সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বছর ২০ পর... তোমাকে চাই





আমার বয়স তখন সে রকম হয় নি যে আমি সেই সময় ই সেটা শুনব। শুনেছিলাম আবির্ভাব হওয়ার বেশ কিছুদিন পর দিনকক্ষণ ঠিক মনে না থাকলেও তখন আমি ক্লাস নাইনে পরি এটা মনে আছে। সবে হাফ প্যান্ট ছেড়ে ফুল প্যান্ট পরা ধরেছি, তাও আবার বাবার ভয়ে সেকেলে মার্কা সেই প্লেট দেওয়া ভাজ খাওয়ানো প্যান্ট। সবে আবার মহব্বতে সিনেমাটার পর বেলবক্স এর ফ্যাশনটা চালু হয়েছে, সবাই আবার সেই ঢেউ খেলানো আপাদ মস্তক পা ঢাকা প্যান্টে কেতা দেখাচ্ছে আর আমি ভয়ে নিজের সামনে নিজেই ঘ্যান ঘ্যান করছি। সবে মাত্র প্রেম র পরিযায়ী ভাষা টা একটু একটু করে বুঝতে শিখেছি পালিয়ে বাংলা ছবি দেখে এসে ঘরে বসে নিজের সেই প্রথম ডায়েরিতে গুন গুন করে নিজের অজান্তেই কখন যে সেই দু চার কথা লিখেছি তা আজও যেন চোখের সামনে ভাসে। চোখ বুজলেই যেন সেই সময়ে আবার আমি হাত বারালেই যেতে পারি... কিন্তু না আজ তা থেকে অনেক দূরে চলে এসেছি। প্রেম নামক বস্তুতার সাথে সরাসরি তখনও আমার যোগাযোগ হয় নি কিন্তু না হলেও প্রথম সেটার অনুভূতিটা অনুভব করেছিলাম সেই বারেই যেবার আমি ধূসর রোদে নদীর ধারে বসে লাল সালোয়ারে তাঁকে প্রথম দেখেছিলাম আর বাড়িতে এসে প্রথম বার আমার সেই সময়ের সবচেয়ে প্রিয় বস্তু রেডিও টা কানে দিয়ে কোন এক এফ.এম চ্যানেল শুনেছিলাম "প্রথমত আমি তোমাকে চাই, দ্বিতীয়ত আমি তোমাকে চাই............... শেষ পর্যন্ত আমি তোমাকে চাই"। একটা জোরালো হিন্দোল তুলেছিল আমার হৃদয়ের গভীরে সেই সময় এই কটা লাইন এই গানটার। তখন ও জানতাম না কে ইনি যে গান টা লিখেছে গেয়েছে, জেনেছিলাম বেশ কিছুদিন পর। কিন্তু গানটা আমার মধ্যে একটা বস্তুর সৃষ্টি করেছিল সেই সময়,যা আজও বয়ে নিয়ে বেরাচ্ছি। প্রিয় কিছু না পাওয়ার পর সেটা পাওয়ার জন্য একটা গভীর আবেগ। খাতার ভিতর সেই তার নাম আর পাশে গানটার দুটো লাইন, আবাক লাগে আজ তা ভাবলে কি বোকা বোকা কাজ একটা নরম পোশাকে কিছু জোরালো হাওয়া লাগানো অনুভূতির রুমালে মোরা একটা পাগলামি একটা না পাওয়ার বেদনায় মিশ্রিত কিছু অশ্রুঝরা কথা আর তা লেখা আমার খাতায়। না সত্যি ই সেটা বোকা বোকা কাজ ছিল না কেননা আজকের মতন তখন তো আমার ফেসবুক টা ছিল না তাই আমার সেই খাতাটাই একমাত্র ভরসা ছিল যে খাতাটা কেউ কোনদিনও খুলে দেখে নি তা ঠিক কিন্তু এটাও ঠিক সেই খাতায় লেখা দুটো লাইন আমার প্রেম এ মোরা সেই ভগ্ন হৃদয় কে আজও তো সান্ত্বনা দেয়। সুমন বাবুর নাম অনেক দিন পরে শুনেছিলাম শুনে তার কথা শুনতে ইচ্ছা করেছিল খুব। তারও বহুদিন বাদে একটা কাগজে ওনার সাক্ষাতকার পরেছিলাম। কি পরেছিলাম তা আজ মনে নেই কিন্তু এটা মনে আছে আমার খাতার দুটো লাইন ওনাকে নাকি সেই সময় খুব কষ্টের মধ্যে ফেলত কেননা যে কোন অনুস্টানে। মানুষ নাকি ওই গানটাই তার কাছে বারবার শুনতে চাইত। আমার কিন্তু এটা পরে খুব কষ্ট হয়েছিল কেননা আমি তখনও ওনার কোন অনুস্টান দেখে নি এফ.এম শুধু মাঝে মাঝে ওনার গান শুনেছি আর অমোঘ হয়েছি বারবার।
বহুদিন বাদে আমারই সেই সময়ের এক প্রেমিকাকে একটা চিঠি লিখেছিলাম যেটার প্রথম দুটো লাইন ছিল "প্রথমত আমি তোমাকে চাই, দ্বিতীয়ত আমি তোমাকে চাই............... শেষ পর্যন্ত আমি তোমাকে চাই"। সেই চিঠি আজও তাঁকে দেওয়া হয় নি বহুবার ভেবেছি তাঁকে না হোক তার পরবর্তী কাউকে দেবো কিন্তু আজও তা হয়ে ওঠে নি, হয়ত হবে ও না কারন এখন দিলে তো সে বলেই দেবে " নিজের স্টকে কিছু নেই কবির সুমন কে ঝেরে চালিয়ে দিলে"। না আসলে সে তো বুঝবেই না ওটা শুধু সুমন বাবুর লেখা দুটো লাইন না, ওটা আমার অনুভূতি, আমার মানসিকতার উন্মোচিত বোধ, ফেলে দেওয়া শিউলি ফুলের মতই আমার ভগ্ন দেওয়ালে লেখা একটা অবচেতন মনের রঙিন হওয়ার মুহূর্তে চেতনাহীন বোধের উপস্থিতিতে ভালবাসার এক গভীর বহিঃপ্রকাশ। যা আজও শুধুই খাতায় ই লেখা থেকে গেল কোন পৌষ মাসের কোন এক শীতলতম রাতে কেউ উষ্ণ হাতে স্পর্শ করল না। আমি আবার শুধুই গুন গুনিয়েই গেলাম মিষ্টি কোন স্বরের আভাস পেলাম না।
আজও বহুবার মনে হয় সৃষ্টিকর্তার এই অমোঘ সৃষ্টি শুধু আমার কৈশোর কালকেই নয় আমার যৌবনকেও আস্টেপৃস্টে জরিয়ে আবার শহরের বৃষ্টিতে ভেজার জন্য ডাক দিচ্ছে।
তাই আজ যখন তার ২০ বছর পূর্ণ হচ্ছে আমিও আবার তাই আমার সৃষ্ট সেই অনুভূতির আবেগাবৃত হয়ে বেশ কিছু না বলা কথা বললাম আর নাগরিক কবিয়ালকে আবার অভিনন্দন আমার অনুভুতিতাকে এখনও জীবিত রাখার জন্য।
তাই আজ সেই চিঠির প্রথম দুই আবার লিখে গেলাম হয়ত সে কোনদিনও পড়বে বা নয় তবুও আজ না হয় অনুভূতি তাই বোঝালাম আবেগের বশে...।

"প্রথমত আমি তোমাকে চাই, দ্বিতীয়ত আমি তোমাকে চাই,............ শেষ পর্যন্ত আমি তোমাকে চাই।"



মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ধন্যবাদ অসংখ্য।

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যেদিন বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম

                        ওপারেতে বৃষ্টি এল ঝাপসা গাছাপালা,                    এপারেতে মেঘের মাথায় একশো মানিকজ্বালা।                     বাদলা হাওয়া মনে পরে ছেলেবেলার গান,                        বৃষ্টি পরে টাপুর-টুপুর নদে এল বান।                        বৃষ্টির কিছু নিয়ম আছে, সে যখন তখন ঝড়ে পড়ে না। ইচ্ছে হলেও না। অনেকটা ঠিক আমাদের মতন, আমরা যেমন চাইলেও কাঁদতে পারি না সবসময়। কান্নার কথা লিখতে গিয়ে মনে পড়ল ক্লাস এইটে এই বৃষ্টির দিনেই একদিন খুব কেঁদেছিলাম। বিকেলে ...

মণিপুর জ্বলছে! কিন্তু কেন? অন্তিম পর্ব।

  সূচনা। বর্তমান দাঙ্গার সূত্রপাতের কারন হিসেবে যদি কিছু পয়েন্টকে লিস্ট করা যায় তাহলে দাঁড়ায়- বীরেন সিংয়ের রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদ, পোস্ত চাষের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান, অনিবন্ধিত অভিবাসন, কুকিল্যান্ডের দাবি এবং মেইতেই পুনর্জাগরণবাদ।  গত বছরের এপ্রিলে বহুদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভের স্ফুলিঙ্গ  জ্বলন্ত উত্তেজনাকে প্রজ্বলিত করে। অসম রাইফেলসের উপস্থাপনায় এই সময়কালকে "সূচনা" হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই মাসে, মণিপুর হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে মেইতেই সম্প্রদায়কে তফসিলি উপজাতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদনগুলি বিবেচনা করতে বলেছিল-সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী মণিপুরের পাহাড়ি অঞ্চলগুলিতে কুকিদের দ্বারাই বেশিরভাগ সম্পত্তির মালিকানা আছে। 1960 সালের মণিপুর ভূমি রাজস্ব ও ভূমি সংস্কার আইন শুধুমাত্র তফসিলি উপজাতিদের পার্বত্য অঞ্চলে জমি কেনার অনুমতি দেয়। মণিপুরের শীর্ষস্থানীয় উপজাতি নাগরিক সমাজের সংগঠন অল ট্রাইবাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন মণিপুরের পাহাড়ি জেলাগুলিতে যেখানে উপজাতি সম্প্রদায়ের আধিপত্য রয়েছে সেখানে "সংহতি মিছিল" করার আহ্বানের দেয়।  ৩রা মে সেনাপতি, উখরুল, কাংপোকপি, ত...

নিয়তির কাছে যা যা বলার ছিল

নবারুণ সেই কবেই বলেছিলেন- “গাঁড় মারি তোর মোটরগাড়ির, গাঁড় মারি তোর শপিং মলের। বুঝবি যখন আসবে তেড়ে, ন্যাংটো মজুর সাবান কলের। পেটমোটাদের ফাটবে খুলি, ফাটবে মাইন চতুর্দিকে। গলায় ফিতে নেংটি বেড়াল, তার বরাতেই ছিঁড়বে শিকে”। আজ একুশ দিন শেষ হবার ছিল। শেষ হবার আগেই আরও উনিশ দিনের জন্য লকডাউন কার্যকর হয়ে গেল। প্রধানমন্ত্রী এসে বলেছেন সরকার বহু আগে থেকেই এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত ছিল। হয়ত ছিল কিন্তু কীভাবে ছিল সেই প্রশ্ন কি কেউ করেছে? তিনঘণ্টার নোটিশে দেশে জুড়ে সমস্ত রকমের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেল। আমরা আনন্দ পেলাম। এবারে দীর্ঘ ছুটি। ওয়ার্ক ফ্রম হোম। কিন্তু একবারও ভাবলাম না হোমলেস পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা। যাদের জন্য আমাদের ঝাঁ চকচকে সুন্দর শহরে এখনও বসন্ত এলে আমরা প্রেমে পড়ি। যত ছ্যাঁচড়া কাজের জন্য হাড়হাভাতে মানুষগুলো গ্রাম ছেড়ে শহরের কোণায় কোণায় আস্তাকুঁড়ে আস্তানা গারতে শুরু করে সেই চল্লিশ দশকের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময় থেকে। সত্যজিতের ‘পথের পাঁচালি’র কাশবনের মধ্যে দিয়ে রেলগাড়ি দেখে আমরা দৃশ্য ভাবনার তারিফ করি। কিন্তু রেলগাড়ি ব্যবহারের ইঙ্গিত বুঝতে ব্যর্থ হই। রেলগাড়ি শুধু কাশবনের মধ্য...