওভিংটন লেখেন,  সুরাটের ব্যবসায়ীরা চিনি ছাড়াই চা পান করতেন, অথবা অল্প পরিমাণে সংরক্ষিত লেবু মিশিয়ে পান করতেন। কিছু মশলা যুক্ত চা মাথাব্যথা এবং খিঁচুনিকে নিবারণ করার জন্য পান করা হত। এই ধরনের ব্যবহারের জন্য চা পাতা সম্ভবত চীন থেকে এসেছিল। ভারতে চা চাষ প্রবর্তনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সময়, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকরা লক্ষ্য করেছিলেন যে আসামেও মোটা পাতাযুক্ত চা গাছ জন্মায় এবং ভারতের অনান্য অঞ্চলে এগুলি যখন রোপণ করা হয় এগুলি খুব ভাল সাড়া দেয়। এই একই চা গাছ দীর্ঘকাল ধরে অসমের সিংফোস উপজাতির দ্বারা চাষ করা হত এবং উপজাতীয় শাসক নিংরুলা দ্বারা চা সরবরাহ করা হত। অতীতে চায়ের অসমীয়া এবং চীনের প্রজাতিগুলিকে সম্পর্কে আলাদা প্রজাতি হিসাবে বিবেচনা করা হত। তবে এখন উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা উভয়কেই একই প্রজাতি, ক্যামেলিয়া সিনেনসিস হিসাবে শ্রেণীবদ...