সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

মার্চ, ২০১৩ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আত্মহত্যা

আত্মহত্যা করা ছাড়া কোন উপায় ছিল না তার। নেহাতই মৃত্যুর কাছে বশ্যতা স্বীকার করা। যখন আকাশে জর হয়েছিল রাতের তারারা, কেউ ছুঁয়ে দেখেনি তার গায়ের উষ্ণতা, মাথার কাছে কেউ গায় নি ঘুমপাড়ানি গান। তাই ঘুমের ঘোরে মৃত্যু উপত্যকার গভীর স্রোত তাকে ডেকে নিয়েছিল চোরাবালির কোঠরে, অগত্যা আত্মহত্যাই ছিল শেষ পথ। যার হাটার রাস্তাটা অন্য ছিল, পাথুরে ছিল, কেউ কোনদিনও দেখেনি পায়ের তলার দগদগে ঘা, ধামাচাপা পড়ে গিয়েছিল তা সস্তার জুতোর বহরে। লাল রঙের কোন জুতো ছিল না বলে, রক্তের দাগ মিলিয়ে যায় নি, ছোপছোপ লেগে আছে আজও শহরের প্রতিটি রাস্তায়, আর মিশে আছে কিছু খিদে জড়ানো ঘাম, তাই মুক্তির দরকার ছিল- প্রতিটি শিরার, প্রতিটি ধমনীর সর্বপরি শরীরের, অগত্যা আত্মহত্যাই ছিল শেষ পথ। যার কোন কবিতাই ছাপা হল না পদ্যের আকারে, বিপ্লবের অশ্রুপাত ঝড়লো শুধু কলমের গোড়ায়, মানুষের মুখ পিছলে বেরলো না একটাও শব্দ। যুদ্ধ বিরতির শেষ পর্যায়ে তাই মৃত্যুই ছিল একান্ত কাম্য, শহীদের খেতাব তার আর জুটলো না। অগত্যা আত্মহত্যাই ছিল শেষ পথ, তাই তার আত্মহত্যাই করা ছাড়া, আর কোন উপায় ছিল না।।

চিন্তায় ভাবনায় সবসময় শুধু তুমি।

কি মনে হয়েছিল সেদিন আমাদের যেদিন আমরা আমাদের মায়ের মৃতদেহের পাশে দাড়িয়ে ছিলাম। ঠিক ভাবতে পারেন? এক চরম হতাশা হয়ত আপনাকে গ্রাস করেছিল। আমি জানি না, আমায় এখনও সেই অবস্থার সম্মুখীন হতে হয় নি। কিন্তু বুঝেছি কবি রণজিৎ দাসের কবিতার পঙক্তিতে -“মায়ের মুখাগ্নি করে ছেলের অকৃতজ্ঞ হাত”। কেন এসব কথা আজ বলছি, কেন হঠাৎ মায়ের প্রতি আমার এত স্নেহ উথলে উঠল। না এটা স্নেহের প্রশ্ন নয়। ভালবাসারও নয়। সব সন্তানই তার মায়ের প্রতি দায়িত্বশীল। এটাই জীবনের নীতি। যদিও এই নীতি বহুদিন আগেই ভেঙে গেছে, ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলাবাহুল্য। সামাজিক চাপে বারবার দিশেহারা হয়ে উঠেছিল শুকনো মুখগুলো, বারবার নুইয়ে দেওয়া হচ্ছিল তাদের। তাই হঠাৎ আজ আবেগঘন হয়ে পড়লাম। মায়ের মুখ দিয়ে শুরু করলাম তাই। একবারও কি মায়ের মুখে অগ্নি সংযোগ করতে আমাদের কারোর হাত কাঁপে? সেই, যে ছেলেটা বিয়ের পর বিধবা মাকে একা ফেলে চলে গেল, আর মায়ের মৃত্যুতে পড়শি বয়স্ক জ্যেঠুর ডাকে আবার ফিরে এসে শ্রার্দ্ধ কাজ সম্পন্ন করে আবার ফিরে গেল ২০০০ স্কোয়ার ফিটের ঝাঁ চকচকে ফ্ল্যাটে, সে কি একবারও জানতে চেয়েছিল কিভাবে তার মা বাকিদিন গুলো কাটিয়েছিল? না মনে হয়, যদি জানতে চাইত তা...