সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

গনতন্ত্র ও লাঠিচার্জের তালিকা

লকডাউন শুরুর পর দেশ জুড়ে কবে কোথায় শ্রমিকরা প্রতিবাদে শামিল হয়েছে পর্যাপ্ত খাবার, থাকার যায়গা ও বাড়ি ফেরার দাবি নিয়ে ও সেই বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পুলিশ তাদের উপর লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে তার একটা দিনপঞ্জী তৈরি করেছে সৌম্য চট্টোপাধ্যায় ও তার সহকর্মীরা। শ্রমিক অধিকার, মানবধিকার ও নাগরিক অধিকার রক্ষার জন্য যারা কাজ করছেন এই তথ্য তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিযায়ী শ্রমিকরাও যে এদেশের নাগরিক ও উৎপাদনশীল কাজ করার পর তারাও যে আমার আপনার মত সমস্ত সুবিধা ভোগ করার দাবিদার, এই কথা যেন আমরা কখনও নস্যাৎ না করি। এই তালিকা বলে কীভাবে তারা সেই নাগরিক অধিকার ও মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এমনকি জীবনের অধিকার, বাঁচার জন্য যে নুন্যতম সুরক্ষার প্রয়োজন সেইটুকুও তাদের দেওয়া হয়নি। ভিনরাজ্যে পরে থেকে তাদের অবস্থা জাঁতাকলের ইদুরের মত। না আছে থাকার কোন ব্যবস্থা, না আছে পর্যাপ্ত খাবার। প্রাপ্য মজুরিও তারা পায়নি এবং ঘরভাড়া থেকেও তাদের রেহাই দেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে সরকার থেকে তাদের বাড়ি ফিরিয়ে নেওয়ার কোন সুবন্দোবস্ত ও করা হয়নি। কী ব্যবস্থা তাদের জন্য করা হবে এবং কবে করা হবে তার কোন সদুত্তর নেই কেন্দ্র এবং রাজ্য কারোর কাছে। নেতাদের কাছে কোন প্যাকেজ নেই, কোন ঘোষনা নেই তাই বাধ্য হয়ে তারা পথে নেমে এসেছেন। হাজার হাজার মাইল হেঁটে পারি দিচ্ছেন নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে। খাবার ছাড়া, পানীয় ছাড়া। যেন এক উদ্বাস্তু চলন। নিজের দেশ থেকেই নিজের দেশে ফেরা। কিন্তু ফেরা হচ্ছে না সবার। রাজ্যের বর্ডার গুলোতে আঁটকে দেওয়া হচ্ছে তাদের। পুলিশ লাঠি মেরে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে। আর যারা ক্লান্ত হয়ে পড়ছে, ঘুমিয়ে পড়ছে, শরীরে কোন বল পাচ্ছে না তারা ধীরে ধীরে বিদায় নিচ্ছে এই পৃথিবী থেকে বা একধাক্কায় ট্রেনে কাটা পরে গেছে ১৭ জন। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫৯ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে। সেই ৫৯ জন যারা বাড়ি ফিরতে চেয়েছিল। 
আমি শুধু এই তালিকাটা ইংরাজি থেকে বাংলায় অনুবাদ করলাম। 
লাঠিচার্জের ঘটনাবলী ও প্রতিবাদসমূহের তালিকা
সৌম্য চট্টোপাধ্যায়, মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কার্স সলিডারিটি নেটওয়ার্ক

লকডাউন পর্ব ১ (২৩শে মে থেকে ১৪ই এপ্রিল)

২৩শে মার্চ- ব্যাঙ্গালুরুর মাগাডি মেইন রোডের শাহি(Shahi) ফ্যাক্টরির ইউনিট ৮ এর শ্রমিকরা কারখানার ভিতর পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মানা হচ্ছিল না বলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। ম্যানেজমেন্ট তাদের ৩১শে মার্চ অবধি সবেতন ছুটি মঞ্জুর করে, যা তারা পূর্বে দিতে অস্বীকার করছিল। 

২৯শে মার্চ- কেরলের কোট্টায়ামের পায়িপাড়ুতে শত শত পরিযায়ী শ্রমিকের দল রাস্তা দখল করে এই দাবি নিয়ে যে অবিলম্বে যেন তাদের ঘরে ফেরার ব্যবস্থা করা হয় এবং সঠিক খাবার দেওয়া হয়। পরে পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনা সামনে আসে। 

শত শত পরিযায়ী শ্রমিকরা কেরলের পালাক্কাটের পাট্টাম্বিতে ঘরে ফেরার দাবি ও সঠিক খাবার দেওয়ার দাবী নিয়ে প্রতিবাদ শুরু করে।

৩০শে মার্চ- কেরলের এর্নাকুলম জেলার পেরুম্বাভুরে ৫০০ এর বেশি শ্রমিক তাঁদেরকে বাড়িতে ফিরতে দেওয়া হোক এই দাবি নিয়ে প্রতিবাদ শুরু করে। 

১০ই এপ্রিল-  পরিযায়ী শ্রমিকের দল সুরাটের রাস্তা দখল করে নেয় স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদে। তাঁরা গাড়িতে এবং বিভিন্ন হ্যান্ডক্রাফটসে আগুনও লাগিয়ে দেয়। 

১১ই এপ্রিল- দিল্লীর কাশ্মীর গেটে শ্রমিক ও গৃহহীনদের মধ্যে খণ্ডযুদ্ধ চলাকালীন একটি শেল্টার হোমে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এরপর কোনরকম সুবিধা ছাড়াই শত শত শ্রমিকেরা যমুনা নদীর তীরে আশ্রয় নেয়। শ্রমিকদের ওপর কেস করা হয়। 

১২ই এপ্রিল- মাদুরাই এর এমজিআর স্ট্রীটে দৈনিক বেতনের মজদুররা প্রতিবাদ শুরু করে এই দাবী নিয়ে যে তাদের কাছে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার টাকা নেই। 

১৩ই এপ্রিল- সঠিক স্বাস্থ্যসম্মত বিধি মেনে স্যানিটাইজেশনের ব্যবস্থা না করেও অসুরক্ষিত পরিবেশে জোর করে কাজ করানোর বিরুদ্ধে ঝাড়খণ্ডের বোকারো জেনারেল হাসপাতালের নার্সেরা প্রতিবাদ শুরু করেন।

১৪ই এপ্রিল- শয়ে শয়ে পরিযায়ী শ্রমিকরা মহারাষ্ট্রের থানের মুম্বরার রাস্তা দখল করে। তাঁরা দাবি করে তাঁদেরকে যেন অবিলম্বে বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কারণ বাড়ির মালিকেরা তাদের কাছে ভাড়া চেয়েছে এবং যা তাঁরা এই মুহূর্তে দিতে একেবারেই সক্ষম নন।

 হাজার হাজার শ্রমিক বান্দ্রা ষ্টেশন একত্র হয় এই দাবি নিয়ে যে তাদের যেন বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করা হয়। পরে পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনা জানা যায়। 
লকডাউন পর্ব ২ (১৫ই এপ্রিল থেকে ৩রা মে)

১৫ই এপ্রিল- সুরাটের ভারাচা এলাকায় শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ করে এই দাবি নিয়ে যে তাদের যেন অবিলম্বে বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়। 

 মুম্বাইয়ের ডক্টর আর এন কুপার মিউনিসিপ্যালিটি জেনারেল হাসপাতালে একজন নার্সের উপর হামলা করা হলে, সুরক্ষা জনিত এই অব্যবস্থার বিরুদ্ধে নার্সেরা প্রতিবাদ শুরু করে ও দাবি জানায় অবিলম্বে যেন রোগীর পরিবারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। 

১৭ই এপ্রিল- লকডাউন চলাকালিন বেতন না দেওয়ার জন্য জুট মিল ওয়ার্কার্স ট্রেড ইউনিয়ন কলকাতার বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষোভ দেখায়। 

২৮শে এপ্রিল- ডায়মন্ড বার্সেতে শ্রমিকরা একত্র হয়, গাড়ি বিভিন্ন সম্পত্তি ভাঙচুর শুরু করে প্রতিবাদ করতে থাকে এই দাবি নিয়ে যে তাদের যেন বাড়ি ফেরার অধিকার দেওয়া হয় এবং লকডাউন পর্বেও যেন তারা কাজ চালিয়ে যেতে পারে সেই অনুমতি দেওয়া হয়।

 দিন্দোলিতে রেললাইনের উপর শ্রমিক পুলিশ সংঘর্ষ। গ্রেপ্তার পাঁচ।  

২৯শে এপ্রিল- তিন মাসের বেতন না পাওয়ায় প্রায় দুই হাজারের উপর শ্রমিকেরা আই আই টি হায়দ্রাবাদের সামনে এসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তারা এ দাবিও করেন তাদের যেন অবিলম্বে নিজের নিজের রাজ্যে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। পাথর ছোঁড়া ও গাড়ি ভাঙচুরের খবর পাওয়া যায়। 

৩০শে এপ্রিল- বাড়ি ফেরানোর দাবি জানিয়ে কেরলের মালাপুরমের চিট্টিপারাম্বুতে শয়ে শয়ে শ্রমিক মিছিলে সামিল হয়। 

১লা মে- রাজস্থানের নিমরানার বেহরোরের গ্লোবাল স্পিরিট কোম্পানির প্রায় চার শত কন্ট্রাক্ট ওয়ার্কার্স মার্চ মাসের বেতন না পাওয়ায় প্লান্টের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করে। 

২রা মে- চেন্নাই সেন্ট্রালের ভেলাচেরি, গুইন্ডি, মোগাপ্পির ও পাল্লাভারাম অঞ্চল থেকে বিক্ষিপ্ত ভাবে শ্রমিকদের প্রতিবাদের খবর পাওয়া যায়। তাদের সবারই দাবি অবিলম্বে যেন তাদের নিজের রাজ্যে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়। 

৩রা মে- ব্যাঙ্গালুরুর বোমানাহাল্লি মেট্রো ষ্টেশনের সামনে প্রায় ১০০০ এর উপর নির্মাণকর্মীরা খাবার, বেতন ও বাড়ি ফেরার দাবি নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতেও শুরু করে। সম্পত্তি নষ্ট ও পাথর ছোঁড়ার ঘটনা জানা যায়। হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠি চার্জ করে।

 তেলেঙ্গানার রামাগুনডাম অঞ্চলের গোদাভারিখানি এনটিপিসি সাইটে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ করে এই দাবি নিয়ে যে অবিলম্বে তাদের বাড়ি ফেরার জন্য ট্রেনের ব্যবস্থা করা হোক।
 
 হায়দ্রাবাদের টোলিচউকি অঞ্চলের শ্রমিকরা খাবার, টাকা ও বাড়ি ফেরার দাবি জানায়। 

 মধ্যপ্রদেশের বারওয়ানি অন্ধলের সেনধ্যার কাছে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে পরিযায়ী শ্রমিকেরা। পাথর ছোঁড়ার ঘটনা সামনে আসে। প্রায় ৪০০ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা করেছে।
লকডাউন পর্ব ৩ (৪ঠা মে থেকে ১৭ই মে)

৪ঠা মে- সুরাটের কাদোদারা তেহশিলের ভারেলির বাজারের কাছে টেক্সটাইল ইউনিটের পরিযায়ী শ্রমিকরা একত্রিত হয় ঘরে ফেরার দাবি নিয়ে। পাথর ছোঁড়া ও পুলিশের লাঠিচার্জের কথা জানা যায়। 
 
শ্রমিকদের বাড়ি ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য যে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয় সেই ট্রেনের বাতিল হওয়ার খবর শুনে কেরলের কালিকট জেলার নান্দির কাছে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে পরিযায়ি শ্রমিকরা। ছত্রভঙ্গ করার জন্য পুলিশ লাঠিচার্জ করে। শ্রমিকরা এই দাবিও করে যে তারা পর্যাপ্ত খাবার পাচ্ছে না। যদিও স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যরা এই অভিযোগ সম্পুর্ন অস্বীকার করে। 
 
কোভিড১৯ এর কারণে চেন্নাইয়ের কোয়েম্বেড়ু অঞ্চলের সমস্ত মার্কেট বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বিহার থেকে আগত পরিযায়ী শ্রমিকের দল যারা মূলত লোডিং আনলোডিং এর কাজ করত তারা কর্মহীন হয়ে পরে। ফলত বাড়ির ফেরার দাবি জানিয়ে তারা শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষোভ শুরু করে। লোকাল পুলিশ ষ্টেশন ঘেরাওয়ের ঘটনাও জানা যায়। 
 
একই ধরনের বিক্ষোভের ঘটনা জানা যায় আমিনিজিকারি, তাম্বারাম, পাল্লাভারাম, আম্বাট্টুর প্রভৃতি অঞ্চল থেকে। 
 
বিহার, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবাংলা থেকে আগত  প্রায় ১০০০ এর উপর শ্রমিক যারা আলপক্কম অঞ্চলের এল আন্ড ডাব্লিউ নির্মাণ সাইটে কাজ করত, তাদের বাড়ি ফেরার অনুমতি না মেলায় তারা রবিবার সন্ধ্যে থেকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। 

 তিরুনেলভেলি জেলার এল এন্ড টির কুদানকুলাম নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকরা বেতন ও খাবারের দাবি জানিয়ে প্রতিবাদ শুরু করে। 
 
অন্ধ্রপ্রদেশের পশ্চিম গোদাভরি অঞ্চলের কোভভুরে শ্রমিকরা বাড়ি ফেরার দাবি নিয়ে রাস্তা অবরোধ করে। পরে পুলিশ এসে বিক্ষোভরত শ্রমিকদের উপর লাঠিচার্জ করে। 
 
হায়দ্রাবাদের শাহিকপেট অঞ্চলের একটি বিলাশবহুল বাড়ি নির্মাণ প্রজেক্টের নির্মাণকর্মীরা দুইমাসের বেতন না পাওয়ায় বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে এবং দাবি জানায় অবিলম্বে যেন তাদের দুইমাসের দেওয়া হয়। 
 
গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৪এর গলফ কোর্স রোডের সানসিটি টাউনশিপে কর্মরত পরিযায়ি শ্রমিকরা বাড়ি ফেরার দাবি নিয়ে একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে।

 হাজারের বেশি পরিযায়ী শ্রমিক ব্যাঙ্গালুরুর BIEC তে জড়ো হয়ে ব্যাঙ্গালুরু-তুমাকুরু হাইওয়ে অবরোধ করে এবং দাবি জানায় অবিলম্বে যেন তাদের ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়। 
৫ই মে- শ্রমিকরা হয়রানির কথা জানিয়ে নভি মুম্বাইয়ের স্থানীয় থানায় রিপোর্ট করেন। 

 কর্ণাটক থেকে নিজের রাজ্যে ফেরার জন্য যে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করতে হচ্ছিল তা দুদিন ধরে বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা অস্থির হয়ে লোকাল থানায় জানাতে গেলে পুলিশ তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করে ও স্পষ্ট জানিয়ে দেয় তারা কোন সাহায্য করতে পারবে না। একই ধরনের ঘটনার কথা বিভিন্ন যায়গা থেকেই যায়। হেব্বাগুড়ি পুলিশের দ্বারা শারীরিক নির্যাতন ও লাঠিচার্জের কথা জানা যায়। আমাদের পরিচিত এক শ্রমিক জানায় তার মোবাইল ফোন ড্রেনে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়। 

৭ই মে- কেরলের কন্নুর, মালাপ্পুরম ও এর্নাকুলম জেলা থেকে বিক্ষিপ্ত ভাবে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও তাদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনা জানা যায়। 
 
ব্যাঙ্গালুরুতে বাড়ি ফেরার দাবি নিয়ে মিছিলে হাঁটেন প্রায় দুই হাজার মানুষ। তাদের মধ্যে যেমন পরিযায়ী শ্রমিকরা ছিল তেমনি চিকিৎসা করতে আসা রোগীর পরিবারের লোকজনও ছিল। পুলিশের সাথে খণ্ডযুদ্ধের কথা জানা যায়।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যেদিন বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম

                        ওপারেতে বৃষ্টি এল ঝাপসা গাছাপালা,                    এপারেতে মেঘের মাথায় একশো মানিকজ্বালা।                     বাদলা হাওয়া মনে পরে ছেলেবেলার গান,                        বৃষ্টি পরে টাপুর-টুপুর নদে এল বান।                        বৃষ্টির কিছু নিয়ম আছে, সে যখন তখন ঝড়ে পড়ে না। ইচ্ছে হলেও না। অনেকটা ঠিক আমাদের মতন, আমরা যেমন চাইলেও কাঁদতে পারি না সবসময়। কান্নার কথা লিখতে গিয়ে মনে পড়ল ক্লাস এইটে এই বৃষ্টির দিনেই একদিন খুব কেঁদেছিলাম। বিকেলে ...

মণিপুর জ্বলছে! কিন্তু কেন? অন্তিম পর্ব।

  সূচনা। বর্তমান দাঙ্গার সূত্রপাতের কারন হিসেবে যদি কিছু পয়েন্টকে লিস্ট করা যায় তাহলে দাঁড়ায়- বীরেন সিংয়ের রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদ, পোস্ত চাষের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান, অনিবন্ধিত অভিবাসন, কুকিল্যান্ডের দাবি এবং মেইতেই পুনর্জাগরণবাদ।  গত বছরের এপ্রিলে বহুদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভের স্ফুলিঙ্গ  জ্বলন্ত উত্তেজনাকে প্রজ্বলিত করে। অসম রাইফেলসের উপস্থাপনায় এই সময়কালকে "সূচনা" হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই মাসে, মণিপুর হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে মেইতেই সম্প্রদায়কে তফসিলি উপজাতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদনগুলি বিবেচনা করতে বলেছিল-সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী মণিপুরের পাহাড়ি অঞ্চলগুলিতে কুকিদের দ্বারাই বেশিরভাগ সম্পত্তির মালিকানা আছে। 1960 সালের মণিপুর ভূমি রাজস্ব ও ভূমি সংস্কার আইন শুধুমাত্র তফসিলি উপজাতিদের পার্বত্য অঞ্চলে জমি কেনার অনুমতি দেয়। মণিপুরের শীর্ষস্থানীয় উপজাতি নাগরিক সমাজের সংগঠন অল ট্রাইবাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন মণিপুরের পাহাড়ি জেলাগুলিতে যেখানে উপজাতি সম্প্রদায়ের আধিপত্য রয়েছে সেখানে "সংহতি মিছিল" করার আহ্বানের দেয়।  ৩রা মে সেনাপতি, উখরুল, কাংপোকপি, ত...

নিয়তির কাছে যা যা বলার ছিল

নবারুণ সেই কবেই বলেছিলেন- “গাঁড় মারি তোর মোটরগাড়ির, গাঁড় মারি তোর শপিং মলের। বুঝবি যখন আসবে তেড়ে, ন্যাংটো মজুর সাবান কলের। পেটমোটাদের ফাটবে খুলি, ফাটবে মাইন চতুর্দিকে। গলায় ফিতে নেংটি বেড়াল, তার বরাতেই ছিঁড়বে শিকে”। আজ একুশ দিন শেষ হবার ছিল। শেষ হবার আগেই আরও উনিশ দিনের জন্য লকডাউন কার্যকর হয়ে গেল। প্রধানমন্ত্রী এসে বলেছেন সরকার বহু আগে থেকেই এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত ছিল। হয়ত ছিল কিন্তু কীভাবে ছিল সেই প্রশ্ন কি কেউ করেছে? তিনঘণ্টার নোটিশে দেশে জুড়ে সমস্ত রকমের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেল। আমরা আনন্দ পেলাম। এবারে দীর্ঘ ছুটি। ওয়ার্ক ফ্রম হোম। কিন্তু একবারও ভাবলাম না হোমলেস পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা। যাদের জন্য আমাদের ঝাঁ চকচকে সুন্দর শহরে এখনও বসন্ত এলে আমরা প্রেমে পড়ি। যত ছ্যাঁচড়া কাজের জন্য হাড়হাভাতে মানুষগুলো গ্রাম ছেড়ে শহরের কোণায় কোণায় আস্তাকুঁড়ে আস্তানা গারতে শুরু করে সেই চল্লিশ দশকের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময় থেকে। সত্যজিতের ‘পথের পাঁচালি’র কাশবনের মধ্যে দিয়ে রেলগাড়ি দেখে আমরা দৃশ্য ভাবনার তারিফ করি। কিন্তু রেলগাড়ি ব্যবহারের ইঙ্গিত বুঝতে ব্যর্থ হই। রেলগাড়ি শুধু কাশবনের মধ্য...