সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

চিন্তায় ভাবনায় সবসময় শুধু তুমি।

কি মনে হয়েছিল সেদিন আমাদের যেদিন আমরা আমাদের মায়ের মৃতদেহের পাশে দাড়িয়ে ছিলাম। ঠিক ভাবতে পারেন? এক চরম হতাশা হয়ত আপনাকে গ্রাস করেছিল। আমি জানি না, আমায় এখনও সেই অবস্থার সম্মুখীন হতে হয় নি। কিন্তু বুঝেছি কবি রণজিৎ দাসের কবিতার পঙক্তিতে -“মায়ের মুখাগ্নি করে ছেলের অকৃতজ্ঞ হাত”। কেন এসব কথা আজ বলছি, কেন হঠাৎ মায়ের প্রতি আমার এত স্নেহ উথলে উঠল। না এটা স্নেহের প্রশ্ন নয়। ভালবাসারও নয়। সব সন্তানই তার মায়ের প্রতি দায়িত্বশীল। এটাই জীবনের নীতি। যদিও এই নীতি বহুদিন আগেই ভেঙে গেছে, ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলাবাহুল্য। সামাজিক চাপে বারবার দিশেহারা হয়ে উঠেছিল শুকনো মুখগুলো, বারবার নুইয়ে দেওয়া হচ্ছিল তাদের। তাই হঠাৎ আজ আবেগঘন হয়ে পড়লাম। মায়ের মুখ দিয়ে শুরু করলাম তাই। একবারও কি মায়ের মুখে অগ্নি সংযোগ করতে আমাদের কারোর হাত কাঁপে? সেই, যে ছেলেটা বিয়ের পর বিধবা মাকে একা ফেলে চলে গেল, আর মায়ের মৃত্যুতে পড়শি বয়স্ক জ্যেঠুর ডাকে আবার ফিরে এসে শ্রার্দ্ধ কাজ সম্পন্ন করে আবার ফিরে গেল ২০০০ স্কোয়ার ফিটের ঝাঁ চকচকে ফ্ল্যাটে, সে কি একবারও জানতে চেয়েছিল কিভাবে তার মা বাকিদিন গুলো কাটিয়েছিল? না মনে হয়, যদি জানতে চাইত তাহলে আজ স্ত্রীর বেসরকারি সংস্থায় নারী দিবস উপলক্ষ্যে সস্তার ভাষণ দিতে আসতো না, আর নিজের ব্ল্যাক মানি গুলোকে টেবিলের তলা দিয়ে চালান করত না সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্টের হাতে।
বড় কড়া জিনিস লিখে ফেললাম হয়ত, আজ বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষ্যে কোথায় নারীদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করব, আর তা না করে একাকি মায়ের গল্প লিখতে বসলাম। ফিরে আসি আবার মূল লেখায়, ফিরে দেখি আবার আমার চারিপাশের সেই নারীদের যারা মহীয়সী নন, যারা এভারেস্ট জয়লাভ করেন নি, যারা কেউ কোন বিষয়ে কৃতিত্ব অর্জন করেন নি। তবুও তাদের কথা লিখব। সরকারি পরোয়ানা মেনে, শাসক গোষ্ঠীর ভ্রু কুচাকানো কে এড়িয়ে, এই একদিন, যে একদিনে খবরের কাগজের চারটে পাতা পড়ে, মোবাইল কোম্পানির মেসেজের জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে, প্রিয় স্যারের কথা মেনে যে লিখতে বসে গেলাম তা নয়। হয়ত এটা উপলক্ষ্য। আবেগের অশ্রু অনেকদিন আগেই পড়েছিল।
ছোটবেলায় যখন ১০ বাই ১২ ঘরের খাটের ওপরই রাতের খাবার খেতে হত, নিচে বসে খাওয়ার উপায় ছিল না, তখনই দেখতাম কিন্তু বুঝতাম না, মা কেন সবার পরে খায়। কেন মায়ের খাবার থালাটা সবার থেকে ছোট। কেন মা খুব ভোরে সকলের আগে ওঠে আর রাতে সকলের পরে ঘুমাতে যায়। আজ বড় হয়ে বুঝছি, আজ যখন মায়ের খাবার থালা আমাদের সকলের থালার সমান, আজ যখন দেখি মা আর অত ভোরে ওঠে না, রাতেও আমার আগে ঘুমিয়ে পড়ে, তখন বুঝি নিজেকে নিংড়ে শেষ করার কোন উপলক্ষ্য ছিল না, ছিল শুধু সংসার ধর্মের প্রতি একরাশ দায়িত্ব। যে দায়িত্ব থেকে কোনদিনও মুক্তির উপায়ের কথা ভাবে নি। ভাবেনি সর্বদা হাসি মুখ রেখে ক্ষিদে চেপে রাখার কষ্টের কথা।
আজ যখন দেখি আরেক মা তার বহুবছর পর হওয়া নতুন কাপড়ে মুখ লুকিয়ে মেয়ের মৃত্যু কান্নায় ভেঙে পড়ে, যখন দেখি কিছুক্ষণ আগে ছেলেকে পরম স্নেহে লালন করার ভঙ্গিমা, নিজেকে অভুক্ত রেখেও স্বামীকে পেট পুরে খাওয়ানোর ইচ্ছে, তখন মনে পরে সর্বজায়ার সাথে আমার মায়ের মুখের কথাও, মা কেমন ছোটবেলায় আমায় সুর করে অন্নদামঙ্গল পড়াতেন, কেমন করে হঠাৎ হয়ত একটু জোর গলায়ই বলে উঠত “আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে”। এই কথাগুলো আমায় পড়ানোর সাথে সাথে পরম বিশ্বাসে কাউকে যেন লক্ষ্য করে বলাও হত। অপুর চুল আঁচড়ানোর দৃশ্য দেখলে আমারও নিজের কথা মনে পরে কেমন ঝাপসা আয়নাটার সামনে দাড়িয়ে স্নান থেকে ফিরে এসে ভেজা চুল আঁচড়াতাম আর মা ধমকের সুরে বেড়ার রান্নাঘর থেকে চেল্লিয়ে বলত “আয়না থেকে দূরে দাড়িয়ে মাথা আঁচরা, জলের ছিটে যেন আয়নায় না লাগে”। সামাজিক, অর্থনৈতিক সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে দূরে সরিয়ে রেখে নিজেকে সর্বশ্রান্ত করে সংসারের লালনপালনই যেন তার মুখ্য লক্ষ্য। আর মাঝে মাঝেই আমায় বলে ওঠে এখন “এমন কিছু করিস না যাতে কেউ কোনদিন কষ্ট পায়, আর নিজেও পাস না”।
এবারে আর একজনের কথায় আসি। রু দি। খুব বেশিদিনের পরিচয় নয়, কিন্তু তা সত্ত্বেও মনে হয় এক সুদীর্ঘকালের স্নেহের বন্ধনে আবদ্ধ। আমায় নিজের বাড়ি গেলে নিজের বন্ধুদের সাথে আলাপ করিয়ে দেয় পরম আনন্দে। বন্ধুরাও ভারি অদ্ভুত, কেউ স্ট্যাম্প বিক্রেতা তো কেউ পাড়ার ছোট কারিগর। রু দিকে দেখার সাথে সাথে আমার মনে পড়ে যায় পুরানো পাড়ার কবিতাদির কথা।
কবিতাদি একটা ছোট বিউটি পার্লারে কাজ করত আর ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের পড়াত। আর মাঝে মাঝেই কবিতাদির সেইসমস্ত ছোট ছোট বন্ধুদের সাথে আমায় আলাপ করিয়ে দিত। ভারি অদ্ভুত লাগত কবিতাদির সাথে এই ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের বন্ধুত্ব। বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা, জুটমিলে কাজ করত, একটা হাত কাটা গেছে তারপর থেকে আর চাকরি নেই, ছোট ভাই ঠিকঠাক পড়াশুনা করে না, মাধ্যমিকে দুবার ফেল করেছে, কিন্তু তাও মা চায় ছেলে পড়াশুনা করুক, কবিতাদি কলেজ শেষ করতে পারেনি, কিন্তু ভাইয়ের পড়ার জন্য প্রতি মাসে টিউসুনির টাকা দিয়ে যায়। বয়স প্রায় ৩০ বছরের কাছে। বিয়ে হয় নি। প্রেম করে কিনা তাও জানি না। অনেক আগে দেখতাম বটগাছটার অন্ধকারে  মাঝে মাঝেই পড়ানো থেকে ফেরার পথে একটা M80 নিয়ে দাঁড়ানো লোকের সাথে কথা বলত। অনেকদিন হয়ে গেছে আর দেখিনা। লোকটাকে দেখি এখন নতুন বাইক কিনেছে। কবিতাদিকে বিয়ে করবে কিনা জিজ্ঞেস করাতে বলে তুই যদি আজ আমার ঘরের ভাইটি হতিস তাহলে নিঃসন্দেহে এখন বলে দিতাম খুব তাড়াতাড়ি বিয়ে করব। আর কি জানিস তো আমি তো বিয়ে করে সংসার ধর্ম করতেই চাই কিন্তু সে কি আমায় বিয়ে করতে চায় বল। মুখে আলতো হাসি লেগে থাকে কিন্তু চোখের কোনাটা যে চকচক করতে থাকে সেটাও আমার চোখকে এরিয়ে যায় না। হাসতে হাসতে আমায় বলে কোনদিন কাউকে কষ্ট দিস না আর নিজেও থাকিস না রে। কথা গুলোর সাথে সাথে মুখের মলিন হাসিটাও মিলিয়ে গেল আর আমি অদৃশ্য নয়নে যেন দেখতে পেলাম কবিতাদির গাল বেয়ে দু ফোঁটা জল যেন ঝরে পড়ল। আজ এক অদ্ভুত মিল পেলাম যখন রু দি সস্নেহে আমায় আবৃত করে আমার কবিতা শুনে বলল “লোরকাও কবিতা লিখত, কষ্টের কথা কেন লিখবি আনন্দের কথা লেখ, কষ্টে থাকতে নেই রে”
খুব মনে পড়েছিল কবিতাদির কথা যেদিন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ তলার অন্ধকার ঘরটাতে বসেপ্রথমবার দেখেছিলাম কিভাবে একজন মানুষ আমার দেখা আমার পাশে থাকা মানুষগুলোর কথা বলছেন, সেই প্রথম চেনা মানুষটাকে, আজ মনে চিন্তনে মাঝে মাঝেই তার উপস্থিতি  বুঝতে          
পারি, ভাবনায় তাকে মাঝে মাঝে জড়িয়ে ফেলি। আজ যারা নারীকে পন্য হিসাবে বেচছে, ভদ্রলোক আগেই নারী সত্ত্বাকে দেবী রূপে পুনঃ প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছিলেন। তাই আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে তাকে স্মরণ করা ছাড়া উপায় নেই। যে নীতাকে তিনি পর্দায় তুলে ধরেছিলেন, সেই নীতারা বহু আগেই শহরের এঁদো গলি দিয়ে হেঁটে এসে ভিড় বাসে উঠত।  
শেষ করি অন্য একজনের কথা দিয়ে, যার সান্নিধ্য আমায় দায়িত্ববান হতে শিখিয়েছে। শিখিয়েছে কিভাবে নিজের সমস্ত ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে সকলকে আপন করে নিতে হয়। সামাজিক চাপ আমায় এই পরিসরে তার নাম বলতে আটকে দিয়েছে।  পূর্নতা পাওয়ায় আজ তাকে নারী বলতে দ্বিধা নেই। সেই নারী যে প্রচণ্ড রোদে আমার পাশে শুনশান ষ্টেশনে বসে থাকতে পারে, যে সমস্তরকম প্রতিবন্ধকতাকে দূরে সরিয়ে রেখে আমায় আপন করে নিতে পারে, এই নিঃস্ব হাতে মুঠো ভরা স্বপ্ন উপহার দিতে পারে। ঘন্টার পর ঘন্টা আমায় পাশে বিনা বাক্যব্যয়ে বসে থাকতে পারে, নীল আকাশের মত সীমাহীন হৃদয়ে ভাবের ধারায় পরিপুর্ন করতে পারে। বলতে দ্বিধা নেই সমস্ত রকম সামাজিক পারিবারিক সমস্যাকে দূরে সরিয়ে রেখে সে নারী আমায় ভালোবাসতে পারে। ভালোবেসে আমায় বলতে পারে “তুমি যদি কোনদিনও আমায় কষ্ট দেও না, আমার খারাপ লাগবে না, কারন আমি জানি তুমি কাউকে কষ্ট দিতেই পারো না। আর নিজেও কখনও কষ্টে থেকো না”।
আমার মনে পরে সিতার কথা, যে সমস্ত কিছু ছেড়ে তার দাদাকে পর্যন্ত ছেড়ে, অভিরূপের সাথে বেরিয়ে গিয়েছেল, গরীবের সংসার ধর্ম করবে বলে, নিদারুণ পরিস্থিতিও সেদিন চূড়ান্ত ভালোবাসার কাছে হার মেনেছিল,মানে, মানবে। 
আমি এদের কাউকেই কথা দিতে পারিনা যে আমি কষ্টে থাকবো না। সারাটা দিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের পর যখন দেখি মাকে, সেই নিঃস্ব ভাড়ার হাতে আমার দিকে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে, মুখে কিছু বলতে পারছে না, কিন্তু তবুও আমি বুঝি কি বলতে চাইছে, মাসীটা কোমর ভেঙে হাসপাতালে পরে আছে, দেখার কেউ নেই, দিনের খরচ অনেক কে দেবে? আমি বলতে পারিনা মা তোমার এই কষ্টে আমি কষ্টে থাকবো না।
বহুবছর হয়ে গেছে কবিতাদির সাথে দেখা নেই, বেশ কিছুদিন আগে দেখলাম ভাইটা নেশা করে রাস্তায় পরে আছে, বাবাটা অনেকদিন আগেই মারা গিয়েছিল শুনেছিলাম, আর সেই লোকটা যে মাঝে মাঝে ঐ অন্ধকারে বটগাছটার নিচে দেখা করতে আসত, সে দেখি আমার পাড়ার সামনে নির্মীয়মাণ ফ্ল্যাট কিনতে এসেছে। কবিতাদির হয়ত আজও বিয়ে হয়নি। যদি বিয়ে হত তাহলে পরদিন ভাইটাকে ওখানে আবার দেখতে পেতাম, কিন্তু পাইনি। তাই বলতে পারি আজও বিয়ে হয় নি। কবিতাদি হয়ত আজও সেই বিউটিপার্লারে কাজ করে, আজও হয়ত ছোট ছোট বন্ধু ছাত্রছাত্রী গুলোর সাথে ঠিক আগের মতই হেসে হেসে কথা বলে। কিন্তু তবুও আমি কি করে বলি তোমায় কবিতাদি আজ তোমার এই হেসে থাকার মধ্যে আমি তোমার কষ্টটাকে ভুলে যাব, কি করে বলি যে তোমার কষ্টে আমি কষ্টে থাকবো না।
নিজের সামনে পরীক্ষা তবুও আমায় অনবরত বলে চলে ভাল করে পরীক্ষা দিও, খুব ভাল রেজাল্ট কোরো। আমি বলতে পারি না তুমিও ভালো করে পড়াশুনা কোরো, কি করে বলব, যে নিজের সমস্ত আশা, ইচ্ছাকে বিসর্জন দিতে পারে শুধু মাত্র আমার ভালোর জন্য, নিজের কথা যে বিন্দুমাত্র চিন্তা না করে বলে দিতে পারে, সবাই যাতে ভাল থাকে সেটাই করব। তাকে আমি কি করে বলব এসব, এসবের জন্য তো আমিই দায়ি। যখন সবাই মুখ ফিরিয়ে নেয়, কথাটাও কেউ কেউ বলতে চায় না, যখন রাতের বিছানা প্রতিদিন অপেক্ষা করে কখন শীতল জলের স্পর্শ পাবে, হাত ধরে যখন কেউ তাকে বলে না তুমি এগিয়ে চল, আমি অন্তত তোমার পাশে আছি, সেই সময় আমি কি করে তোমায় বলব বল তোমার এই কষ্টে আমি কষ্টে থাকবো না।
প্রতিকটা মানুষই এক, সবাই এরা নিজের কষ্টকে আড়াল করে আমায়, আমাদের, ভালো থাকার পরামর্শ দেয়। কোন কোন সময় আমরা বিন্দুমাত্র চিন্তা ভাবনা না করে এদের কষ্টকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। মাঝে মাঝে আমিও এদের দলে নাম লেখাই। আমিও বোকার মতন বলে ফেলি, কিসের কষ্ট এতে, এমন তো হয়েই থাকে। আমি কোনদিন শীতলতার স্পর্শ পাই নি, তবুও বলতে পারি এদের সান্নিধ্য আমায় প্রচণ্ড তাপে একমুঠো শীতল বাতাস এনে মুখে ঝাপটা মারে, আমি শিহরিত হই। ছাতার তলা থেকে বেরিয়ে এসে এদের পাশে এসে দারাই, কখন অদৃশ্য আলোয় এরা আমার পাশে থাকেন, কখনও বা নয়। কিন্তু তবুও আমি এদের স্পর্শ অনুভব করি। করব।।  
    

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ধন্যবাদ অসংখ্য।

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যেদিন বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম

                        ওপারেতে বৃষ্টি এল ঝাপসা গাছাপালা,                    এপারেতে মেঘের মাথায় একশো মানিকজ্বালা।                     বাদলা হাওয়া মনে পরে ছেলেবেলার গান,                        বৃষ্টি পরে টাপুর-টুপুর নদে এল বান।                        বৃষ্টির কিছু নিয়ম আছে, সে যখন তখন ঝড়ে পড়ে না। ইচ্ছে হলেও না। অনেকটা ঠিক আমাদের মতন, আমরা যেমন চাইলেও কাঁদতে পারি না সবসময়। কান্নার কথা লিখতে গিয়ে মনে পড়ল ক্লাস এইটে এই বৃষ্টির দিনেই একদিন খুব কেঁদেছিলাম। বিকেলে ...

মণিপুর জ্বলছে! কিন্তু কেন? অন্তিম পর্ব।

  সূচনা। বর্তমান দাঙ্গার সূত্রপাতের কারন হিসেবে যদি কিছু পয়েন্টকে লিস্ট করা যায় তাহলে দাঁড়ায়- বীরেন সিংয়ের রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদ, পোস্ত চাষের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান, অনিবন্ধিত অভিবাসন, কুকিল্যান্ডের দাবি এবং মেইতেই পুনর্জাগরণবাদ।  গত বছরের এপ্রিলে বহুদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভের স্ফুলিঙ্গ  জ্বলন্ত উত্তেজনাকে প্রজ্বলিত করে। অসম রাইফেলসের উপস্থাপনায় এই সময়কালকে "সূচনা" হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই মাসে, মণিপুর হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে মেইতেই সম্প্রদায়কে তফসিলি উপজাতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদনগুলি বিবেচনা করতে বলেছিল-সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী মণিপুরের পাহাড়ি অঞ্চলগুলিতে কুকিদের দ্বারাই বেশিরভাগ সম্পত্তির মালিকানা আছে। 1960 সালের মণিপুর ভূমি রাজস্ব ও ভূমি সংস্কার আইন শুধুমাত্র তফসিলি উপজাতিদের পার্বত্য অঞ্চলে জমি কেনার অনুমতি দেয়। মণিপুরের শীর্ষস্থানীয় উপজাতি নাগরিক সমাজের সংগঠন অল ট্রাইবাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন মণিপুরের পাহাড়ি জেলাগুলিতে যেখানে উপজাতি সম্প্রদায়ের আধিপত্য রয়েছে সেখানে "সংহতি মিছিল" করার আহ্বানের দেয়।  ৩রা মে সেনাপতি, উখরুল, কাংপোকপি, ত...

নিয়তির কাছে যা যা বলার ছিল

নবারুণ সেই কবেই বলেছিলেন- “গাঁড় মারি তোর মোটরগাড়ির, গাঁড় মারি তোর শপিং মলের। বুঝবি যখন আসবে তেড়ে, ন্যাংটো মজুর সাবান কলের। পেটমোটাদের ফাটবে খুলি, ফাটবে মাইন চতুর্দিকে। গলায় ফিতে নেংটি বেড়াল, তার বরাতেই ছিঁড়বে শিকে”। আজ একুশ দিন শেষ হবার ছিল। শেষ হবার আগেই আরও উনিশ দিনের জন্য লকডাউন কার্যকর হয়ে গেল। প্রধানমন্ত্রী এসে বলেছেন সরকার বহু আগে থেকেই এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত ছিল। হয়ত ছিল কিন্তু কীভাবে ছিল সেই প্রশ্ন কি কেউ করেছে? তিনঘণ্টার নোটিশে দেশে জুড়ে সমস্ত রকমের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেল। আমরা আনন্দ পেলাম। এবারে দীর্ঘ ছুটি। ওয়ার্ক ফ্রম হোম। কিন্তু একবারও ভাবলাম না হোমলেস পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা। যাদের জন্য আমাদের ঝাঁ চকচকে সুন্দর শহরে এখনও বসন্ত এলে আমরা প্রেমে পড়ি। যত ছ্যাঁচড়া কাজের জন্য হাড়হাভাতে মানুষগুলো গ্রাম ছেড়ে শহরের কোণায় কোণায় আস্তাকুঁড়ে আস্তানা গারতে শুরু করে সেই চল্লিশ দশকের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময় থেকে। সত্যজিতের ‘পথের পাঁচালি’র কাশবনের মধ্যে দিয়ে রেলগাড়ি দেখে আমরা দৃশ্য ভাবনার তারিফ করি। কিন্তু রেলগাড়ি ব্যবহারের ইঙ্গিত বুঝতে ব্যর্থ হই। রেলগাড়ি শুধু কাশবনের মধ্য...