সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

আমি এবং ইন্দ্রজিৎ

আচ্ছা ইন্দ্রজিৎ আপনারা কেউ চেনেন? সেই যে সেই ছেলেটা, মাথায় ছোট ছোট চুল নীল রঙের জামা পড়ে স্কুলে যায় আর সাথে আরও দুচারজন থাকে তার। চিনতে পারছেন না বোধহয়? আমিও চিনতাম না, যদি না একদিন ইউনিভার্সিটি ফেরার পথে তার সাথে দেখা হত। বেশ কিছুদিন হয়ে গেছে তার সাথে আমার দেখা হয়েছে। এই যে আপনারা যে পুজো কাটিয়ে উঠলেন যার রেশ এখনও আমাদের লোমকূপে লেগে আছে আমি তার কিছুদিন আগের কথা বলছি। সেদিনও আমি ঠিক সময়েই বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলাম ভেবেছিলাম একটা নিরুদ্দেশের ভ্রমণ করে আবার ফিরে আসব। কিন্তু হল না, ভয় পেয়ে গেলাম। আর এই ভয়ই যখন জমতে শুরু করেছে ঠিক সেই সময়ই লোকাল ট্রেনের জানলার পাশে আমার সাথে ইন্দ্রজিতের আলাপ। বছর দশকের ইন্দ্রজিৎ। হাতে বেশ কিছু রঙিন বেলুন নিয়ে সে জানলার ধারে বসে আছে। ওর হাতে বেলুন গুলো দেখে আমার মনে পড়ে যায় সেই যে ছোটবেলায় আমার বাড়ির পাশে মেলা বসত পুজোর সময় আর আমাদের বাড়িতে এসে থাকত রঞ্জন দা, রঞ্জন দাও ওর মতন বেলুন ফোলাত। কিন্তু সেগুলো সে বিক্রি করত আর প্রতিদিন বেরোবার আগে আমার হাতে একটা বেলুন দিয়ে বলত “দাদাবাবু আজ এটা নিয়ে খেলা কর কাল আবার একটা দেব”। আজ মেলাটা আমার বা...

একটা নিরাপদ মৃত্যু

আমারও বেশ একটা মৃত্যু হবে, বেশ কঠিন একটা মৃত্যু। তাতে কষ্টের বোঝা কিছু নামবে, হাত পা অসাড় হবে, চিন্তাশক্তি কমবে, ভাবনারা আর আঁকরে ধরবে না। খুব কষ্টের নাহলেও, নিরাপদ নয়, এমন একটা মৃত্যু। যেমন ভাবে গভীর ক্ষতস্থানে কেউ, বিষ ঢেলে দেয়, ঠিক সেইরকম একটা মৃত্যু। হোক এইরকমই কিছু একটা হোক, একটা নিরাপদ মৃত্যুই না হয়। যে মৃত্যুর জন্য কারোর আফসোস থাকবে না। শুধু কিছু মানুষের স্মৃতিতে, বেঁচে থাকব আমি। বলো, তুমিও রাখবে তো মনে আমায়? 

প্ল্যাটফর্ম

কিছুটা আস্কারা পেয়ে শব্দেরা ছোটে, গভীর কোন ক্ষতের দিকে। একপ্রকার হতাশায় হুইসেল দেয়, লাস্ট লোকাল। প্ল্যাটফর্মে তখন গড়াগড়ি খায় ভোরের কাগজেরা। চিৎ উল্টে থাকে পাগলা ভবা, দূরের বেঞ্চিতে বসে কে যেন হিসেব মেলায়। আমি তখন এসবের থেকে অনেক দুরে, শেষের বেঞ্চিতে বসে, এসব হাবিজাবি ভাবছি। হঠাৎ দেখি ওরা সকলে আমায় ঘিরে আছে, জিজ্ঞেস করে, "বাড়ি যাবি না"? "যাব, আরও কিছু অপেক্ষার পর, যখন সারা শরীর জুড়ে শীত নেমে আসবে"। ওরা সকলে একে একে আমায় জড়িয়ে ধরে, আর তারপর, আমি বাড়ি ফিরে আসি। 

নতুন এক পথ খোঁজার আশায়।

নিরুদ্দেশ আর অজ্ঞাতবাসের মধ্যে পার্থক্য কীসের? দুটোর ঠিকানাই তো অজানা। তাহলে? কিন্তু সব ছেড়ে, সবাইকে ছেড়ে সমস্ত কিছুর থেকে যদি হাত পা গুটিয়ে নিরালা নিরিবিলিতে দিন পনেরো কাটানো যায়। যেখানে কোন খবর পৌছবে না। শুধুই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার এক নিরলস প্রয়াস থাকবে। আপেক্ষিকভাবে হিমশীতল পরিবেশে শীতলতার স্পর্শ নেওয়ার থেকে অনেক গভীরে গিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলার কোন চর্চা থাকবে না। আপাতভাবে আমি কি বলতে চাইছি তা স্পষ্ট করা দরকার। দিন পনেরো শহর থেকে অনেক দূরে ছিলাম। শহরের, মানুষের কোন খবর পৌছনোর কোন মাধ্যম আমার কাছে ছিল না। যাওয়ার আগে ফেলে রেখে গিয়েছিলাম এক মর্মান্তিক মৃত্যুবাহী শব যাত্রার মিছিলকে। ফেলে রেখে গিয়েছিলাম রাজনীতিকদের আগোচর মন্তব্যকে। লেখার কোন প্রয়াস তখন করিনি। কারন সমবেদনা জ্ঞাপন করার উদ্দেশ্য আমার ছিল না। আমার মনে হয়নি সমবেদনা দিয়ে মাতৃহীন পুত্রের মর্মান্তিক মৃত্যুর শোকে বিহ্বল পিতাকে সান্ত্বনা দেওয়া যায়। আমি একটা অন্য পথ খুঁজছিলাম যে পথে গেলে একটা বিচারবিভাগীয় তদন্তের থেকেও অন্য এক মাত্রায় পৌঁছানো যাবে যেখানে কাউকে হারানোর ক্ষোভ, শোক থাকবে না, তার মৃত্যু...

স্বীকারোক্তি

আজ সর্বতভাবে স্বীকার করতে ক্ষতি নেই যে, পশ্চিমবঙ্গ ভারতের মধ্যে একটি দুর্বল রাজ্য। তার দুর্বল তার অধিবাসীরা। তবে সর্বাপেক্ষা দুর্বল এখানকার রাজনীতিকরা, তদুপরি মাননীয় মন্ত্রীরা। যারা সবসময় তাদের সেপাই সান্ত্রীদের পিছনে থেকে আশ্বাস বাণী দেন, আর আমরা তা দুচোখ বুজে হাসি মুখে মেনেনি। জলজ্যান্ত সাতখানা প্রাণ যেতে পারত কিন্তু তাতে কার ভ্রুক্ষেপ নেই, সগর্বে বলে ওঠা যায় “ সব পরিকাঠামো ঠিকই ছিল দু-চারটে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া আর কিছুই তেমন ভাবে হয়নি। সব কিছুই সুস্থ ভাবে সম্পন্ন হয়েছে”। ১ ঘন্টার পরীক্ষার জন্য মানুষ ৪ ঘণ্টা পরিশ্রম করে অক্লান্ত জার্নি করে পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছে, তারপর জেনেছে যে তার পরীক্ষার সিট তো অন্য জায়গায় পড়েছে। দু-তিন খানা ট্রেন বদল করে, দমবন্ধকর পরিস্থিতির মধ্যে প্রায় ৩২ ডিগ্রি গরমে হাঁসফাঁস করতে করতে প্রায় শুকিয়ে যাওয়া শরীর নিয়ে বাসের ছাদে, লরির দেওয়ালে, ট্রেকারের রদ ধরে ঝুলতে ঝুলতে যখন পরিক্ষাস্থলে উপস্থিত তখন তো প্রায় পরীক্ষা শেষ, তবুও ১৫ মিনিট তো বসতে হল, কিন্তু যারা তার পরে এলেন তারা তো পরে পুরো পরীক্ষা দিলেন, তারবেলা? পরিক্ষাকেন্দ্রে বিদ্যুতের ব...

আত্মহত্যা

আত্মহত্যা করা ছাড়া কোন উপায় ছিল না তার। নেহাতই মৃত্যুর কাছে বশ্যতা স্বীকার করা। যখন আকাশে জর হয়েছিল রাতের তারারা, কেউ ছুঁয়ে দেখেনি তার গায়ের উষ্ণতা, মাথার কাছে কেউ গায় নি ঘুমপাড়ানি গান। তাই ঘুমের ঘোরে মৃত্যু উপত্যকার গভীর স্রোত তাকে ডেকে নিয়েছিল চোরাবালির কোঠরে, অগত্যা আত্মহত্যাই ছিল শেষ পথ। যার হাটার রাস্তাটা অন্য ছিল, পাথুরে ছিল, কেউ কোনদিনও দেখেনি পায়ের তলার দগদগে ঘা, ধামাচাপা পড়ে গিয়েছিল তা সস্তার জুতোর বহরে। লাল রঙের কোন জুতো ছিল না বলে, রক্তের দাগ মিলিয়ে যায় নি, ছোপছোপ লেগে আছে আজও শহরের প্রতিটি রাস্তায়, আর মিশে আছে কিছু খিদে জড়ানো ঘাম, তাই মুক্তির দরকার ছিল- প্রতিটি শিরার, প্রতিটি ধমনীর সর্বপরি শরীরের, অগত্যা আত্মহত্যাই ছিল শেষ পথ। যার কোন কবিতাই ছাপা হল না পদ্যের আকারে, বিপ্লবের অশ্রুপাত ঝড়লো শুধু কলমের গোড়ায়, মানুষের মুখ পিছলে বেরলো না একটাও শব্দ। যুদ্ধ বিরতির শেষ পর্যায়ে তাই মৃত্যুই ছিল একান্ত কাম্য, শহীদের খেতাব তার আর জুটলো না। অগত্যা আত্মহত্যাই ছিল শেষ পথ, তাই তার আত্মহত্যাই করা ছাড়া, আর কোন উপায় ছিল না।।

চিন্তায় ভাবনায় সবসময় শুধু তুমি।

কি মনে হয়েছিল সেদিন আমাদের যেদিন আমরা আমাদের মায়ের মৃতদেহের পাশে দাড়িয়ে ছিলাম। ঠিক ভাবতে পারেন? এক চরম হতাশা হয়ত আপনাকে গ্রাস করেছিল। আমি জানি না, আমায় এখনও সেই অবস্থার সম্মুখীন হতে হয় নি। কিন্তু বুঝেছি কবি রণজিৎ দাসের কবিতার পঙক্তিতে -“মায়ের মুখাগ্নি করে ছেলের অকৃতজ্ঞ হাত”। কেন এসব কথা আজ বলছি, কেন হঠাৎ মায়ের প্রতি আমার এত স্নেহ উথলে উঠল। না এটা স্নেহের প্রশ্ন নয়। ভালবাসারও নয়। সব সন্তানই তার মায়ের প্রতি দায়িত্বশীল। এটাই জীবনের নীতি। যদিও এই নীতি বহুদিন আগেই ভেঙে গেছে, ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলাবাহুল্য। সামাজিক চাপে বারবার দিশেহারা হয়ে উঠেছিল শুকনো মুখগুলো, বারবার নুইয়ে দেওয়া হচ্ছিল তাদের। তাই হঠাৎ আজ আবেগঘন হয়ে পড়লাম। মায়ের মুখ দিয়ে শুরু করলাম তাই। একবারও কি মায়ের মুখে অগ্নি সংযোগ করতে আমাদের কারোর হাত কাঁপে? সেই, যে ছেলেটা বিয়ের পর বিধবা মাকে একা ফেলে চলে গেল, আর মায়ের মৃত্যুতে পড়শি বয়স্ক জ্যেঠুর ডাকে আবার ফিরে এসে শ্রার্দ্ধ কাজ সম্পন্ন করে আবার ফিরে গেল ২০০০ স্কোয়ার ফিটের ঝাঁ চকচকে ফ্ল্যাটে, সে কি একবারও জানতে চেয়েছিল কিভাবে তার মা বাকিদিন গুলো কাটিয়েছিল? না মনে হয়, যদি জানতে চাইত তা...