সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পরিবেশের জন্য লড়াইঃ কয়েকটি সত্যি গল্প।

বন্ধুরা তোমরা নিশ্চয়ই সবাই এখন গরমের ছুটি কাটাচ্ছ? আমার কিন্তু সেই সুযোগ নেই। আমি এখন শহর কলকাতা ছেড়ে অনেক দূরে বসে আছি। বসে আছি ভাবছি। অনেকদিন পর ইচ্ছামতি আমায় তোমাদের জন্য লিখতে বলেছে। আর বিষয়ও দিয়েছে খুব আকর্ষণীয়। তোমরা তো জানোই আর মাত্র কদিন পরই ৫ই জুন। বিশ্ব পরিবেশ দিবস। তোমাদের হয়ত সকলেই কম বেশি পরিবেশ বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে হয়েছে। তাই তোমরা তো জানোই আজকের দিনে আমরা কতটা পরিবেশ দূষণের মধ্যে বসবাস করছি। কতরকম ভয়ংকর রোগ আমাদের শরীরে দানা বাধছে নিত্য। তোমরা সবাই সে ব্যাপারে ওয়াকিবহাল আমি জানি। আমি জানি তোমরা রাস্তাঘাটে ময়লা ফেলো না, তোমরা প্ল্যাস্টিকের ব্যবহার করনা, তোমরা মোবাইল ফোনের ব্যবহার কম কর। তোমরা ইতিমধ্যেই হয়ত জেনে গেছ যে রেফ্রিজ্রেটার বা এয়ার কন্ডিশন মেশিন থেকে পরিবেশ কতটা দূষণ হয়। তোমরা গ্লোবাল ওয়ার্মিং সম্বন্ধেও যথেষ্ট জানো আমি জানি। আমি আজ কিছু অন্য ঘটনার কথা তোমাদের বলব। যদিও আমি এসব জানতাম না। যদি না তোমাদের মতই আমার খুদে বন্ধু রফিক এসে গল্পের মত করে আমায় ঘটনা গুলো শোনাতো। 
রফিকের বাড়ি আমার অফিসের গ্রামেই। রফিকের ইস্কুলের নাম সাতারাপুর হাই স্কুল। এই এলাকার সবচেয়ে বড় স্কুল। রফিক ইস্কুলেরই হোস্টেলে থাকে। গতবার গরমের ছুটি পরে যাওয়ার পর সবাই যখন বাড়ি চলে এসেছে, তার ঠিক কিছুদিন বাদে সদ্য শহর থেকে আসা ভুগোলের স্যার অনিকেত বাবু সবাইকে ডেকে পাঠিয়েছে। অনিকেত বাবু স্কুলে এসেছে খুব বেশীদিন না। কিন্তু এসেই ছাত্র মহলে বেশ সুনাম করে ফেলেছে। কারোর কোন সমস্যা হল, সোজা অনিকেত বাবুর কাছে। ক্লাসে ভুগোল পড়ালেও হোস্টেলে কিন্তু অনিকেত প্রায় সব বিষয়ই পড়িয়ে দেয় সবাইকে। তাই অনিকেত বাবু যখন ডেকেছে তখন তো স্কুলে যেতেই হবে। রফিকও তাই স্নান করে ঝোলা নিয়ে সোজা স্কুলে এসে হাজির। আমাকে সব গল্প করলেও সেদিন যে অনিকেত বাবু ডেকেছে তা আমাকে না জানিয়ে চলে যায়। পরে আমি সবটা শুনি। 
ছাত্ররা হোস্টেলের পাশে সবাই সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়ালে কিছুক্ষন পরই অনিকেত বাবু আসে। মুখে একগাল হাসি। এসেই বলে “ইস তোরা সবাই বাড়িতে ছিলি আর আমি ডেকে আনলাম! তবে আজ বিশেষ এক দরকারে তোদের ডেকে এনেছি। আচ্ছা বলতো আগামী ৫ই জুন কি?” সবাই সবার মুখ দেখা দেখি করতে লাগল। “জানিস না তো”? অনিকেত বাবু বলল। “আগামী ৫ই জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস। ইউনাইটেড নেশন পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করতে এই দিনটিকে বেছে নিয়েছে। আমিও তাই ভাবলাম আমরাও যদি এই দিনটিকে উদযাপন করি! বল কেমন হবে?” সবাই বলল খুব ভালো হবে স্যার খুব ভালো হবে। “তবে শোন আমরা গ্রামের সব বাড়ি গিয়ে গিয়ে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করব সবাইকে। কিভাবে কি করব আমি তোদের রাতে সব বুঝিয়ে দেব। কিছু জিনিসও কিনতে হবে আমাদের পোস্টার বানানোর জন্য। সব বিকেলে কিনে নেব। এখন চল ক্লাসে যাই গিয়ে একটু গল্প করি তোদের সাথে”। সবাই বলল কিসের গল্প করবেন স্যার? অনিকেত বাবু বলল “আজ এমন কিছু জায়গার ঘটনার কথা বলব যেখানে মানুষই উদ্যত হয়েছিল পরিবেশ কে দূষিত করবার জন্য আর কিছু কিছু সময় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করার জন্য। হয়ত সমস্ত সত্য না জেনেই”। সবাই মিলে ক্লাসে এল। 
অনিকেত স্যার বললেন প্রথমে বলব জাদুগোরার কথা। ঝাড়খণ্ডের এই ছোট অঞ্চল এখনও পরিবেশে বিষিয়ে দেওয়া ক্ষত বয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ২০৩২ সালের মধ্যে বছরে ৬৩ গিগাওয়াট নিউক্লিয়ার শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্যে ভারত সরকার ঝাপিয়েছিল। এই শক্তি উপার্জনের জন্য প্রয়োজন ছিল ইউরেনিয়াম নামক ধাতুর। জাদুগোরা ছিল ইউরেনিয়ামের আকরিক ম্যাগনেসিয়াম ডিউরেনেট এর উৎসস্থল। কিন্তু এই উৎস থেকে এই নিউক্লিয়ার শক্তির জন্য প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়াম খনন ও তা কাজে লাগানোর মাধ্যমে জাদুগোরায় নেমে আসে এক অন্ধকার অধ্যায়। প্রতিটি মানুষের চোখে যা ভয়ের আবহ নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। ইউরেনিয়াম খনন ও তা মিল নিয়ে গিয়ে আকরিক থেকে ইউরেনিয়াম নিঃসারণের যে প্রসেস তার ফলে রেডন গ্যাসের উৎপাদন যে রেডিওঅ্যাক্টিভিটির জন্ম দেয় তার ফলে মানুষের নিঃশ্বাসের সঙ্গে তা যখন দেহে প্রবেশ করে তখন দেহের ভিতরে ইন্টারনাল ইরেডিয়েশন ঘটে। মূলত যারা খনি থেকে খনন করে বের হয় তাদের মধ্যে এটা বেশি লক্ষ্য করা যায়। এবং এই আকরিক যখন খোলা ট্রাকে করে মিলে নিয়ে যাওয়া হয় তখন রাস্তার সর্বত্র তা ছিটকে গিয়ে পরে। এর ফলে স্থানীয় আধিবাসীরাও এর প্রকোপ থেকে নিস্তার পায়না। যে সমস্ত গ্রামগুলি মিলের ডাস্ট যেখানে ফেলা হয় তার কাছাকাছি অবস্থিত সেগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। 
বিশেষত বর্ষার সময় জলের সাথে মিশে এই ডাস্ট নদীতে গিয়ে মেশে। ফলত ইন্টারনাল রেডিয়েশন এর মাত্রা আরও বেড়ে যায় কারন পানীয় হিসেবে ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করার জন্য গ্রামবাসীরা নদীর জল ব্যবহার করে। ভারতীয় ডাক্তার দের করা একটা সার্ভে থেকে উঠে আসে যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় শিশুরা। ক্যান্সারের মাত্রা অনেক বেড়ে যায়। এবং জন্মের সময় অনেক শিশু মাতৃগর্ভেই মারা যায়। যারা জন্মায় তারা বেশিরভাগ বিকলাঙ্গ হয়ে জন্মগ্রহন করে নয়ত সেরিব্রাল পালসির স্বীকার হয়। প্রায় এক লক্ষ টন নিউক্লিয়ার বর্জ্য পদার্থ জমানো রয়েছে মিলের কাছে যেখানে তা রাখা হয়। সুবর্নরেখা নদীতে গিয়ে যখন সেই বর্জ্য পদার্থ মেশে তখন তা যে রেডিয়েশনের সৃষ্টি করে তার ফলে গোটা ফুড চেন নষ্ট হওয়ার পথে যায়। ফলে মানুষের গড় আয়ু এখন এসে দাঁড়িয়েছে ৬২ বছরে। যে কোম্পানি এর সাথে যুক্ত তারা এই সমস্যা সম্পুর্ন নস্যাত করে দিয়েছে। এবং যে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানুষকে দেওয়া দরকার তার কোন দায়ভার নেয়নি। স্থানীয় ভাষায় জাদুগোরার অর্থ হল জাদুর নগর। কিন্তু এখনও অব্ধি সে কোন জাদুই দেখাতে পারেনি যাতে করে আবার সে তার আগের মত সুন্দর ল্যান্ডস্কেপের শহর হয়ে উঠতে পারে। তবুও সেখানকার মানুষ সেই জাদু দেখবার জন্যই অপেক্ষা করে আছে। 
এই অব্ধি বলে রফিক থামল। আমি ওর দিকে জলের গ্লাস বাড়িয়ে দিলাম। ও এক ঢোকে জলটা শেষ করে মুচকি হাসল। হাসি থামিয়ে বলল এরপরের ঘটনাটা নাকি পরিবেশ রক্ষা করার মত নজির গড়ে দেওয়ার ঘটনা। অনিকেত স্যার নাকি বলেছে মানুষই যেমন পারে পরিবেশ কে ধ্বংস করতে তেমন মানুষই আবার পারে পরিবেশকে রক্ষাও করতে। রফিক শুরু করল-
ওডিশার মুনিগুডা রেলস্টেশন থেকে ৩০ কিলোমিটার যাওয়ার পর যে পাহাড়ি পথের দেখা মেলে সেই পথ দিয়ে আরও খানিকটা উঠে গেলে যে পাহাড়ের রেঞ্জ দেখা যায় তাই নিয়মগিরি। প্রায় ১২ টা গ্রাম অবস্থিত এই পাহাড়ি উপত্যকাকে কেন্দ্র করে। মূলত ডোংরিয়া কোন্ধ উপজাতিরা থাকে এখানে। যারা নিয়মগিরিকে দেবতার মত দেখে। তারা মনে করে যে তাদের আরাধ্য দেবতা নিয়ম রাজা এই পাহাড়েই থাকে। এই পাহাড়কে ঘিরেই তারা তাদের জীবন ধারন করে। উপার্জনও মূলত এই পাহাড়কে কেন্দ্র করেই। কিন্তু ওডিশা সরকার যখন বেদান্ত গ্রুপের সহযোগিতায় এই পাহাড় থেকে অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনের জন্য বক্সাইট খনন করে বের করে আনতে থাকে তখন এই গ্রামের মানুষরা বেঁকে বসে। মূলত অত্যাধিক পরিমানে বক্সাইট খনন করার ফলে পাহাড়ের ভারসাম্য যেমন নষ্ট হচ্ছিল তেমনি এই পাহাড়কে ঘিরে থাকা প্রায় ১১২টি গ্রামেরও ক্ষতি হচ্ছিল। এছাড়াও আদিবাসীদের কাছ থেকে জমি জোড় করে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একসময় এইসবের বিরুদ্ধে নিয়মগিরির মানুষ রুখে দাঁড়িয়েছিল। তারা নিয়মগিরিকে বাঁচাতে গড়ে তুলেছিল ‘নিয়মগিরি সুরক্ষা সমিতি’। যদিও সরকার আদিবাসীদের এই লড়াইকে কোণঠাসা করে দেওয়ার জন্য ‘নিয়মগিরি সুরক্ষা সমিতি’কে মাওবাদী সংগঠন বলে আখ্যা দিয়েছিল ও ব্যাপক হারে এই সংগঠনের নেতৃত্ব স্থানীয়দের গ্রেপ্তার ও মুছেলেখা নেওয়ার চেষ্টা করেছিল কিন্তু সে চেষ্টা বিফলে যায়। দাঁতে দাঁত চেপে জল জঙ্গল জমিনের এই অসম লড়াই নিয়মগিরির মানুষরা লড়ে গিয়েছিল। তাই তাদের আরাধ্য দেবতা নিয়ম রাজা তাদের হতাশ করেনি। দেশের সর্বোচ্চ আদালত রায় দিয়েছিল যদি সব কটা গ্রামের গ্রাম সভা এই খনন কাজ করার সপক্ষে ভোট দেয় তবেই খনন কাজ চালানো যাবে নয়ত বন্ধ করে দিতে হবে। রেফারেলে সব কটা গ্রাম সভা এই খনন কাজ যাতে না চালানো হয় তার পক্ষে ভোট দিয়েছিল। এই ভোটের পর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ওড়িশা সরকারের মাইনিং ডিপার্টমেন্ট সাথে সহযোগিতায় বেদান্ত স্টারলাইট কোম্পানি যে বক্সাইট খনন শুরু করেছিল তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। মানুষের লড়াইয়ের নৈতিক জয় হয়। জল জঙ্গল জমিন এর অধিষ্ঠাতা নিয়ম রাজা আবারো তার ভক্তদের সহিত পাহাড়ের কোলে সুস্থ ভাবে থাকার অধিকার পায়। 
রফিক এতদূর বলে চুপ করে যায়। তার মুখের হাসিটা নিমেষে যেন মিলিয়ে যায়। আমি ওকে জিজ্ঞেস করি তারা কিভাবে পরিবেশ উদযাপন করল? অনিকেত স্যার আর কি ঘটনার কথা বলল? রফিক একটা প্রশ্নেরও উত্তর দেয়নি। সে চুপ করে জানলার দিকে তাকিয়েছিল অনেকক্ষণ। আমি কিছুই বুঝতে পারিনি তখন। বুঝলাম যখন সে পরের ঘটনার কথা বলল। যে ঘটনাটা আমারও জানা। বন্ধুরা তোমরাও নিশ্চয়ই এতদিনে জেনে গেছ। যদি না জানো তবে এই ঘটনার কথা আমি তোমাদের বলি শোনো। রফিক এটা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেছিল, আমি তাকে শান্ত করিয়ে আর কিছু বলতে বারণ করি। কারন এটা আমার জানা ছিল। 
তামিলনাড়ুর তুতোকরিন একটা সমুদ্রের তীরে অবস্থিত শহর। যার বর্তমান নাম থুত্থুকোডি। এখানেই সরকারী সিদ্ধান্তের পর বেদান্ত স্টারলাইট কোম্পানি কপার প্ল্যান্ট নির্মান করে কিছু বছর আগে। পরিবেশ সংক্রান্ত কিছু নিয়মবিধি বেঁধে দেওয়া হয়েছিল এই প্ল্যান্ট নির্মানের সময় যাতে পরিবেশ দূষিত না হয় ও ইকোসিস্টেমে কোন প্রভাব না পরে। যেমন সমুদ্র থেকে প্রায় ২৫ কিমি দূরে এই প্ল্যান্ট নির্মান করার কথা ছিল, কিন্তু মাত্র ১৪ কিমি দূরেই এই প্ল্যান্ট নির্মান করা হয়। এছাড়াও স্থানীয় পরিবেশ পর্ষদ দূষণ নিয়ন্ত্রনের ছাড়পত্র প্ল্যান্ট কে দেয়নি। যার জন্য প্রায় ১৫ দিন প্ল্যান্ট বন্ধ ছিল। এই প্ল্যন্ট থেকে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে এবং তা মারাত্মক ব্যাধির জন্ম দিচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই দাবী নিয়ে বেশ কিছু মাস আগে স্থানীয়রা এই প্ল্যান্ট বন্ধ করে দেওয়ার জন্য প্রতিবাদ শুরু করে। তারা নিয়মিত ধর্না মিছিল মিটিং সবই করছিল। সাথে চলছিল অবস্থান বিক্ষোভ। এই অবস্থান বিক্ষোভের ১০০ দিন উদযাপন হিসেবে তারা তাদের বেশ কিছু কর্মসূচি ঠিক করে। তার মধ্যে প্রধান ছিল জেলা শাসকের অফিস ঘেরাও ও অবস্থান বিক্ষোভ দেখানো। এই মর্মে তারা তাদের কর্মসূচি শুরু করে। এরপর বিক্ষোভকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়। জনতা পুলিশ খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়। পুলিশের গুলিতে প্রায় ১৫ জন মানুষ প্রাণ হারায়। স্নাইপার দিয়ে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। সরকার দাবী করে বিক্ষুব্ধ জনতাকে নিয়ন্ত্রনের জন্য গুলি করা ছাড়া আর অন্য কোন উপায় ছিল না। কিন্তু এই ঘটনার কিছুদিন পরেই সরকারের সিদ্ধান্তকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সুপ্রিম কোর্ট জানায় যে কপার প্ল্যান্ট থেকে দূষণ ছড়াচ্ছিল, তা যেন অবিলম্বে শিঘ্রই বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে প্ল্যান্ট বন্ধ। কিন্তু ১৫টা মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার পর জানা যায় যে আসলেই দূষণ হচ্ছিল। যদি আগে এটা নিয়ে বিবেচনা করা হত তাহলে হয়ত ১৫ জন নিরীহ মানুষের প্রাণ জেতনা। 
বন্ধুরা আমাদের যেমন সকলের সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা আছে তেমনি পরিবেশের ওপরও আছে। আমাদের বেঁচে থাকা অনেকটা পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। তোমরা নিশ্চয়ই গ্লোবাল ওয়ার্মিং ফলাফল জানো। তোমরা জানো কিভাবে গাছ কেটে পরিবেশ কে নষ্ট করে দিয়ে লোকালিটি গড়ে তোলা হচ্ছে। এই নিয়েও প্রতিবাদ হচ্ছে বিস্তর। যশোর রোড এর পাশের গাছগুলো কেটে ফেলার বিরুদ্ধে মানুষ পথে নেমেছে। গাছ কাটা আপাতত স্থগিত। ভাঙড়ে বিদ্যুৎ কারখানার নির্মানের বিরুদ্ধে মানুষ একজোট হয়েছে। এরকম উদাহরণ বন্ধুরা অনেক আছে। তোমরা আজ অনেকেই হয়ত ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনার কথা। কিভাবে আজও প্রায় ৩৩ বছর পরও মানুষ এক বিভীষিকার মধ্যে আছে। একটা শহর কিভাবে একটা রাতের মধ্যে সব কিছু হারিয়ে ফেলেছিল। রফিক আজ এই সব ঘটনা গুলো জেনে গেছে। সে এবং তার বন্ধুরা মিলে পরিবেশ দিবসের দিন সারা গ্রাম জুড়ে পরিবেশ নিয়ে মানুষের কিভাবে আরও সচেতন হওয়া উচিত তার প্রচার চালিয়েছে। পরিবেশকে রক্ষার পিছনে আমাদের সকলের দায়বদ্ধতা আছে। আমরা সেই দায়বদ্ধতা থেকে মুখ ঘুরিয়ে থাকতে পারিনা। আমি জানি তোমরাও তা করবে না। তোমরা জানো কিভাবে পরিবেশ আগলে রাখা যায়। আমি জানি তোমরা তোমাদের স্কুলের চারধারে বাড়ির চারধারে নতুন নতুন গাছ লাগাবে। সেই গাছ যখন তোমাদের বড় হয়ে ওঠার সাথে সাথে বড় হয়ে উঠবে এবং একদিন মহীরুহতে পরিণত হবে সেদিন তোমারাও অনেক বড় মানুষ হয়ে উঠবে আমি জানি। রফিকরা ওদের স্কুলে ইকো ক্লাব খুলেছে সমস্ত ক্লাস রুমের বাইরে ছোট ছোট টবে গাছ লাগিয়েছে। সেই নিয়েও ওদের মধ্যে অনেক মজা ঠাট্টা নাকি হয়েছে। মাটি কাটতে গিয়ে কে নাকি কাদায় মুখ থুবড়ে পরে সারা গায়ে কাদা মাখামাখি করে আসার পর কেউ তাকে চিনতেই পারেনি। এরম আরও নানা গল্প রফিক আমায় বলেছে। সেই সব গল্প আবার অন্য কোনদিন বলব। তোমরা সকলে খুব ভালো থাকো। পরিবেশ দিবস উদযাপন করো, এবং সকলকে পরিবেশ নিয়ে সচেতন করার ব্রত পালন কর।।

ছবি সৌজন্যেঃঃ গুগল ইমেজ। 
ইচ্ছেমতি ওয়েব ম্যাগাজিনে প্রকাশিত
 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যেদিন বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম

                        ওপারেতে বৃষ্টি এল ঝাপসা গাছাপালা,                    এপারেতে মেঘের মাথায় একশো মানিকজ্বালা।                     বাদলা হাওয়া মনে পরে ছেলেবেলার গান,                        বৃষ্টি পরে টাপুর-টুপুর নদে এল বান।                        বৃষ্টির কিছু নিয়ম আছে, সে যখন তখন ঝড়ে পড়ে না। ইচ্ছে হলেও না। অনেকটা ঠিক আমাদের মতন, আমরা যেমন চাইলেও কাঁদতে পারি না সবসময়। কান্নার কথা লিখতে গিয়ে মনে পড়ল ক্লাস এইটে এই বৃষ্টির দিনেই একদিন খুব কেঁদেছিলাম। বিকেলে ...

মণিপুর জ্বলছে! কিন্তু কেন? অন্তিম পর্ব।

  সূচনা। বর্তমান দাঙ্গার সূত্রপাতের কারন হিসেবে যদি কিছু পয়েন্টকে লিস্ট করা যায় তাহলে দাঁড়ায়- বীরেন সিংয়ের রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদ, পোস্ত চাষের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান, অনিবন্ধিত অভিবাসন, কুকিল্যান্ডের দাবি এবং মেইতেই পুনর্জাগরণবাদ।  গত বছরের এপ্রিলে বহুদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভের স্ফুলিঙ্গ  জ্বলন্ত উত্তেজনাকে প্রজ্বলিত করে। অসম রাইফেলসের উপস্থাপনায় এই সময়কালকে "সূচনা" হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই মাসে, মণিপুর হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে মেইতেই সম্প্রদায়কে তফসিলি উপজাতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদনগুলি বিবেচনা করতে বলেছিল-সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী মণিপুরের পাহাড়ি অঞ্চলগুলিতে কুকিদের দ্বারাই বেশিরভাগ সম্পত্তির মালিকানা আছে। 1960 সালের মণিপুর ভূমি রাজস্ব ও ভূমি সংস্কার আইন শুধুমাত্র তফসিলি উপজাতিদের পার্বত্য অঞ্চলে জমি কেনার অনুমতি দেয়। মণিপুরের শীর্ষস্থানীয় উপজাতি নাগরিক সমাজের সংগঠন অল ট্রাইবাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন মণিপুরের পাহাড়ি জেলাগুলিতে যেখানে উপজাতি সম্প্রদায়ের আধিপত্য রয়েছে সেখানে "সংহতি মিছিল" করার আহ্বানের দেয়।  ৩রা মে সেনাপতি, উখরুল, কাংপোকপি, ত...

নিয়তির কাছে যা যা বলার ছিল

নবারুণ সেই কবেই বলেছিলেন- “গাঁড় মারি তোর মোটরগাড়ির, গাঁড় মারি তোর শপিং মলের। বুঝবি যখন আসবে তেড়ে, ন্যাংটো মজুর সাবান কলের। পেটমোটাদের ফাটবে খুলি, ফাটবে মাইন চতুর্দিকে। গলায় ফিতে নেংটি বেড়াল, তার বরাতেই ছিঁড়বে শিকে”। আজ একুশ দিন শেষ হবার ছিল। শেষ হবার আগেই আরও উনিশ দিনের জন্য লকডাউন কার্যকর হয়ে গেল। প্রধানমন্ত্রী এসে বলেছেন সরকার বহু আগে থেকেই এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত ছিল। হয়ত ছিল কিন্তু কীভাবে ছিল সেই প্রশ্ন কি কেউ করেছে? তিনঘণ্টার নোটিশে দেশে জুড়ে সমস্ত রকমের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেল। আমরা আনন্দ পেলাম। এবারে দীর্ঘ ছুটি। ওয়ার্ক ফ্রম হোম। কিন্তু একবারও ভাবলাম না হোমলেস পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা। যাদের জন্য আমাদের ঝাঁ চকচকে সুন্দর শহরে এখনও বসন্ত এলে আমরা প্রেমে পড়ি। যত ছ্যাঁচড়া কাজের জন্য হাড়হাভাতে মানুষগুলো গ্রাম ছেড়ে শহরের কোণায় কোণায় আস্তাকুঁড়ে আস্তানা গারতে শুরু করে সেই চল্লিশ দশকের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময় থেকে। সত্যজিতের ‘পথের পাঁচালি’র কাশবনের মধ্যে দিয়ে রেলগাড়ি দেখে আমরা দৃশ্য ভাবনার তারিফ করি। কিন্তু রেলগাড়ি ব্যবহারের ইঙ্গিত বুঝতে ব্যর্থ হই। রেলগাড়ি শুধু কাশবনের মধ্য...