সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

শুভ মঙ্গল যাদা সাবধান- দ্যা গে লাভ স্টোরি।।

এলাহাবাদ ষ্টেশন থেকে যখন বিবাহ স্পেশাল এক্সপ্রেস ছেড়ে যাচ্ছিল দৌড়ে ট্রেন ধরতে আসছিল দুজন। ট্রেন তখন হুইশেল দিয়েছে, চাকাও নড়ে উঠেছে। সবাই সবাইকে বিদায়বেলায় হাত নেড়ে সৌজন্য প্রকাশ করেছে। সকলেই সেখানে বিবাহের পোশাকের সজ্জিত। কিন্তু সকল বিবাহযোগ্য কাপলদের থেকেও নজর যায় সুপার হিউম্যানের কস্টিউম পরিহিত দুই যুবকের দিকে। হ্যাঁ আপনি ঠিক শুনছেন দুই যুবকের দিকে। এটা প্রথমবার নয় যখন হিন্দি ছবিতে সমকাম এসেছে। কিন্তু যখনই সমকাম ছবিতে এসেছে তাকে নেগেটিভ ভাবে দেখানো হয়েছে। ছবির কমিক রিলিফ হিসেবে বা কাহিনী থেকে একটু রিলিফ দেওয়ার জন্য হাসির উপজীব্য হিসেবে। চরিত্রকে সেখানে সমকামী দেখানোই হয়েছে শুধুমাত্র হাসির পাত্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য। সারা সিনেমাহল জুড়ে আমরা সবাই বারবার করে হেসে উঠেছি। এমনকি আমাদের চোখের সামনেও যখন সমকামীদের দেখেছি টিটকিরি দিয়েছি। আড়ালে আবডালে তাদের নিয়ে খোশ গল্প করেছি। কিন্তু সেক্সুয়্যালিটি বিষয়টি ঠিক কি তা কোনদিন জানার বা বোঝার চেষ্টা করিনি। তাই কার্তিক রূপী আয়ুস্মান খুরানা যখন সমাজের ধারক ও বাহকের প্ল্যাকার্ড নিয়ে ঘুরে বেরানো সঞ্জয় ত্রিপাঠীর উদ্দেশ্যে বলে ওঠে যে "my sexuality ...

গোচেলাঃ গিরিপথের হাতছানি। অন্তিম পর্ব।

চতুর্থ ব্রিজের নাম ‘প্রেকচু’। যে নদীর ওপর এই ব্রিজ নির্মিত তার নামানুসারেই এই ব্রিজের নাম রাখা হয়েছে। প্রেকচু নদী কিছুদূর গিয়ে রতঞ্চু নদীর সাথে মিশেছে এবং রতঞ্চু তিস্তায় গিয়ে মিশেছে আরও কিছুদূর যাওয়ার পর। প্রেকচু ব্রিজের নিকট কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আমরা আবার হাটা শুরু করলাম কিন্তু ততক্ষনে প্রায় ৩.৩০টে বেজে গেছে। এবারে পুরো পথটাই চড়াই। বাখিম যখন পৌছালাম তখন বিকাল ৫টা। বাখিম থেকে শোকা আরও তিন কিলোমিটার। ২০১১ সালের ভূমিকম্পে সিকিমের যে ক্ষতি হয়েছিলাম যা আমরা গত পুজোয় ইয়াম্থ্যাঙ ভ্যালি যাওয়ার সময় লক্ষ করেছিলাম, বাখিমে এসে তা আবার সচক্ষে দৃশ্যমান হল। এখানকার ট্রেকার হাটের নিচের দিকে বড়সড় ফাটল দেখা দিয়েছে যার ফলে এই ট্রেকার হাট এখন পরিত্যক্ত। সন্ধ্যে ৬.৩০টা নাগাদ আমরা শোকাতে পৌছালাম। অন্ধকারে এলাকা বিশেষ বোঝা যাচ্ছে না। তাই তখনকার মত আমরা আমাদের টেন্টে গিয়ে বিশ্রাম নেওয়াই শ্রেয় মনে করে গরম চায়ে চুমুক দিতে দিতে টেন্টে প্রবেশ করলাম। ১৬ কিলোমিটার হাঁটার পরে আমরা প্রত্যেকেই কম বেশী ক্লান্ত থাকায় তাড়াতাড়ি রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়লাম। ঘুম ভাঙল তাসিজির আওয়াজে। টেন্ট থেকে বেড়িয়ে প্রথম সূর্যের আলোয় শো...

গোচেলাঃ গিরিপথের হাতছানি। পর্ব ১।

একটা জার্নি শুরু হয় একরাশ আশা নিয়ে আর শেষ হয় অনেক কিছু পাওয়া দিয়ে। আমাদের ক্ষেত্রেও এর কোন বিরূপ হয়নি। গত পুজোয় গ্যাংটক থেকে ফিরে আসার পরই আমরা ঠিক করে নিয়েছিলাম ট্রেকিংএ যাব। এর আগে ট্রেকিংএর বিশেষ কোন অভিজ্ঞতা ছিলনা। বছর দেড়েক আগে প্রথম ট্রেকিং সান্দাকফু। সেই প্রথম অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দেওয়া। কিন্তু ফিরে আসার পরই পাহাড় এক অদ্ভুত মায়ায় আকর্ষণ করেছিল আমায়। বিশেষ করে সারাটা দিন পাহাড়ের গা ঘেঁষে  হেটে এসে একসময় তার চূড়ায় পৌঁছানো। সামনে বিস্তীর্ণ বরফাবৃত পর্বতমালা, নিচে জমাট হয়ে থাকা মেঘ, সূর্যের আলোর রামধনু রঙে চারিদিকে ছড়িয়ে যাওয়া এক অদ্ভুত মায়ায় আমাকে বেঁধে নিয়েছিল। যে মায়ার ডোর আবার আমায় পাহাড়ের অভিমুখে যেতে আহ্বান জানাল। আর এবারের গন্তব্য গোচেলা।  গোচেলা আদতে একটি পাস। ‘লা’ শব্দের ইংরাজি অর্থ পাস অর্থাৎ গিরিপথ। পশ্চিম সিকিম থেকে উত্তর সিকিমে যাওয়ার একটি পাস বা রাস্তা। দুর্গম পথের কারনে সাধারণত চলাচলের জন্য এটা ব্যবহৃত হয়না। এটি একটি ট্রেকিংপয়েন্ট। অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় মানুষদের কাছে এটা একটা অন্যতম প্রধান ডেসটিনেশন। এখানে আসার উপযুক্ত সময় হল এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-ন...

রেভেলেশনসঃ সত্যের উন্মোচন।

'Revelations' শব্দের বাংলা অর্থ 'উন্মোচন' বা 'উদঘাটন'। আমাদের প্রত্যেক মানু্ষের জীবনে রয়েছে এমন অনেক রহস্য যা সবার সামনে উন্মোচন হয় না। হয়তো কোনো এক পরিসরে কোনো এক মুহুর্তে বেরিয়ে আসে সেই সত্য। সময় স্থান কাল পাত্র উপর  নির্ভর করে সেই সত্য উন্মোচন । নবাগত পরিচালক বিজয় জয়পাল তাঁর প্রথম ছবি 'রেভেলেশনস' এর পর্দায় উন্মোচিত হয়েছে কলকাতা শহরের প্রেক্ষাপট। শহরের প্রত্যন্ত অলিগলি, রাস্তা ঘাট, নদীর ধারে অনবরত ঘুরে বেরিয়েছে ক্যামেরা। পর্দায় ফুটে উঠেছে আনকোরা অথচ পরিচিত কলকাতার এক ছবি। ভিন্ন জাতি, ভিন্ন ভাষার মানুষ যখন এই শহরে এসে উপস্থিত হন তখন আমাদের থেকেও তাঁদের জীবনে এই শহরটার একটা প্রভাব দৃঢ় হয়। জীবনের আনাচে কানাচে ঢুকে থাকে শহরের খোলনলচে।  ছবির গল্প ঘুরতে থাকে তিনটে চরিত্রের মধ্যে দিয়ে, যাঁদের জীবনে মানুষজন থাকলেও আদতে তাঁরা সম্পূর্ণ একা। আর প্রত্যেকের সঙ্গে আছে প্রত্যেকের নিজস্ব সত্য। যা কোনো এক সময়ে কোনো এক পরিসরে বেরিয়ে আসবে আমাদের সামনে । আমাদের অপেক্ষা শুধু সেই সময়টুকুর। পরিচালক একটি ইন্টারভিউতে বলেছেন যে তিনি একটি তামিল ছবির প্রেক্ষাপট কলকাতার মত শহরে সে...

পরিবেশের জন্য লড়াইঃ কয়েকটি সত্যি গল্প।

বন্ধুরা তোমরা নিশ্চয়ই সবাই এখন গরমের ছুটি কাটাচ্ছ? আমার কিন্তু সেই সুযোগ নেই। আমি এখন শহর কলকাতা ছেড়ে অনেক দূরে বসে আছি। বসে আছি ভাবছি। অনেকদিন পর ইচ্ছামতি আমায় তোমাদের জন্য লিখতে বলেছে। আর বিষয়ও দিয়েছে খুব আকর্ষণীয়। তোমরা তো জানোই আর মাত্র কদিন পরই ৫ই জুন। বিশ্ব পরিবেশ দিবস। তোমাদের হয়ত সকলেই কম বেশি পরিবেশ বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে হয়েছে। তাই তোমরা তো জানোই আজকের দিনে আমরা কতটা পরিবেশ দূষণের মধ্যে বসবাস করছি। কতরকম ভয়ংকর রোগ আমাদের শরীরে দানা বাধছে নিত্য। তোমরা সবাই সে ব্যাপারে ওয়াকিবহাল আমি জানি। আমি জানি তোমরা রাস্তাঘাটে ময়লা ফেলো না, তোমরা প্ল্যাস্টিকের ব্যবহার করনা, তোমরা মোবাইল ফোনের ব্যবহার কম কর। তোমরা ইতিমধ্যেই হয়ত জেনে গেছ যে রেফ্রিজ্রেটার বা এয়ার কন্ডিশন মেশিন থেকে পরিবেশ কতটা দূষণ হয়। তোমরা গ্লোবাল ওয়ার্মিং সম্বন্ধেও যথেষ্ট জানো আমি জানি। আমি আজ কিছু অন্য ঘটনার কথা তোমাদের বলব। যদিও আমি এসব জানতাম না। যদি না তোমাদের মতই আমার খুদে বন্ধু রফিক এসে গল্পের মত করে আমায় ঘটনা গুলো শোনাতো।  রফিকের বাড়ি আমার অফিসের গ্রামেই। রফিকের ইস্কুলের নাম সাতারাপুর হাই স্কুল। এই এলাকার সবচেয়ে বড় স্...

আসুরান- ভাত ও জাতের লড়াই।

'আসুরন' শব্দটির অর্থ অসুর বা রাক্ষস। পোমানি রচিত 'ভেক্কাই' উপন্যাস অবলম্বনে পরিচালক ভেটরিমারান পরিচালিত ছবি 'আসুরান'। ছবির গল্প দুটি সময়ের। একটি সময় ষাটের দশক আর অন্যটি আশির দশক। যদিও সময়ের প্রেক্ষাপট বোঝানোর দায় থেকে পরিচালক নিজেকে নিষ্কৃতি দিয়েছেন। স্বাধীনতা উত্তর ভারতে অস্পৃশ্যতা তখনো স্বমহিমায় বিরাজ করছে। জাতের নিরিখে ভেদাভেদ সমাজে খুব স্পষ্ট। যদিও বোঝা যায় সরকার থেকে পিছিয়ে পড়া মানুষদের উন্নতির স্বার্থে নানান পরিকল্পনা করা হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় স্কুলের দরজা সকলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। সরকার বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে শিক্ষাই সমাজের সমস্ত ভেদাভেদ দূর করতে পারে। সমাজের সকল অংশের মানুষ তাদের সন্তানদের সেখানে পড়তে পাঠাচ্ছে। জাতি বর্ণ নির্বিশেষে সেখানে তারা পড়ছে। কিন্তু বাইরের পৃথিবী তখনো জাতিপ্রথার গুমোট হাওয়ায় জর্জরিত। সেই গুমোটভাব এখনো কাটেনি। সমাজ সংস্কার  হচ্ছে। এর পরবর্তী অংশ অর্থাৎ আশির দশকে এসে আমরা দেখতে পাই যে ভূমি সংস্কার হয়ে গেছে। জমির পাট্টা শুধুমাত্র জমিদার হাতে আর নেই। নিম্নবর্গীয়, নিচুজাতের মানুষদের হাতেও তাদের জমির পাট্টা আছে। নেই শুধু স...

নস্টালজিয়ার নাম 'আদাত'

তখনো পরিবেশে এত হিংসা ছড়ায়নি। আমরা দেশ বলতে শুধুমাত্র নিজের দেশ বুঝতাম না। যেখানে যা ভালো সবই আছড়ে পরত আমাদের কাছে। যদিও তার পরিমাণ ছিল অনেক কম। ইন্টারনেটের এত ব্যপ্ত প্রচার হয়নি। স্মার্টফোন তখনো বাজারে আসেনি। গৃহস্থের বাড়িতে তখন ল্যান্ডফোনের চল। আশেপাশের বাড়ি থেকে যাতে যে সে এসে যাকে তাকে ফোন করতে না পারে তার জন্য ছিল নাম্বার প্যাড লক। ছোট তালা দিয়ে একটা কেস মতন করে নাম্বার প্যাড আটকানো থাকত। ঠিক এইরকম সময়ে আমরা তখন কৈশোরে। আমাদের খেলার মাঠগুলো সকাল বিকেল ভর্তি থাকত ব্যাট, বল উইকেটে।  সকাল হলে পাড়ার মোরে চায়ের দোকানে আড্ডা জমত। খেলার দিনগুলোতে ক্লাবঘরগুলোতে তিল ধারনের জায়গা থাকত না। গান বলতে তখনো ৯০ দশকের হিন্দি গান বা নতুন আবির্ভাব হওয়া বাংলা জীবনমুখী গান। আমরা খুব দ্রুত গতিতে নতুন শতাব্দীর দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। নতুন শতাব্দী আমাদের জন্য অনেক কিছু নিয়ে এসেছিল তার মধ্যে অন্যতম এফএম রেডিও। ক্লাস নাইনে থাকতেই পুজোতে পাওয়া টাকা জমিয়ে কিনে ফেলেছিলাম পকেট রেডিও। গান শোনার শুরু সেই থেকে। এতগুলো কথা বললাম কারন এমন একটা গানের কথা আজ বলব যেটা সেই সময় থেকে শুরু করে আজো আমাদের অনেকের পছন্দের ...