সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সেই ছেলেটা........সেই মেয়েটা

নিচের কবিতাটি নিছক কোনো কবিতা নয়, সংবাদপত্র 'এইসময়'  তে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন (http://www.epaper.eisamay.com/Details.aspx?id=8165&boxid=144328781 ) পড়ার পর এ আমার একান্ত আত্মব্যক্তি, সমবেদনা ও অনুরোধ সকলকে একবার, মাত্র একটিবার ভেবে  দেখার যে সত্যিই কি আমরা পারিনা শাসন মুক্ত শোষণ মুক্ত ভালোবাসার জন্য একটা  রঙিন পৃথিবী উপহার দিতে?আবেদন রইল সকলের কাছে




  • ওই যে ওই ছেলেটি শুয়ে আছে রেললাইনের ধারে। কিছুক্ষন আগেই যার সারা দেহ লোকাল ট্রেনটি মারিয়ে গেছে । যার কাটা হাত পা আরও কত কিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে আশেপাশে...। চাপচাপ রক্ত লেগেছে পাথরগুলিতে আমি তো ওর কথাই বলছি। আমি ওর কথাই বলবার চেষ্টা করছি...

    বছর কুড়ির ছেলেটি আজ অপঘাতে মৃত বাড়ির সকলে মূর্ছা যাচ্ছে অনবরত। তারই কিছুদুরে যেখানে আনন্দে খই ফুটছে বিষ দাঁত তুলে সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস নিচছে। সেখানেই কেউ অনবরত কাঁদছে সংসার গড়ার স্বপ্নে নিজের শাঁখা ভাঙছে। সুখ সারির ছবি সে এঁকেছিল খাতায় তাদের কথাই লিখছি আমি আমার ব্লগের পাতায়।

    ওরা একে অপরের সান্নিধ্যে এসেছিল। ওরা একে অপরকে ভালবেসেছিল। ভালোবেসে হয়ত বলেছিল- “তবে একটা গান শুনিও তুমি” আর কিই বা চেয়েছিল ওরা? তবে কি সত্যিই ওরা ভুল করেছিল? কে দেবে এই উত্তর আজ? সবাই যে যার মতন সাজিয়ে গুজিয়ে জবাব... রেখেছিল উপহারের মত করে। আর যারা পাশে দাঁড়িয়েছিল নিবিড় বন্ধনে দুজনকে বেধেঁছিল। তারা বাকশক্তি হারিয়ে স্বজনহারা শোকে বারবার মূর্ছায় কাতরান।

    সবাই যে যার মতন খবর পড়ে খবর দেখে। আহারে বলে পাশ কাটিয়ে চলে যায়। শুধু ওদেরই মতন আর এক অসহায় মানুষ উত্তর না মেলায় সারা শহর চষে এসে বারবার চিৎকার করে জিজ্ঞেস করে নিজেকে... ঈশ্বরকে.. এভাবেও কবিতার শেষ হয়?




মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যেদিন বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম

                        ওপারেতে বৃষ্টি এল ঝাপসা গাছাপালা,                    এপারেতে মেঘের মাথায় একশো মানিকজ্বালা।                     বাদলা হাওয়া মনে পরে ছেলেবেলার গান,                        বৃষ্টি পরে টাপুর-টুপুর নদে এল বান।                        বৃষ্টির কিছু নিয়ম আছে, সে যখন তখন ঝড়ে পড়ে না। ইচ্ছে হলেও না। অনেকটা ঠিক আমাদের মতন, আমরা যেমন চাইলেও কাঁদতে পারি না সবসময়। কান্নার কথা লিখতে গিয়ে মনে পড়ল ক্লাস এইটে এই বৃষ্টির দিনেই একদিন খুব কেঁদেছিলাম। বিকেলে ...

মণিপুর জ্বলছে! কিন্তু কেন? অন্তিম পর্ব।

  সূচনা। বর্তমান দাঙ্গার সূত্রপাতের কারন হিসেবে যদি কিছু পয়েন্টকে লিস্ট করা যায় তাহলে দাঁড়ায়- বীরেন সিংয়ের রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদ, পোস্ত চাষের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান, অনিবন্ধিত অভিবাসন, কুকিল্যান্ডের দাবি এবং মেইতেই পুনর্জাগরণবাদ।  গত বছরের এপ্রিলে বহুদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভের স্ফুলিঙ্গ  জ্বলন্ত উত্তেজনাকে প্রজ্বলিত করে। অসম রাইফেলসের উপস্থাপনায় এই সময়কালকে "সূচনা" হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই মাসে, মণিপুর হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে মেইতেই সম্প্রদায়কে তফসিলি উপজাতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদনগুলি বিবেচনা করতে বলেছিল-সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী মণিপুরের পাহাড়ি অঞ্চলগুলিতে কুকিদের দ্বারাই বেশিরভাগ সম্পত্তির মালিকানা আছে। 1960 সালের মণিপুর ভূমি রাজস্ব ও ভূমি সংস্কার আইন শুধুমাত্র তফসিলি উপজাতিদের পার্বত্য অঞ্চলে জমি কেনার অনুমতি দেয়। মণিপুরের শীর্ষস্থানীয় উপজাতি নাগরিক সমাজের সংগঠন অল ট্রাইবাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন মণিপুরের পাহাড়ি জেলাগুলিতে যেখানে উপজাতি সম্প্রদায়ের আধিপত্য রয়েছে সেখানে "সংহতি মিছিল" করার আহ্বানের দেয়।  ৩রা মে সেনাপতি, উখরুল, কাংপোকপি, ত...

নিয়তির কাছে যা যা বলার ছিল

নবারুণ সেই কবেই বলেছিলেন- “গাঁড় মারি তোর মোটরগাড়ির, গাঁড় মারি তোর শপিং মলের। বুঝবি যখন আসবে তেড়ে, ন্যাংটো মজুর সাবান কলের। পেটমোটাদের ফাটবে খুলি, ফাটবে মাইন চতুর্দিকে। গলায় ফিতে নেংটি বেড়াল, তার বরাতেই ছিঁড়বে শিকে”। আজ একুশ দিন শেষ হবার ছিল। শেষ হবার আগেই আরও উনিশ দিনের জন্য লকডাউন কার্যকর হয়ে গেল। প্রধানমন্ত্রী এসে বলেছেন সরকার বহু আগে থেকেই এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত ছিল। হয়ত ছিল কিন্তু কীভাবে ছিল সেই প্রশ্ন কি কেউ করেছে? তিনঘণ্টার নোটিশে দেশে জুড়ে সমস্ত রকমের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেল। আমরা আনন্দ পেলাম। এবারে দীর্ঘ ছুটি। ওয়ার্ক ফ্রম হোম। কিন্তু একবারও ভাবলাম না হোমলেস পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা। যাদের জন্য আমাদের ঝাঁ চকচকে সুন্দর শহরে এখনও বসন্ত এলে আমরা প্রেমে পড়ি। যত ছ্যাঁচড়া কাজের জন্য হাড়হাভাতে মানুষগুলো গ্রাম ছেড়ে শহরের কোণায় কোণায় আস্তাকুঁড়ে আস্তানা গারতে শুরু করে সেই চল্লিশ দশকের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময় থেকে। সত্যজিতের ‘পথের পাঁচালি’র কাশবনের মধ্যে দিয়ে রেলগাড়ি দেখে আমরা দৃশ্য ভাবনার তারিফ করি। কিন্তু রেলগাড়ি ব্যবহারের ইঙ্গিত বুঝতে ব্যর্থ হই। রেলগাড়ি শুধু কাশবনের মধ্য...