সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

জীবনের আশায়... নতুন বছরের স্বাদ


আরও একটা দিন কেটে নতুন সূর্য উঠেছে, যে সূর্যের রঙটা হয়ত একই কিন্তু তা হলেও তা নতুন সূর্য, যে তাপটা হয়ত একটু বেশী ছিল বলে গরমটা একটু বেশী পড়েছিল, তেমন আর বেশী কিছু হয়নি। তবুও তা নতুন সূর্য, নতুন রঙের সূর্য কেননা তা নতুন বছরের সূর্য। 
আর পাঁচটা দিনের মতই বছরের নতুন দিনটাও ছিল।তবু ও সবার মতই আমার কাছেও হয়ত একটা অন্যরকম অনুভূতি ছিল। যেখানে প্রেম ছিল, ভালবাসা ছিল, আবার জড়ো হওয়া কিছু পুরাতন বেদনা ও ছিল। যে বেদনা গুলো আমায় আবার নতুন করে নতুন বছরের স্বাদটাকে উপলব্ধি করতে শেখায় আবার কখন বেদনার রঙে নতুন বছরের নতুন জ্যোৎস্না মাখা দিনটাকে মলিনও করে দেয়। তাই মিলেমিশে হয়ত প্রতি বছরেই ভালমন্দ থাকে। তাই এটাও আলাদা কিছু নয় আরও পাঁচটা পেরিয়া আসা বছরের মতই আরও একটা নতুন বছ্র।জেতা আবার ৩৬৫ দিন পার হয়ে আবার একটা নতুন বছর শুরু হবে।
নতুন বছরের শুরুতে সবার অনেক প্রতিজ্ঞা স্বাদ আহ্লাদ থাকে। এবারও থাকবে তার কোন ব্যতিক্রম হবে না। বছরের শুরুর দিনটাতে হইহই করে সবাই ঘুরতে বের হবে, খাবে দাবে ঘুরবে আর আবার ব্যতিক্রমী হবার চেষ্টা করবে। না, এটাও প্রতিবারের মতই ওই প্রচেষ্টাই থেকে আলাদা করে এর জন্য সময় পাওয়া যাবে না। যেটা পাওয়া যাবে তা হল কিছু নতুন সংযোজিত কথা যেটা সে নিজের সাথেই বলবে আর মাঝে মাঝেই আবার হারিয়ে ফেলবে। জীবন থাকলে বেদনাতো থাকবেই আগুন থাকলে পুড়তে তো হবেই। তাই লাভ হবে না প্রতিজ্ঞা করে কি করব আর কি না করব তার কথা ভেবে। কেননা এই ভাবনা গুলো সব বিফলেই যাবে তার থেকে ভাল না ভাবা। যদি ভাবতেই হয় তো অন্য কিছু ভাবব ----
যেমন......
এবার থেকে জনসমক্ষে আর ধূমপান করব না...।
পাইরেটেড সঙ্গীত এর ক্যাসেট আর কিনবও না...শুনবও না...
ভাত ডালেই অগাধ পুষ্টি ভেবে বাইরের বিরিয়ানিতে আর মজব না...... ইত্যাদি ইত্যাদি...
লিখতে থাকলে এ লেখা চলবেই ... এই হিসেবের কোন শেষ হবে না।
প্রেম করতে চাইলে ভালবাসাতো আসবেই সাথে অনেক 'খারাপবাসা' ও আসবে, ওটাকে তো আর ফেলা যাবে না, ওটাকে নিয়েই বাঁচতে হবে। তাই বেশী পাওয়ার চিন্তা না করাই ভাল। তার চেয়ে বরং যেমন চলছে   তার কথা না ভেবে কেমন চালাব তার কথা ভাবা ভাল। কি পেলাম আর কি পাব তার কথাও না ভাবাই ভাল... কেননা "সব পেলে নষ্ট জীবন"।।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যেদিন বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম

                        ওপারেতে বৃষ্টি এল ঝাপসা গাছাপালা,                    এপারেতে মেঘের মাথায় একশো মানিকজ্বালা।                     বাদলা হাওয়া মনে পরে ছেলেবেলার গান,                        বৃষ্টি পরে টাপুর-টুপুর নদে এল বান।                        বৃষ্টির কিছু নিয়ম আছে, সে যখন তখন ঝড়ে পড়ে না। ইচ্ছে হলেও না। অনেকটা ঠিক আমাদের মতন, আমরা যেমন চাইলেও কাঁদতে পারি না সবসময়। কান্নার কথা লিখতে গিয়ে মনে পড়ল ক্লাস এইটে এই বৃষ্টির দিনেই একদিন খুব কেঁদেছিলাম। বিকেলে ...

মণিপুর জ্বলছে! কিন্তু কেন? অন্তিম পর্ব।

  সূচনা। বর্তমান দাঙ্গার সূত্রপাতের কারন হিসেবে যদি কিছু পয়েন্টকে লিস্ট করা যায় তাহলে দাঁড়ায়- বীরেন সিংয়ের রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদ, পোস্ত চাষের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান, অনিবন্ধিত অভিবাসন, কুকিল্যান্ডের দাবি এবং মেইতেই পুনর্জাগরণবাদ।  গত বছরের এপ্রিলে বহুদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভের স্ফুলিঙ্গ  জ্বলন্ত উত্তেজনাকে প্রজ্বলিত করে। অসম রাইফেলসের উপস্থাপনায় এই সময়কালকে "সূচনা" হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই মাসে, মণিপুর হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে মেইতেই সম্প্রদায়কে তফসিলি উপজাতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদনগুলি বিবেচনা করতে বলেছিল-সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী মণিপুরের পাহাড়ি অঞ্চলগুলিতে কুকিদের দ্বারাই বেশিরভাগ সম্পত্তির মালিকানা আছে। 1960 সালের মণিপুর ভূমি রাজস্ব ও ভূমি সংস্কার আইন শুধুমাত্র তফসিলি উপজাতিদের পার্বত্য অঞ্চলে জমি কেনার অনুমতি দেয়। মণিপুরের শীর্ষস্থানীয় উপজাতি নাগরিক সমাজের সংগঠন অল ট্রাইবাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন মণিপুরের পাহাড়ি জেলাগুলিতে যেখানে উপজাতি সম্প্রদায়ের আধিপত্য রয়েছে সেখানে "সংহতি মিছিল" করার আহ্বানের দেয়।  ৩রা মে সেনাপতি, উখরুল, কাংপোকপি, ত...

নিয়তির কাছে যা যা বলার ছিল

নবারুণ সেই কবেই বলেছিলেন- “গাঁড় মারি তোর মোটরগাড়ির, গাঁড় মারি তোর শপিং মলের। বুঝবি যখন আসবে তেড়ে, ন্যাংটো মজুর সাবান কলের। পেটমোটাদের ফাটবে খুলি, ফাটবে মাইন চতুর্দিকে। গলায় ফিতে নেংটি বেড়াল, তার বরাতেই ছিঁড়বে শিকে”। আজ একুশ দিন শেষ হবার ছিল। শেষ হবার আগেই আরও উনিশ দিনের জন্য লকডাউন কার্যকর হয়ে গেল। প্রধানমন্ত্রী এসে বলেছেন সরকার বহু আগে থেকেই এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত ছিল। হয়ত ছিল কিন্তু কীভাবে ছিল সেই প্রশ্ন কি কেউ করেছে? তিনঘণ্টার নোটিশে দেশে জুড়ে সমস্ত রকমের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেল। আমরা আনন্দ পেলাম। এবারে দীর্ঘ ছুটি। ওয়ার্ক ফ্রম হোম। কিন্তু একবারও ভাবলাম না হোমলেস পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা। যাদের জন্য আমাদের ঝাঁ চকচকে সুন্দর শহরে এখনও বসন্ত এলে আমরা প্রেমে পড়ি। যত ছ্যাঁচড়া কাজের জন্য হাড়হাভাতে মানুষগুলো গ্রাম ছেড়ে শহরের কোণায় কোণায় আস্তাকুঁড়ে আস্তানা গারতে শুরু করে সেই চল্লিশ দশকের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময় থেকে। সত্যজিতের ‘পথের পাঁচালি’র কাশবনের মধ্যে দিয়ে রেলগাড়ি দেখে আমরা দৃশ্য ভাবনার তারিফ করি। কিন্তু রেলগাড়ি ব্যবহারের ইঙ্গিত বুঝতে ব্যর্থ হই। রেলগাড়ি শুধু কাশবনের মধ্য...