সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পাগল ছাড়া দুনিয়া চলে না





বাস্তববাদী হওয়া আর সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলা সবটাই বোধহয় আজকের দিনে নিছক মিথ্যে একটা প্রহসন। তাই লোক না হাসিয়ে আমরা সত্যিই কি আয়নার সামনে দারিয়ে আজ নিজের মুখোমুখি হতে পারি, পারি কি আমারই  স্বপ্নে দেখা আমার মতন সেই মানুষটার সামনে গিয়ে দাড়াতে, পারি কি নিজের মত কাউকে খুঁজে পেতে হয়ত পারি কেননা সত্যিটা মেনে নেওয়ার মত সাহস আজকের দিনে দারিয়ে আমাদের নেই, না হলে বিনায়ক সেনের মত মানুষকে জেলে থাকতে দেখে আমরা রোজ রাতে শান্তির নীড়ে অক্লান্ত শরীরটাকে নরম গদিতে এলিয়ে দিতে পারতাম না!  এটাই আজকের রীতি, সমাজের সাদা নীল বাসভবনের এটাই তো নতুন বৈচিত্র্য। গলা ফাটিয়ে কিছু বোঝালেও আমরা তা বুঝতে  অক্ষম তাই কাউকে বোঝানোর কোন প্রয়োজনও নেই যেদিন আমাদের বেহাল দশার কথা আমরা নিজেরাই বুঝতে পারবো সেদিন সমস্ত কিছুর উর্দ্ধে উঠে আমরাই পারবো এ জগতের সবচেয়ে বুদ্ধিমান জীবের মতন আচরণ করতে। তাই কাউকে বলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই সেদিন আমরা কিভাবে আমাদের ঘুম ভাঙাবো। ঘুম ভাঙবার হলে এমনিতেই ভাঙবে কারোর ডাকবার প্রয়োজন নেই। আমরা তো আর ঘুমের বড়ি খেয়ে রাজনীতিকদের  মত ঘুমোই না যে কুম্ভকর্ণের মতন আমাদের অবস্থা হবে, আর আমাদের ১০ তা মাথাও নেই যে একটা জাগলে আর একটা ঘুমাবে, বাকিদের  আবার আলাদা করে জাগাতে হবে। আমাদের ঘুম খুব শীঘ্রই ভাঙবে। ২০ বছর ধরে যে পথ চলে আমরা প্রায় ১০০০ বছরের পথ অতিক্রম করে এসেছি , আর এসেও সেই একই ভগ্ন হৃদয় নিয়ে একই রোদ ঝলসানো একই বৃষ্টিতে ভেজা নগ্ন শরীর দেখে আসছি, তার গায়ে জামা চাপানোর জন্য আমাদের এবার ঘুম থেকে উঠতেই হবে। তবেই হয়ত সেটা আক্ষরিক অর্থে পরিবর্তনের রূপ নেবে, কেননা সেটা মানসিক পরিবর্তন, সামাজিক লোকহাসানো পরিবর্তন নয়, মৌখিক জোরালো আওয়াজের বদলে পরিবর্তন নয়, পরিবর্তন নয় দেওয়াল লিখনের, পরিবর্তন নয় গণতন্ত্রের। যেদিন আমার খাবারের পরও আরও ৫০ টা লোক খেতে পারবে সেদিনই  হবে সামাজিক পরিবর্তন তার আগে নয়, তাই তার আগে মানসিক পরিবর্তনের একান্ত প্রয়োজন। রাস্তায় ভিখিরিকে সাহায্য করলেই মানবিক হওয়া যায় না, পাশের বাড়ির বড় আম গাছের আম না পারলেই ভদ্র হওয়া যায় না, পরিষ্কার জামা কাপড় পরে চুল দাড়ি কেটে সুন্দর থাকলেই আপাত অর্থে সুন্দর হওয়া যায় না। সুন্দর যদি হতেই হয় তাহলে কিভাবে আমার চারপাশটা সুন্দর রাখতে পারি তার কথাও ভাবা দরকার। নোংরা কাগজটা ডাস্টবিনে ফেললেই চারপাশ সুন্দর রাখার চেষ্টা করা হয় না ওটা যদি না করি তাহলে হয়ত আমাদের চারপাশটা আমাদের বাড়ির মতও হয়ে যায় না যেখানে কোন এক শীতের সকালে আমার লেপের তলার গরম পরিবেশে আমি কোন এক পরিচিত হাতের ঠাণ্ডা স্পর্শ পাই। তাই নিজের জ্ঞানের কথা নিজের ভাল সাজার কথা আজ তোলাই থাক তোলা থাক তোমাদের সবার হেও করার নীতিকথাও। আমি তো আর তোমাদের মতন সুন্দরও নই আর থাকার চেষ্টাও করি না ডাস্টবিনে নোংরা কাগজটাও ফেলি না, আমি কুৎসিত আমি নোংরা আমি দাবীও করি না আমি জ্ঞানি। আমি প্রতিবাদও করি না তোমাদের মতন আমার সাহসও নেই করার, আমি শুধু চেয়ে দেখি তোমাদের যারা আমায় বলে অকর্মা, নীতিজ্ঞান হীন, স্বার্থপর, মিথ্যেবাদী, হেও করে সত্য অন্বেষণ করি বলে, আসলে মিথ্যাতাকে সত্যি বলে আমি নাকি প্রচার করি বলে তারা দাবী করে তারাই তো সত্যি কথা বলে। না হলে সর্বাধিক প্রাচারিত বাংলা দৈনিকের মুখবন্ধের হুমকি তারা  দেয়! তারাই তো এ সভ্যতার অগ্রগতির প্রতীক। তাদের হাতেই তো পতাকা। যে পতাকায় শুঁয়োপোকা আজও গুটির মধ্যে থেকে প্রজাপতি  হয়ে বের হয় না কারন সেও চায় পতাকা বাহনের মত নিজের ঘরে নিজের খাবার গুছিয়ে রেখে  নিজে লুকিয়ে থাকতে।
তাই যারা আমায় আধপাগলা বলে হেও করে তারা ঠিক করে আমি তো তাই সেই জন্যই তো চেখে দেখতে যাই ট্রামের তলায় একটা মানুষ কিভাবে চাপা পরে মারা যায়, ভাবি কিভাবে ফেম প্রেম নেম সব থাকার পরও  একটা মানুষ অতি নৃশংস ভাবে নিজেকে মারতে পারে, কোন যুক্তিতে একজন সর্বকালের সেরা সঙ্গিতজ্ঞকে নিজের বাড়ির সামনে গুলি করে খুন করা হয়, কোন যুক্তিতে একজন অপরাধীকে সাজার বদলে জীবনের মজা দেওয়া হয়... কোন যুক্তিতে এ সমাজের এক জন প্রতিনিধিকে অন্য একজন প্রতিনিধির সাথে সম্পর্ক রাখতে বারন করা হয় কোন যুক্তিতে বলতে পার আমায় কেউ?
হ্যাঁ এই জন্যই আমি পাগল আমি নোংরা আমি কুৎসিত, তোমরা ঠিকই বল। রাস্তার যে পাগলটাকে দেখে তোমরা ঢিল মার আমি তার সাথে কথা বলি তার কথা শুনি চায়ের দোকানে বসে গল্প করি সুখদুঃখের, তার নয় এ সমাজের। তাই আমিই ঠিক তোমরা যাই বল আমায়। কেননা সে আমায় বলেছে " পাগল রাই সত্যি বলে... আর পাগল ছাড়া দুনিয়া চলে না।"
আমি পাগল তার অন্যতম প্রমান সেই রাতে আমি ঘুমায়নি যে রাতে ৯১ টা প্রান জ্যান্ত পুড়েছিল, আর সেদিন যেদিন আমি সেই পোড়া প্রাণ গুলির কথা বলেছিলাম তোমরা তা পরেও দেখনি। শুধু আমায় বলেছিলে আমি নাকি লেখার গুনগত মান বিচার করতে পারি না তাই তো আমি সেটার পক্ষে মত পোষণ করি নি যেটা তোমাদের ভাল লেগেছিল, তোমার আমার টিপটপ সংসার অথবা তোমার আমার ধুপধাপ সংসার।  
তাই তোমরা আমায় যা বল ঠিক বল আরও বল বেশী করে বল যাতে মৃত রিজয়ানুর আত্মার শান্তিতে আমি আবার শহীদ মিনারের তলায় মোমবাতি হাতে দাড়াতে পারি।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যেদিন বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম

                        ওপারেতে বৃষ্টি এল ঝাপসা গাছাপালা,                    এপারেতে মেঘের মাথায় একশো মানিকজ্বালা।                     বাদলা হাওয়া মনে পরে ছেলেবেলার গান,                        বৃষ্টি পরে টাপুর-টুপুর নদে এল বান।                        বৃষ্টির কিছু নিয়ম আছে, সে যখন তখন ঝড়ে পড়ে না। ইচ্ছে হলেও না। অনেকটা ঠিক আমাদের মতন, আমরা যেমন চাইলেও কাঁদতে পারি না সবসময়। কান্নার কথা লিখতে গিয়ে মনে পড়ল ক্লাস এইটে এই বৃষ্টির দিনেই একদিন খুব কেঁদেছিলাম। বিকেলে ...

মণিপুর জ্বলছে! কিন্তু কেন? অন্তিম পর্ব।

  সূচনা। বর্তমান দাঙ্গার সূত্রপাতের কারন হিসেবে যদি কিছু পয়েন্টকে লিস্ট করা যায় তাহলে দাঁড়ায়- বীরেন সিংয়ের রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদ, পোস্ত চাষের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান, অনিবন্ধিত অভিবাসন, কুকিল্যান্ডের দাবি এবং মেইতেই পুনর্জাগরণবাদ।  গত বছরের এপ্রিলে বহুদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভের স্ফুলিঙ্গ  জ্বলন্ত উত্তেজনাকে প্রজ্বলিত করে। অসম রাইফেলসের উপস্থাপনায় এই সময়কালকে "সূচনা" হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই মাসে, মণিপুর হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে মেইতেই সম্প্রদায়কে তফসিলি উপজাতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদনগুলি বিবেচনা করতে বলেছিল-সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী মণিপুরের পাহাড়ি অঞ্চলগুলিতে কুকিদের দ্বারাই বেশিরভাগ সম্পত্তির মালিকানা আছে। 1960 সালের মণিপুর ভূমি রাজস্ব ও ভূমি সংস্কার আইন শুধুমাত্র তফসিলি উপজাতিদের পার্বত্য অঞ্চলে জমি কেনার অনুমতি দেয়। মণিপুরের শীর্ষস্থানীয় উপজাতি নাগরিক সমাজের সংগঠন অল ট্রাইবাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন মণিপুরের পাহাড়ি জেলাগুলিতে যেখানে উপজাতি সম্প্রদায়ের আধিপত্য রয়েছে সেখানে "সংহতি মিছিল" করার আহ্বানের দেয়।  ৩রা মে সেনাপতি, উখরুল, কাংপোকপি, ত...

নিয়তির কাছে যা যা বলার ছিল

নবারুণ সেই কবেই বলেছিলেন- “গাঁড় মারি তোর মোটরগাড়ির, গাঁড় মারি তোর শপিং মলের। বুঝবি যখন আসবে তেড়ে, ন্যাংটো মজুর সাবান কলের। পেটমোটাদের ফাটবে খুলি, ফাটবে মাইন চতুর্দিকে। গলায় ফিতে নেংটি বেড়াল, তার বরাতেই ছিঁড়বে শিকে”। আজ একুশ দিন শেষ হবার ছিল। শেষ হবার আগেই আরও উনিশ দিনের জন্য লকডাউন কার্যকর হয়ে গেল। প্রধানমন্ত্রী এসে বলেছেন সরকার বহু আগে থেকেই এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত ছিল। হয়ত ছিল কিন্তু কীভাবে ছিল সেই প্রশ্ন কি কেউ করেছে? তিনঘণ্টার নোটিশে দেশে জুড়ে সমস্ত রকমের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেল। আমরা আনন্দ পেলাম। এবারে দীর্ঘ ছুটি। ওয়ার্ক ফ্রম হোম। কিন্তু একবারও ভাবলাম না হোমলেস পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা। যাদের জন্য আমাদের ঝাঁ চকচকে সুন্দর শহরে এখনও বসন্ত এলে আমরা প্রেমে পড়ি। যত ছ্যাঁচড়া কাজের জন্য হাড়হাভাতে মানুষগুলো গ্রাম ছেড়ে শহরের কোণায় কোণায় আস্তাকুঁড়ে আস্তানা গারতে শুরু করে সেই চল্লিশ দশকের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময় থেকে। সত্যজিতের ‘পথের পাঁচালি’র কাশবনের মধ্যে দিয়ে রেলগাড়ি দেখে আমরা দৃশ্য ভাবনার তারিফ করি। কিন্তু রেলগাড়ি ব্যবহারের ইঙ্গিত বুঝতে ব্যর্থ হই। রেলগাড়ি শুধু কাশবনের মধ্য...