সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

রবি ঠাকুরের আপন দেশে ......আইন কানুন সর্বনেশে

  রবি বাবুর বিক্রি আজকাল খুব বেড়ে গেছে। পথে -ঘাটে-ফুটপাথে, রেলিঙে-সিলিঙে-দার্জিলিঙে প্রায় সমস্ত যায়গায়। বিশেষত ওনার ১৫০ তম জন্মবর্ষটাই ওনাকে আরও বাণিজ্য সুলভ করে তুলেছে। তার ওপর আবার পট পরিবর্তন, পাঠ্য পরিবর্তন। সবই আদরের রবিকে বাঙালির কাছে আরও আদরিত করে তুলেছে। হইহই করে আবার সবাই রবীন্দ্রসঙ্গীত এর প্রেমে পড়ছে, ২৫শে বৈশাখ সরকারী ছুটির দাবিতে গন আন্দোলন করছে, প্ল্যানচেটে রবিকে ডেকে এনে তার না পূরণ হওয়া ইচ্ছের কথা জানতে চাওয়া হচ্ছে,  এভাবেই চলেছে গোটা বছরটা।এবার ১৫০ তম বছরটা শেষ হয়ে ১৫১ তে পড়েছে, তাই উৎসব আরও বেড়ে গেছে। নিরঙ্কুশ প্রেমের দাপটে, অর্থহীন বাক্যের সংলাপে,আজকের দিনেও আবার বিতর্ক, মিছিল, স্লোগান ধনুক ভাঙা পণ, শতপদের কুচকাওয়াজ, রাশভারী মন- সব শেষে মিশে গিয়ে আবার সাদা ফুলের মালায় জোব্বা পড়া দাড়িওয়ালার গানকে সবাই আপন করে গেয়ে উঠেছে। শীতকালীন মেজাজ থাকলে হয়ত এটা হত না গ্রীষ্মের দাবদাহ থেকে মুক্তির জন্যই হয়ত মিলে গলা মিলিয়েছেন। কিন্তু গুরুদেব তো বলে যাননি যে আমার জন্মতিথি তোমরা সবাই মিলে প্রভাতের রবির আগমনের সাথেই পালন কর।এক ...

ষোলআনা

                    বিদীর্ণ এ বক্ষে, ললাট লিখন কার, সময় আমার ত্যাজিত, বিধাতা হুনহার, না পাওয়ার বাসনা, চেনা পরিচিত ছবি হট্টগোলের মাঝে, অস্তমিত আজকের রবি। কারও মন টানে না, চোখেও ভাসে না গেরুয়াবসনধারি, মন মানে না অবুঝ আমার, তোমার কুসুম ভারি। কিছুতেই সব শেষ হয় না, জীবন বড়ই অদ্ভুত। পাওয়া না পাওয়ার বাসনাতে ছক্কা থেকে স্ব পুট। ঐ চোখ আজ চায় না, শুধুই আমার পানে গল্প হলেও সত্যি হত, যদি পেতাম এর ভুল মানে। হুঙ্কার দিয়ে উঠি আমি, ত্যাগের এ নরকরাজ্যে কোথায় আমার ষোলআনা? চারকাঁধে আজ সে বহির্রাজ্যে ।।         "জঞ্জাল" এর চতুর্থ সংখ্যায় প্রকাশিত.........                            

বছর ২০ পর... তোমাকে চাই

আমার বয়স তখন সে রকম হয় নি যে আমি সেই সময় ই সেটা শুনব। শুনেছিলাম আবির্ভাব হওয়ার বেশ কিছুদিন পর দিনকক্ষণ ঠিক মনে না থাকলেও তখন আমি ক্লাস নাইনে পরি এটা মনে আছে। সবে হাফ প্যান্ট ছেড়ে ফুল প্যান্ট পরা ধরেছি, তাও আবার বাবার ভয়ে সেকেলে মার্কা সেই প্লেট দেওয়া ভাজ খাওয়ানো প্যান্ট। সবে আবার মহব্বতে সিনেমাটার পর বেলবক্স এর ফ্যাশনটা চালু হয়েছে, সবাই আবার সেই ঢেউ খেলানো আপাদ মস্তক পা ঢাকা প্যান্টে কেতা দেখাচ্ছে আর আমি ভয়ে নিজের সামনে নিজেই ঘ্যান ঘ্যান করছি। সবে মাত্র প্রেম র পরিযায়ী ভাষা টা একটু একটু করে বুঝতে শিখেছি পালিয়ে বাংলা ছবি দেখে এসে ঘরে বসে নিজের সেই প্রথম ডায়েরিতে গুন গুন করে নিজের অজান্তেই কখন যে সেই দু চার কথা লিখেছি তা আজও যেন চোখের সামনে ভাসে। চোখ বুজলেই যেন সেই সময়ে আবার আমি হাত বারালেই যেতে পারি... কিন্তু না আজ তা থেকে অনেক দূরে চলে এসেছি। প্রেম নামক বস্তুতার সাথে সরাসরি তখনও আমার যোগাযোগ হয় নি কিন্তু না হলেও প্রথম সেটার অনুভূতিটা অনুভব করেছিলাম সেই বারেই যেবার আমি ধূসর রোদে নদীর ধারে বসে লাল সালোয়ারে তাঁকে প্রথম দেখেছিলাম আর বাড়িতে এসে প্রথম বার আমার সেই সময়ে...

পাগল ছাড়া দুনিয়া চলে না

বাস্তববাদী হওয়া আর সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলা সবটাই বোধহয় আজকের দিনে নিছক মিথ্যে একটা প্রহসন। তাই লোক না হাসিয়ে আমরা সত্যিই কি আয়নার সামনে দারিয়ে আজ নিজের মুখোমুখি হতে পারি, পারি কি আমারই  স্বপ্নে দেখা আমার মতন সেই মানুষটার সামনে গিয়ে দাড়াতে, পারি কি নিজের মত কাউকে খুঁজে পেতে হয়ত পারি কেননা সত্যিটা মেনে নেওয়ার মত সাহস আজকের দিনে দারিয়ে আমাদের নেই, না হলে বিনায়ক সেনের মত মানুষকে জেলে থাকতে দেখে আমরা রোজ রাতে শান্তির নীড়ে অক্লান্ত শরীরটাকে নরম গদিতে এলিয়ে দিতে পারতাম না!  এটাই আজকের রীতি, সমাজের সাদা নীল বাসভবনের এটাই তো নতুন বৈচিত্র্য। গলা ফাটিয়ে কিছু বোঝালেও আমরা তা বুঝতে  অক্ষম তাই কাউকে বোঝানোর কোন প্রয়োজনও নেই যেদিন আমাদের বেহাল দশার কথা আমরা নিজেরাই বুঝতে পারবো সেদিন সমস্ত কিছুর উর্দ্ধে উঠে আমরাই পারবো এ জগতের সবচেয়ে বুদ্ধিমান জীবের মতন আচরণ করতে। তাই কাউকে বলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই সেদিন আমরা কিভাবে আমাদের ঘুম ভাঙাবো। ঘুম ভাঙবার হলে এমনিতেই ভাঙবে কারোর ডাকবার প্রয়োজন নেই। আমরা তো আর ঘুমের বড়ি খেয়ে রাজনীতিকদের  মত ঘুমোই না যে কুম্ভকর্ণের ...

আছে বাকি কী?

খুঁজতে খুঁজতে জীবনের ইচ্ছে হচ্ছে যখন শেষ, আকাশ ভরা গ্রহতারা, আছে কালো রূপকথার মায়ায় বেশ। পড়ন্ত বিকেল নাকি অশ্রুঝরা রাত কোনটা আজ দামি? হিসেব কষতে কষতে আজ আমিই বেনামি। ভোরের স্নিগ্ধ বাতাস, আর ধুলোয় ভরা কুয়াশা ছেড়ে, আমি যখন ছুটে যেতাম শাল পিয়ালের মাঝে, কোথাও যেন ইচ্ছে গুলো মনমাতানো সুরে বাজে। স্বপ্ন ভেঙে উঠে আমি আবার রোজনামচায় মাতি, পড়ন্ত বিকেল আর অশ্রুঝরা রাত সবটাই যেন ফাঁকি। ইচ্ছে শেষ স্বপ্ন শেষ, চারিদিকে আজ শুধুই আঁধার এই আঁধারেও কি দীপ জ্বালানো বাকি?

জীবনের আশায়... নতুন বছরের স্বাদ

আরও একটা দিন কেটে নতুন সূর্য উঠেছে , যে সূর্যের রঙটা হয়ত একই কিন্তু তা হলেও তা নতুন সূর্য , যে তাপটা হয়ত একটু বেশী ছিল বলে গরমটা একটু বেশী পড়েছিল , তেমন আর বেশী কিছু হয়নি। তবুও তা নতুন সূর্য , নতুন রঙের সূর্য কেননা তা নতুন বছরের সূর্য।   আর পাঁচটা দিনের মতই বছরের নতুন দিনটাও ছিল।তবু ও সবার মতই আমার কাছেও হয়ত একটা অন্যরকম অনুভূতি ছিল। যেখানে প্রেম ছিল , ভালবাসা ছিল , আবার জড়ো হওয়া কিছু পুরাতন বেদনা ও ছিল। যে বেদনা গুলো আমায় আবার নতুন করে নতুন বছরের স্বাদটাকে উপলব্ধি করতে শেখায় আবার কখন বেদনার রঙে নতুন বছরের নতুন জ্যোৎস্না মাখা দিনটাকে মলিনও করে দেয়। তাই মিলেমিশে হয়ত প্রতি বছরেই ভালমন্দ থাকে। তাই এটাও আলাদা কিছু নয় আরও পাঁচটা পেরিয়া আসা বছরের মতই আরও একটা নতুন বছ্র।জেতা আবার ৩৬৫ দিন পার হয়ে আবার একটা নতুন বছর শুরু হবে। নতুন বছরের শুরুতে সবার অনেক প্রতিজ্ঞা স্বাদ আহ্লাদ থাকে। এবারও থাকবে তার কোন ব্যতিক্রম হবে না। বছরের শুরুর দিনটাতে হইহই করে সবাই ঘুরতে বের হবে , খাবে দাবে ঘুরবে আর আবার ব্যতিক্রমী হবার চেষ্টা করবে। না , এটাও প্রতিবারের মতই ওই প্রচেষ্টাই থেকে আলাদ...

শুভ নববর্ষের বুলি

আজ আবার এক নতুন দিনের শুরু আজ আবার এক নতুন বছরের শুরু ফিকে হয়ে আসা জীবনে আজ আবার নতুন সূর্যের আলো, নতুন ঝোড়ো হাওয়া, সব নতুনের মাঝে পুরানো কী হাতছানি দিয়ে ডাকে, তাঁকে আপন করবার জন্য, অতীত কি আবার আসে ফিরে বর্তমানের ছোঁয়ায়,ভবিষ্যৎ এর কল্পনায়, তবে তাঁকে দূরে সরিয়ে রেখে আজ শুধুই আনন্দে মাত, আর শপথ নাও থাকব ভাল, রাখব ভাল সবাইকে একাকীত্বের সীমানা ছারিয়ে বাসবো ভাল তোমাকে। নতুন বছর কাটুক ভাল, তোমায় আমি বলি, তুমি কি পারো না আমায় বলতে শুভ নববর্ষের বুলি......।।