আত্মহত্যা করা ছাড়া কোন উপায় ছিল না তার। নেহাতই মৃত্যুর কাছে বশ্যতা স্বীকার করা। যখন আকাশে জর হয়েছিল রাতের তারারা, কেউ ছুঁয়ে দেখেনি তার গায়ের উষ্ণতা, মাথার কাছে কেউ গায় নি ঘুমপাড়ানি গান। তাই ঘুমের ঘোরে মৃত্যু উপত্যকার গভীর স্রোত তাকে ডেকে নিয়েছিল চোরাবালির কোঠরে, অগত্যা আত্মহত্যাই ছিল শেষ পথ। যার হাটার রাস্তাটা অন্য ছিল, পাথুরে ছিল, কেউ কোনদিনও দেখেনি পায়ের তলার দগদগে ঘা, ধামাচাপা পড়ে গিয়েছিল তা সস্তার জুতোর বহরে। লাল রঙের কোন জুতো ছিল না বলে, রক্তের দাগ মিলিয়ে যায় নি, ছোপছোপ লেগে আছে আজও শহরের প্রতিটি রাস্তায়, আর মিশে আছে কিছু খিদে জড়ানো ঘাম, তাই মুক্তির দরকার ছিল- প্রতিটি শিরার, প্রতিটি ধমনীর সর্বপরি শরীরের, অগত্যা আত্মহত্যাই ছিল শেষ পথ। যার কোন কবিতাই ছাপা হল না পদ্যের আকারে, বিপ্লবের অশ্রুপাত ঝড়লো শুধু কলমের গোড়ায়, মানুষের মুখ পিছলে বেরলো না একটাও শব্দ। যুদ্ধ বিরতির শেষ পর্যায়ে তাই মৃত্যুই ছিল একান্ত কাম্য, শহীদের খেতাব তার আর জুটলো না। অগত্যা আত্মহত্যাই ছিল শেষ পথ, তাই তার আত্মহত্যাই করা ছাড়া, আর কোন উপায় ছিল না।।