সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

2018 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

অক্টোবরঃ যার শেষে ফুলের সুবাস থাকে।

আমার তোমাকে কোনদিনও বলা হয়নি যে ছোটবেলায় আমাদের বাড়ির পাশে এক প্রকান্ড মাঠ ছিল, মাঠের একপ্রান্তে কোম্পানির কোয়ার্টারগুলো ছিল। লম্বা সার দিয়ে ছয়টা করে কোয়ার্টার থাকত এক একটা লাইনে। আমাদের সামনেরটা ছিল বাইশ নম্বরের। তখন আবহাওয়ার এরম বেহাল দশা ছিলনা। ঋতু বলতে আমরা ছয়টাই বুঝতাম। গ্রীষ্মের ছুটিতে যখন সন্ধ্যে হলেই আমার মফঃস্বলে লোডশেডিং হত আমরা দল বেঁধে গিয়ে ওই কোয়ার্টারের সামনের মাঠে বসতাম। ২২/৩ নম্বরে দেখতাম জানলা সবসময় বন্ধ থাকত। আমাদের তখন অত বয়সও ছিলনা যে কৌতুহল হবে। কিন্তু যখন প্রাইমারি স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে হাই স্কুলে গেলাম, যখন ছেলে মেয়ের মধ্যে তফাৎ বুঝতে শিখলাম তখন জানতে পারলাম ঐ ২২/৩ একজন থাকে যার আমাদের মত স্কুলে যাওয়া মানা। যার সামনের মাঠে খেলে বেড়ানো বারন । কিন্তু কেন বারণ তা বুঝতে আমাদের আরও কয়েক বছর পেরিয়ে গিয়েছিল । গ্রীষ্মের প্রবল দাবদাহের পর যখন বর্ষা আসত তখন আমরা শীল কুড়োতে যেতাম। আর তারপর কালোমেঘ কেটে গিয়ে যখন শরতের পেঁজা তুলোর মত মেঘ আকাশে উড়ে বেড়াত আমরা বুঝে যেতাম পুজো আসতে আর দেরি নেই। কিন্তু পুজো এলেই দেখতাম যে ভোর হলেই পাড়ার ঠাকুমারা ভিড় করত ২২/৩ এর পিছনের দিকে। ২২/...

তোমার জন্য প্রেম

নীলাঞ্জনা, তোমায় দিলাম বসন্তের এই মেঘলা আকাশ হাওয়ার কাছে রেখে দিও তোমার সব ইচ্ছেগুলো নীলচে খামে ভেজা কিছু বৃষ্টি দিলাম তোমায় রোদের আলোয় শুকিয়ে গেলে তুমি তাকে যত্নে খুলো। নীলাঞ্জনা, তোমার জন্য আহ্লাদী সব পাতাবাহার সোঁদা মাটির গন্ধ লাগা ঘুম পাওয়া রাত আবেগতার হেটে হেটেই দিব্য পেরিয়ে এলাম,পাহাড় পর্বত নদীনালা আর সেই থেকে ভিজে একশা তোমার নামের জলের ফোটায়। নীলাঞ্জনা, তোমার ঐ চোখের টানে রোজ ডুবতে রাজি কফির কাপে উথাল পাতাল, খাতার মধ্যে কাব্য অনেক এবার থেকে সব আবদার তোমার থাক, তুমিই জিত আমার জন্য নাহয় কবিতা লিখো দিস্তাখানেক। গল্প লিখো তারাদের, রূপকথার আহ্লাদীদের যারা আগুন নিয়ে খেলবে ভাবে, স্বপ্ন দেখে পাহাড় ভাঙার সমুদ্রতে গভীর রাতে নেশার টানে জানছি তোমায় তুমি খুব ঘুম কাতুরে, আমি ভালোবাসার কাঙাল।

মুক্কাবাজঃ গ্রাউন্ড রিয়েলিটির অন্দরমহল

ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যতার উর্ধ্বে মানবজমিন টেকে না, এ চিরকালের রীতি। কিন্তু ধর্ম যখন অন্ধ হয়, মানুষ যখন শুধু জাতের নিরিখে আলাদা করে, রাষ্ট্র যখন নিয়মবিধি বেঁধে দেয় কে কি খাবে কি করবে তখন সর্ববৃহৎ গণতন্ত্র প্রশ্নের মুখে দাড়িয়ে যায়। আর ঠিক এইরকম পরিস্থিতিতে সবাই যখন মাথা নত করতে ব্যস্ত তখন আমাদের সামনে চলতে শুরু করে প্রায় ২ ঘন্টা ৩৫ মিনিটের ম্যামথ গাঁথা ‘মুক্কাবাজ’। ছবি শুরু হচ্ছে গৌ-রক্ষকদের নিতি-পুলিশি দিয়ে আর ছবি শেষ হচ্ছে স্ক্রিন জুড়ে লেখা ‘ভারত মাতা কি জয়’ দিয়ে। আর এর ব্যবধানে আমরা ঘুরে আসছি সেইসব অন্তরমহল গুলোতে যেখানে জাতের বিচারে মানুষ বিবেচ্য হয়, যেখানে ট্যালেন্টের থেকেও বেশি প্রয়োজন হয় রেফারেন্সের, কিভাবে ১২০ কোটির দেশে স্পোর্টস রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের দালালি করে বেড়ায়, তার ইতিহাসকে। যদিও এই ইতিহাস আমাদের সকলেরই কমবেশি জানা। কিন্তু রূপালি পর্দায় আমরা এতদিন স্পোর্টসএর সেলিব্রেশন দেখতে অভ্যস্ত ছিলাম, আর এবারে পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ দেখালেন স্পোর্টস এর অবহেলা বা ইগ্নোরেন্স। ছবিকে যদি একটা গোত্রের মধ্যে ফেলতে হয় তবে মুক্কাবাজ কেবলমাত্র একটি স্পোর্টস ফিল্ম হিসেবেই স্বীকৃতি পাবে না।...