সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

নতুন এক পথ খোঁজার আশায়।

নিরুদ্দেশ আর অজ্ঞাতবাসের মধ্যে পার্থক্য কীসের? দুটোর ঠিকানাই তো অজানা। তাহলে? কিন্তু সব ছেড়ে, সবাইকে ছেড়ে সমস্ত কিছুর থেকে যদি হাত পা গুটিয়ে নিরালা নিরিবিলিতে দিন পনেরো কাটানো যায়। যেখানে কোন খবর পৌছবে না। শুধুই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার এক নিরলস প্রয়াস থাকবে। আপেক্ষিকভাবে হিমশীতল পরিবেশে শীতলতার স্পর্শ নেওয়ার থেকে অনেক গভীরে গিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলার কোন চর্চা থাকবে না। আপাতভাবে আমি কি বলতে চাইছি তা স্পষ্ট করা দরকার। দিন পনেরো শহর থেকে অনেক দূরে ছিলাম। শহরের, মানুষের কোন খবর পৌছনোর কোন মাধ্যম আমার কাছে ছিল না। যাওয়ার আগে ফেলে রেখে গিয়েছিলাম এক মর্মান্তিক মৃত্যুবাহী শব যাত্রার মিছিলকে। ফেলে রেখে গিয়েছিলাম রাজনীতিকদের আগোচর মন্তব্যকে। লেখার কোন প্রয়াস তখন করিনি। কারন সমবেদনা জ্ঞাপন করার উদ্দেশ্য আমার ছিল না। আমার মনে হয়নি সমবেদনা দিয়ে মাতৃহীন পুত্রের মর্মান্তিক মৃত্যুর শোকে বিহ্বল পিতাকে সান্ত্বনা দেওয়া যায়। আমি একটা অন্য পথ খুঁজছিলাম যে পথে গেলে একটা বিচারবিভাগীয় তদন্তের থেকেও অন্য এক মাত্রায় পৌঁছানো যাবে যেখানে কাউকে হারানোর ক্ষোভ, শোক থাকবে না, তার মৃত্যু...

স্বীকারোক্তি

আজ সর্বতভাবে স্বীকার করতে ক্ষতি নেই যে, পশ্চিমবঙ্গ ভারতের মধ্যে একটি দুর্বল রাজ্য। তার দুর্বল তার অধিবাসীরা। তবে সর্বাপেক্ষা দুর্বল এখানকার রাজনীতিকরা, তদুপরি মাননীয় মন্ত্রীরা। যারা সবসময় তাদের সেপাই সান্ত্রীদের পিছনে থেকে আশ্বাস বাণী দেন, আর আমরা তা দুচোখ বুজে হাসি মুখে মেনেনি। জলজ্যান্ত সাতখানা প্রাণ যেতে পারত কিন্তু তাতে কার ভ্রুক্ষেপ নেই, সগর্বে বলে ওঠা যায় “ সব পরিকাঠামো ঠিকই ছিল দু-চারটে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া আর কিছুই তেমন ভাবে হয়নি। সব কিছুই সুস্থ ভাবে সম্পন্ন হয়েছে”। ১ ঘন্টার পরীক্ষার জন্য মানুষ ৪ ঘণ্টা পরিশ্রম করে অক্লান্ত জার্নি করে পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছে, তারপর জেনেছে যে তার পরীক্ষার সিট তো অন্য জায়গায় পড়েছে। দু-তিন খানা ট্রেন বদল করে, দমবন্ধকর পরিস্থিতির মধ্যে প্রায় ৩২ ডিগ্রি গরমে হাঁসফাঁস করতে করতে প্রায় শুকিয়ে যাওয়া শরীর নিয়ে বাসের ছাদে, লরির দেওয়ালে, ট্রেকারের রদ ধরে ঝুলতে ঝুলতে যখন পরিক্ষাস্থলে উপস্থিত তখন তো প্রায় পরীক্ষা শেষ, তবুও ১৫ মিনিট তো বসতে হল, কিন্তু যারা তার পরে এলেন তারা তো পরে পুরো পরীক্ষা দিলেন, তারবেলা? পরিক্ষাকেন্দ্রে বিদ্যুতের ব...

আত্মহত্যা

আত্মহত্যা করা ছাড়া কোন উপায় ছিল না তার। নেহাতই মৃত্যুর কাছে বশ্যতা স্বীকার করা। যখন আকাশে জর হয়েছিল রাতের তারারা, কেউ ছুঁয়ে দেখেনি তার গায়ের উষ্ণতা, মাথার কাছে কেউ গায় নি ঘুমপাড়ানি গান। তাই ঘুমের ঘোরে মৃত্যু উপত্যকার গভীর স্রোত তাকে ডেকে নিয়েছিল চোরাবালির কোঠরে, অগত্যা আত্মহত্যাই ছিল শেষ পথ। যার হাটার রাস্তাটা অন্য ছিল, পাথুরে ছিল, কেউ কোনদিনও দেখেনি পায়ের তলার দগদগে ঘা, ধামাচাপা পড়ে গিয়েছিল তা সস্তার জুতোর বহরে। লাল রঙের কোন জুতো ছিল না বলে, রক্তের দাগ মিলিয়ে যায় নি, ছোপছোপ লেগে আছে আজও শহরের প্রতিটি রাস্তায়, আর মিশে আছে কিছু খিদে জড়ানো ঘাম, তাই মুক্তির দরকার ছিল- প্রতিটি শিরার, প্রতিটি ধমনীর সর্বপরি শরীরের, অগত্যা আত্মহত্যাই ছিল শেষ পথ। যার কোন কবিতাই ছাপা হল না পদ্যের আকারে, বিপ্লবের অশ্রুপাত ঝড়লো শুধু কলমের গোড়ায়, মানুষের মুখ পিছলে বেরলো না একটাও শব্দ। যুদ্ধ বিরতির শেষ পর্যায়ে তাই মৃত্যুই ছিল একান্ত কাম্য, শহীদের খেতাব তার আর জুটলো না। অগত্যা আত্মহত্যাই ছিল শেষ পথ, তাই তার আত্মহত্যাই করা ছাড়া, আর কোন উপায় ছিল না।।

চিন্তায় ভাবনায় সবসময় শুধু তুমি।

কি মনে হয়েছিল সেদিন আমাদের যেদিন আমরা আমাদের মায়ের মৃতদেহের পাশে দাড়িয়ে ছিলাম। ঠিক ভাবতে পারেন? এক চরম হতাশা হয়ত আপনাকে গ্রাস করেছিল। আমি জানি না, আমায় এখনও সেই অবস্থার সম্মুখীন হতে হয় নি। কিন্তু বুঝেছি কবি রণজিৎ দাসের কবিতার পঙক্তিতে -“মায়ের মুখাগ্নি করে ছেলের অকৃতজ্ঞ হাত”। কেন এসব কথা আজ বলছি, কেন হঠাৎ মায়ের প্রতি আমার এত স্নেহ উথলে উঠল। না এটা স্নেহের প্রশ্ন নয়। ভালবাসারও নয়। সব সন্তানই তার মায়ের প্রতি দায়িত্বশীল। এটাই জীবনের নীতি। যদিও এই নীতি বহুদিন আগেই ভেঙে গেছে, ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলাবাহুল্য। সামাজিক চাপে বারবার দিশেহারা হয়ে উঠেছিল শুকনো মুখগুলো, বারবার নুইয়ে দেওয়া হচ্ছিল তাদের। তাই হঠাৎ আজ আবেগঘন হয়ে পড়লাম। মায়ের মুখ দিয়ে শুরু করলাম তাই। একবারও কি মায়ের মুখে অগ্নি সংযোগ করতে আমাদের কারোর হাত কাঁপে? সেই, যে ছেলেটা বিয়ের পর বিধবা মাকে একা ফেলে চলে গেল, আর মায়ের মৃত্যুতে পড়শি বয়স্ক জ্যেঠুর ডাকে আবার ফিরে এসে শ্রার্দ্ধ কাজ সম্পন্ন করে আবার ফিরে গেল ২০০০ স্কোয়ার ফিটের ঝাঁ চকচকে ফ্ল্যাটে, সে কি একবারও জানতে চেয়েছিল কিভাবে তার মা বাকিদিন গুলো কাটিয়েছিল? না মনে হয়, যদি জানতে চাইত তা...

রবি ঠাকুরের আপন দেশে ......আইন কানুন সর্বনেশে

  রবি বাবুর বিক্রি আজকাল খুব বেড়ে গেছে। পথে -ঘাটে-ফুটপাথে, রেলিঙে-সিলিঙে-দার্জিলিঙে প্রায় সমস্ত যায়গায়। বিশেষত ওনার ১৫০ তম জন্মবর্ষটাই ওনাকে আরও বাণিজ্য সুলভ করে তুলেছে। তার ওপর আবার পট পরিবর্তন, পাঠ্য পরিবর্তন। সবই আদরের রবিকে বাঙালির কাছে আরও আদরিত করে তুলেছে। হইহই করে আবার সবাই রবীন্দ্রসঙ্গীত এর প্রেমে পড়ছে, ২৫শে বৈশাখ সরকারী ছুটির দাবিতে গন আন্দোলন করছে, প্ল্যানচেটে রবিকে ডেকে এনে তার না পূরণ হওয়া ইচ্ছের কথা জানতে চাওয়া হচ্ছে,  এভাবেই চলেছে গোটা বছরটা।এবার ১৫০ তম বছরটা শেষ হয়ে ১৫১ তে পড়েছে, তাই উৎসব আরও বেড়ে গেছে। নিরঙ্কুশ প্রেমের দাপটে, অর্থহীন বাক্যের সংলাপে,আজকের দিনেও আবার বিতর্ক, মিছিল, স্লোগান ধনুক ভাঙা পণ, শতপদের কুচকাওয়াজ, রাশভারী মন- সব শেষে মিশে গিয়ে আবার সাদা ফুলের মালায় জোব্বা পড়া দাড়িওয়ালার গানকে সবাই আপন করে গেয়ে উঠেছে। শীতকালীন মেজাজ থাকলে হয়ত এটা হত না গ্রীষ্মের দাবদাহ থেকে মুক্তির জন্যই হয়ত মিলে গলা মিলিয়েছেন। কিন্তু গুরুদেব তো বলে যাননি যে আমার জন্মতিথি তোমরা সবাই মিলে প্রভাতের রবির আগমনের সাথেই পালন কর।এক ...

ষোলআনা

                    বিদীর্ণ এ বক্ষে, ললাট লিখন কার, সময় আমার ত্যাজিত, বিধাতা হুনহার, না পাওয়ার বাসনা, চেনা পরিচিত ছবি হট্টগোলের মাঝে, অস্তমিত আজকের রবি। কারও মন টানে না, চোখেও ভাসে না গেরুয়াবসনধারি, মন মানে না অবুঝ আমার, তোমার কুসুম ভারি। কিছুতেই সব শেষ হয় না, জীবন বড়ই অদ্ভুত। পাওয়া না পাওয়ার বাসনাতে ছক্কা থেকে স্ব পুট। ঐ চোখ আজ চায় না, শুধুই আমার পানে গল্প হলেও সত্যি হত, যদি পেতাম এর ভুল মানে। হুঙ্কার দিয়ে উঠি আমি, ত্যাগের এ নরকরাজ্যে কোথায় আমার ষোলআনা? চারকাঁধে আজ সে বহির্রাজ্যে ।।         "জঞ্জাল" এর চতুর্থ সংখ্যায় প্রকাশিত.........                            

বছর ২০ পর... তোমাকে চাই

আমার বয়স তখন সে রকম হয় নি যে আমি সেই সময় ই সেটা শুনব। শুনেছিলাম আবির্ভাব হওয়ার বেশ কিছুদিন পর দিনকক্ষণ ঠিক মনে না থাকলেও তখন আমি ক্লাস নাইনে পরি এটা মনে আছে। সবে হাফ প্যান্ট ছেড়ে ফুল প্যান্ট পরা ধরেছি, তাও আবার বাবার ভয়ে সেকেলে মার্কা সেই প্লেট দেওয়া ভাজ খাওয়ানো প্যান্ট। সবে আবার মহব্বতে সিনেমাটার পর বেলবক্স এর ফ্যাশনটা চালু হয়েছে, সবাই আবার সেই ঢেউ খেলানো আপাদ মস্তক পা ঢাকা প্যান্টে কেতা দেখাচ্ছে আর আমি ভয়ে নিজের সামনে নিজেই ঘ্যান ঘ্যান করছি। সবে মাত্র প্রেম র পরিযায়ী ভাষা টা একটু একটু করে বুঝতে শিখেছি পালিয়ে বাংলা ছবি দেখে এসে ঘরে বসে নিজের সেই প্রথম ডায়েরিতে গুন গুন করে নিজের অজান্তেই কখন যে সেই দু চার কথা লিখেছি তা আজও যেন চোখের সামনে ভাসে। চোখ বুজলেই যেন সেই সময়ে আবার আমি হাত বারালেই যেতে পারি... কিন্তু না আজ তা থেকে অনেক দূরে চলে এসেছি। প্রেম নামক বস্তুতার সাথে সরাসরি তখনও আমার যোগাযোগ হয় নি কিন্তু না হলেও প্রথম সেটার অনুভূতিটা অনুভব করেছিলাম সেই বারেই যেবার আমি ধূসর রোদে নদীর ধারে বসে লাল সালোয়ারে তাঁকে প্রথম দেখেছিলাম আর বাড়িতে এসে প্রথম বার আমার সেই সময়ে...