সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

শেষের অংশটা

অন্ধকারে পথ হাঁটত রবি, আর সুদেষ্ণা আঁকত ছবি। সেই পথেই একদিন দেখা ওদের, প্রথম দেখাতেই প্রেম, এরপর শুরু দিন বদলের।     ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে মেলামেশা, একে ওপরের কাছে আসা। এরপর এক অনিয়মিত আবদার, দেখাশুনাও হত মাঝেমধ্যে আবার।     রবি লিখত চিঠিতে ভরা কবিতা, আর সুদেষ্ণা রাখত বুকের মাঝে গুছিয়ে তা। একটা ইচ্ছে ছিল ওদের ঠিক যেমনটা আছে আমাদের।   কিন্তু সময় বড়ই সূক্ষ্ম, পাশ কাটিয়ে যায়- আর রবি শুধুই অন্ধকারে আলোকে হাতড়ায়, সুদেষ্ণা পাশে এসে দাড়ায়, বৃষ্টির দিনে, একটা ছাতায় ওদের দুজনের চলে যায়।   কিন্তু কটাই বা স্বপ্ন ছিল ওদের? ওরাই তা জানত। আমি শুধু জানি, ওরা একসাথে থাকতে চাইত।     ওরা ঝড় ওঠবার ভয় পেত, লোকাল ট্রেনে আলাদা বসত, আর কখনও বা সুযোগ পেলে- হাতে হাত ধরত।   আর মাঝে মাঝে বলত- ‘শেষের কবিতা’র মতন আমাদের শেষটাও যদি এক হয়?   কিন্তু কেইই বা মানতে চায় সবটা শুধু আমিই দাড়িয়ে দেখেছি শেষটা। ...

আর্তনাদ

  আমি দীর্ঘ অনন্তদেহী নই, আমি ক্ষুদ্র, আমি তুচ্ছ, হাওয়া দিলে উড়েও যেতে পারি। তবুও মন আছে, দেহ আছে, ঘর আছে, সংসার আছে, আর আছে ফুটপাথে রাত কাটানো, ঐ বাচ্চাটার পাশে দাঁড়ানোর সাহস। যে সাহস অর্জন করেছি, ঐ মানুষটাকে দেখে। যাকে তারা ফিরিয়ে দিয়েছিল সকল খাত থেকে, পাগল পাগল বলে চেল্লিয়ে উঠেছিল সকলে, তিনিও তো ভেবেছিলেন, ভালোবাসা সকলের তরে বিলিয়ে দেওয়ার জন্যই। ঐ যে ঐ মানুষটা, যাকে দেখে তোমরা বুকে সাহস বাঁধলে, দুর্গমকে সুগম করার কাজের ভার নিলে, আমি তো তার কথাই বলছি। আমি তো তার কথাই বলছি, যে বারবার আমাদের বলতে চেয়েছিল- ভালোবাসাই একমাত্র আনতে পারে পরিবর্তন। আজ সে নেই, তার নামে কোন নামফলক নেই, টাকা নেই, পয়সা নেই, নাতনিটাও নেই, শুধুই রয়ে গেছে তার বিলিয়ে যাওয়া ভালোবাসা গুলো। আর... কিছু মানুষের এমনই এখনো, ফাঁকা গলার চিৎকার।।      

আমি এবং ইন্দ্রজিৎ

আচ্ছা ইন্দ্রজিৎ আপনারা কেউ চেনেন? সেই যে সেই ছেলেটা, মাথায় ছোট ছোট চুল নীল রঙের জামা পড়ে স্কুলে যায় আর সাথে আরও দুচারজন থাকে তার। চিনতে পারছেন না বোধহয়? আমিও চিনতাম না, যদি না একদিন ইউনিভার্সিটি ফেরার পথে তার সাথে দেখা হত। বেশ কিছুদিন হয়ে গেছে তার সাথে আমার দেখা হয়েছে। এই যে আপনারা যে পুজো কাটিয়ে উঠলেন যার রেশ এখনও আমাদের লোমকূপে লেগে আছে আমি তার কিছুদিন আগের কথা বলছি। সেদিনও আমি ঠিক সময়েই বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলাম ভেবেছিলাম একটা নিরুদ্দেশের ভ্রমণ করে আবার ফিরে আসব। কিন্তু হল না, ভয় পেয়ে গেলাম। আর এই ভয়ই যখন জমতে শুরু করেছে ঠিক সেই সময়ই লোকাল ট্রেনের জানলার পাশে আমার সাথে ইন্দ্রজিতের আলাপ। বছর দশকের ইন্দ্রজিৎ। হাতে বেশ কিছু রঙিন বেলুন নিয়ে সে জানলার ধারে বসে আছে। ওর হাতে বেলুন গুলো দেখে আমার মনে পড়ে যায় সেই যে ছোটবেলায় আমার বাড়ির পাশে মেলা বসত পুজোর সময় আর আমাদের বাড়িতে এসে থাকত রঞ্জন দা, রঞ্জন দাও ওর মতন বেলুন ফোলাত। কিন্তু সেগুলো সে বিক্রি করত আর প্রতিদিন বেরোবার আগে আমার হাতে একটা বেলুন দিয়ে বলত “দাদাবাবু আজ এটা নিয়ে খেলা কর কাল আবার একটা দেব”। আজ মেলাটা আমার বা...

একটা নিরাপদ মৃত্যু

আমারও বেশ একটা মৃত্যু হবে, বেশ কঠিন একটা মৃত্যু। তাতে কষ্টের বোঝা কিছু নামবে, হাত পা অসাড় হবে, চিন্তাশক্তি কমবে, ভাবনারা আর আঁকরে ধরবে না। খুব কষ্টের নাহলেও, নিরাপদ নয়, এমন একটা মৃত্যু। যেমন ভাবে গভীর ক্ষতস্থানে কেউ, বিষ ঢেলে দেয়, ঠিক সেইরকম একটা মৃত্যু। হোক এইরকমই কিছু একটা হোক, একটা নিরাপদ মৃত্যুই না হয়। যে মৃত্যুর জন্য কারোর আফসোস থাকবে না। শুধু কিছু মানুষের স্মৃতিতে, বেঁচে থাকব আমি। বলো, তুমিও রাখবে তো মনে আমায়? 

প্ল্যাটফর্ম

কিছুটা আস্কারা পেয়ে শব্দেরা ছোটে, গভীর কোন ক্ষতের দিকে। একপ্রকার হতাশায় হুইসেল দেয়, লাস্ট লোকাল। প্ল্যাটফর্মে তখন গড়াগড়ি খায় ভোরের কাগজেরা। চিৎ উল্টে থাকে পাগলা ভবা, দূরের বেঞ্চিতে বসে কে যেন হিসেব মেলায়। আমি তখন এসবের থেকে অনেক দুরে, শেষের বেঞ্চিতে বসে, এসব হাবিজাবি ভাবছি। হঠাৎ দেখি ওরা সকলে আমায় ঘিরে আছে, জিজ্ঞেস করে, "বাড়ি যাবি না"? "যাব, আরও কিছু অপেক্ষার পর, যখন সারা শরীর জুড়ে শীত নেমে আসবে"। ওরা সকলে একে একে আমায় জড়িয়ে ধরে, আর তারপর, আমি বাড়ি ফিরে আসি। 

নতুন এক পথ খোঁজার আশায়।

নিরুদ্দেশ আর অজ্ঞাতবাসের মধ্যে পার্থক্য কীসের? দুটোর ঠিকানাই তো অজানা। তাহলে? কিন্তু সব ছেড়ে, সবাইকে ছেড়ে সমস্ত কিছুর থেকে যদি হাত পা গুটিয়ে নিরালা নিরিবিলিতে দিন পনেরো কাটানো যায়। যেখানে কোন খবর পৌছবে না। শুধুই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার এক নিরলস প্রয়াস থাকবে। আপেক্ষিকভাবে হিমশীতল পরিবেশে শীতলতার স্পর্শ নেওয়ার থেকে অনেক গভীরে গিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলার কোন চর্চা থাকবে না। আপাতভাবে আমি কি বলতে চাইছি তা স্পষ্ট করা দরকার। দিন পনেরো শহর থেকে অনেক দূরে ছিলাম। শহরের, মানুষের কোন খবর পৌছনোর কোন মাধ্যম আমার কাছে ছিল না। যাওয়ার আগে ফেলে রেখে গিয়েছিলাম এক মর্মান্তিক মৃত্যুবাহী শব যাত্রার মিছিলকে। ফেলে রেখে গিয়েছিলাম রাজনীতিকদের আগোচর মন্তব্যকে। লেখার কোন প্রয়াস তখন করিনি। কারন সমবেদনা জ্ঞাপন করার উদ্দেশ্য আমার ছিল না। আমার মনে হয়নি সমবেদনা দিয়ে মাতৃহীন পুত্রের মর্মান্তিক মৃত্যুর শোকে বিহ্বল পিতাকে সান্ত্বনা দেওয়া যায়। আমি একটা অন্য পথ খুঁজছিলাম যে পথে গেলে একটা বিচারবিভাগীয় তদন্তের থেকেও অন্য এক মাত্রায় পৌঁছানো যাবে যেখানে কাউকে হারানোর ক্ষোভ, শোক থাকবে না, তার মৃত্যু...

স্বীকারোক্তি

আজ সর্বতভাবে স্বীকার করতে ক্ষতি নেই যে, পশ্চিমবঙ্গ ভারতের মধ্যে একটি দুর্বল রাজ্য। তার দুর্বল তার অধিবাসীরা। তবে সর্বাপেক্ষা দুর্বল এখানকার রাজনীতিকরা, তদুপরি মাননীয় মন্ত্রীরা। যারা সবসময় তাদের সেপাই সান্ত্রীদের পিছনে থেকে আশ্বাস বাণী দেন, আর আমরা তা দুচোখ বুজে হাসি মুখে মেনেনি। জলজ্যান্ত সাতখানা প্রাণ যেতে পারত কিন্তু তাতে কার ভ্রুক্ষেপ নেই, সগর্বে বলে ওঠা যায় “ সব পরিকাঠামো ঠিকই ছিল দু-চারটে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া আর কিছুই তেমন ভাবে হয়নি। সব কিছুই সুস্থ ভাবে সম্পন্ন হয়েছে”। ১ ঘন্টার পরীক্ষার জন্য মানুষ ৪ ঘণ্টা পরিশ্রম করে অক্লান্ত জার্নি করে পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছে, তারপর জেনেছে যে তার পরীক্ষার সিট তো অন্য জায়গায় পড়েছে। দু-তিন খানা ট্রেন বদল করে, দমবন্ধকর পরিস্থিতির মধ্যে প্রায় ৩২ ডিগ্রি গরমে হাঁসফাঁস করতে করতে প্রায় শুকিয়ে যাওয়া শরীর নিয়ে বাসের ছাদে, লরির দেওয়ালে, ট্রেকারের রদ ধরে ঝুলতে ঝুলতে যখন পরিক্ষাস্থলে উপস্থিত তখন তো প্রায় পরীক্ষা শেষ, তবুও ১৫ মিনিট তো বসতে হল, কিন্তু যারা তার পরে এলেন তারা তো পরে পুরো পরীক্ষা দিলেন, তারবেলা? পরিক্ষাকেন্দ্রে বিদ্যুতের ব...