সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

জন্মদিনের (ভালোবাসার) উপহার

এখন কটা বাজে জানা নেই।
হয়ত খুব বেশী রাত নয়,
অনেক লোক তো এখনও দেখি রাস্তায়।
শুধু আমি নেই, না আমি নেই,
কোথাও নেই।
ঘরে নেই, বাইরে নেই, কোথাও নেই।
জানি তুমি আছ, ঘরে।
হ্যাঁ ঘরেই আছ। আজ কোথাও জাওনি জানি।

তোমায় ঘিরে এখন অনেক লোক,
রঙিন আলো, হয়ত সাথে বেলুনও।
একটা ২১ লেখা মোমবাতি,
আর বড় একটা কেক।
নাহ ক্যাটবেরী ফ্লেভার না,
তুমি তো বলতে ওটা ভালো লাগে না।
যেটা ভালো লাগে, ব্ল্যাকফরেস্ট-
সেটা কেউ আনবে না জানি।
তুমি হয়ত বলবেও না।

এতক্ষনে সবাই হাততালি দিয়ে ফেলেছে।
আনন্দে তোমায় জড়িয়ে ধরেছে,
শুভেচ্ছা জানাছে, উপহার দিচ্ছে,
আরও কত কি।
তোমার মা হয়ত বলছে-
“রাতের খাবার কিন্তু রেডি,
তোরা তাড়াতাড়ি খেয়ে গল্প করিস”।

তোমাদের ডিভিডি তে গান বাজছে হয়ত,
তালে তাল মেলাচ্ছ বোধহয়।
ছোট খোকা কেক মাখামাখি করে ফেলেছে।
তোমার কোন বন্ধু হয়ত, সামনের বারান্দায় এসে
তার প্রেমিক কে মেসেজ করছে-
“সাবধানে এসো, আমি এখান থেকে বেরিয়ে জানিয়ে দেবো”।
তুমি হয়ত সবার জন্য এবারে,
আরও এক গ্লাস কোল্ডড্রিঙ্কস আনতে গেলে।
মা এসে জিজ্ঞেস করল-
“আর কেউ আসবে নাতো”?

নাহ আর কেউ আসবে না।
অনেক রাত হয়েছে, এবারে খেয়ে নাও।
তুমিও কিন্তু খেও, দেরি কোরোনা।
আর আমি, আমি এখন অনেক দূরে,
খোঁড়া বাপটাকে ডাক্তার দেখিয়ে বাড়ি ফিরছি।
অটো নেই, তাই বাসেই আছি।
মা ফোন দিয়েছিল আমাকে,
ঘটিগরম খাবে বলেছে।
অথচ আজ দেখো একটাও ঘটিগরমওয়ালাকে দেখছি না।
এদিক ওদিক তাকাচ্ছি তায় পাচ্ছিনা।

তোমায় কাল রাতে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলাম,
তুমি বললে আর কিছু যেন না বলি।
না বলব না, ভেবো না।
মনে মনে প্রার্থনা করব শুধু।
কালঅসুজ তো, তাই এবারে
মন্দিরে যেতে পারলাম না।
পরেরবার হয়ত যাব।
হ্যাঁ যাব, নিশ্চয়ই যাব।
কেন যাব যেন?
নিজের জন্য যাব। হ্যাঁ নিজের জন্য।
এই যে আজ ২০শে ডিসেম্বর,
নতুন জন্ম হল, তার শুভ কামনার জন্য যাব।

আজ তোমার জন্মদিন,
আমারও বলতে পারো।
আসলে সেই যে কবে একজন বলে গেছে-
“সত্যিকারের প্রেম দুটি আত্মাকে এক করে”।
হাসি পেল তো? আচ্ছা হেসে নাও।
আর শোনো, তোমার জন্য একটা উপহার কিনেছি।
জানি না পছন্দ হবে কিনা,
তবুও এই বেরসিক প্রেমিকের ছোট্ট উপহার
এই কবিতার সাথে পাঠালাম,
দেখে নিও, ‘ভালোবাসার উপহার’।।   

                                                          ২০/১২/২০১৩
                                                            রাত্রি ৯:০৩ 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যেদিন বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম

                        ওপারেতে বৃষ্টি এল ঝাপসা গাছাপালা,                    এপারেতে মেঘের মাথায় একশো মানিকজ্বালা।                     বাদলা হাওয়া মনে পরে ছেলেবেলার গান,                        বৃষ্টি পরে টাপুর-টুপুর নদে এল বান।                        বৃষ্টির কিছু নিয়ম আছে, সে যখন তখন ঝড়ে পড়ে না। ইচ্ছে হলেও না। অনেকটা ঠিক আমাদের মতন, আমরা যেমন চাইলেও কাঁদতে পারি না সবসময়। কান্নার কথা লিখতে গিয়ে মনে পড়ল ক্লাস এইটে এই বৃষ্টির দিনেই একদিন খুব কেঁদেছিলাম। বিকেলে ...

মণিপুর জ্বলছে! কিন্তু কেন? অন্তিম পর্ব।

  সূচনা। বর্তমান দাঙ্গার সূত্রপাতের কারন হিসেবে যদি কিছু পয়েন্টকে লিস্ট করা যায় তাহলে দাঁড়ায়- বীরেন সিংয়ের রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদ, পোস্ত চাষের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান, অনিবন্ধিত অভিবাসন, কুকিল্যান্ডের দাবি এবং মেইতেই পুনর্জাগরণবাদ।  গত বছরের এপ্রিলে বহুদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভের স্ফুলিঙ্গ  জ্বলন্ত উত্তেজনাকে প্রজ্বলিত করে। অসম রাইফেলসের উপস্থাপনায় এই সময়কালকে "সূচনা" হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই মাসে, মণিপুর হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে মেইতেই সম্প্রদায়কে তফসিলি উপজাতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদনগুলি বিবেচনা করতে বলেছিল-সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী মণিপুরের পাহাড়ি অঞ্চলগুলিতে কুকিদের দ্বারাই বেশিরভাগ সম্পত্তির মালিকানা আছে। 1960 সালের মণিপুর ভূমি রাজস্ব ও ভূমি সংস্কার আইন শুধুমাত্র তফসিলি উপজাতিদের পার্বত্য অঞ্চলে জমি কেনার অনুমতি দেয়। মণিপুরের শীর্ষস্থানীয় উপজাতি নাগরিক সমাজের সংগঠন অল ট্রাইবাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন মণিপুরের পাহাড়ি জেলাগুলিতে যেখানে উপজাতি সম্প্রদায়ের আধিপত্য রয়েছে সেখানে "সংহতি মিছিল" করার আহ্বানের দেয়।  ৩রা মে সেনাপতি, উখরুল, কাংপোকপি, ত...

নিয়তির কাছে যা যা বলার ছিল

নবারুণ সেই কবেই বলেছিলেন- “গাঁড় মারি তোর মোটরগাড়ির, গাঁড় মারি তোর শপিং মলের। বুঝবি যখন আসবে তেড়ে, ন্যাংটো মজুর সাবান কলের। পেটমোটাদের ফাটবে খুলি, ফাটবে মাইন চতুর্দিকে। গলায় ফিতে নেংটি বেড়াল, তার বরাতেই ছিঁড়বে শিকে”। আজ একুশ দিন শেষ হবার ছিল। শেষ হবার আগেই আরও উনিশ দিনের জন্য লকডাউন কার্যকর হয়ে গেল। প্রধানমন্ত্রী এসে বলেছেন সরকার বহু আগে থেকেই এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত ছিল। হয়ত ছিল কিন্তু কীভাবে ছিল সেই প্রশ্ন কি কেউ করেছে? তিনঘণ্টার নোটিশে দেশে জুড়ে সমস্ত রকমের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেল। আমরা আনন্দ পেলাম। এবারে দীর্ঘ ছুটি। ওয়ার্ক ফ্রম হোম। কিন্তু একবারও ভাবলাম না হোমলেস পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা। যাদের জন্য আমাদের ঝাঁ চকচকে সুন্দর শহরে এখনও বসন্ত এলে আমরা প্রেমে পড়ি। যত ছ্যাঁচড়া কাজের জন্য হাড়হাভাতে মানুষগুলো গ্রাম ছেড়ে শহরের কোণায় কোণায় আস্তাকুঁড়ে আস্তানা গারতে শুরু করে সেই চল্লিশ দশকের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময় থেকে। সত্যজিতের ‘পথের পাঁচালি’র কাশবনের মধ্যে দিয়ে রেলগাড়ি দেখে আমরা দৃশ্য ভাবনার তারিফ করি। কিন্তু রেলগাড়ি ব্যবহারের ইঙ্গিত বুঝতে ব্যর্থ হই। রেলগাড়ি শুধু কাশবনের মধ্য...