সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

পিকুঃ বাঙালি না হয়ে অন্য কিছু হলে ভালো হত।

      পিকু নিয়ে বাড়বাড়ন্তের শেষ নেই। ঠিক যেমন দুদিন আগে ‘ওপেন টি বায়স্কোপ’ নিয়ে ছিল। এই বাড়বাড়ন্তের অন্যতম কারন হল ‘নস্টালজিয়া’। দুটি ছবিই বাঙালির নস্টালজিয়ার অন্যতম উদাহরন। আর সেই উদাহরন দিচ্ছেন দুইক্ষেত্রেই একজন। সুজিত সরকার। প্রথম ক্ষেত্রে পরিচালক এবং দ্বিতীয় ক্ষেত্রে প্রযোজক। পিকু বাঙালির অন্দরমহলের কথা বলে। এক বৃদ্ধ বাবা আর তার অবিবাহিত মেয়ের গল্প। যেখানে মেয়ে লিবারেল এবং স্বয়ংভর। লিবারেল এর পরিমাপ করা হয় এটা বুঝিয়ে যে মেয়ে নিজের প্রয়োজনমত শারীরিক চাহিদা অনুযায়ী যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়। সে আধুনিক, তার কাছে যৌনতার আধুনিক সংজ্ঞা শারীরিক চাহিদা ছাড়া আর কিছুই নয়। কিন্তু ছবির শুরু থেকে যে জাতিকে তুলে  ধরার একটা প্রচেষ্টা করা হয়েছে এবং বারবার বিভিন্ন উপায়ে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে আপনি আদ্যন্ত একটা বাংলা ছবি দেখতে বসেছেন শুধুমাত্র ছবির ভাষাটা হিন্দি, সেই ছবিতে রিটায়ার্ড সরকারি কর্মচারী ( অফিসের যে ঠিকানা ‘বাবা’ কে ‘মেয়ে’ বলেছিল তা থেকে অনুমেয়) বাবার কাছে মেয়ের এই আধুনিকতা গোপন থাকে না এবং এতে বাবার সম্মতিও থাকে এবং তিনি অন্য লোককে বলে বেরাতেও পিছপা হননা...

অভিজিৎ রায় কে লেখা একটা চিঠি।

অভিজিৎ বাবু, মৃত্যু সবসময়ই আমাকে দুর্বল করে দেয়। সেটা প্রতিটা সহানুভূতিশীল মানুষেরই হওয়া উচিত বলে আমার ধারণা। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে সহানুভূতি কি পরিবর্তন আনতে পারে? পারে কি সেইসব মৃত মানুষদের কাছের মানুষের দুঃখকে দূরে সরিয়ে রাখতে? পারে কি অন্যায়ের বিরুদ্ধে গণজাগরণের আওয়াজ তুলতে? হয়ত পারে আর পারে বলেই গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি রাতে আপনার অর্থাৎ সাহিত্যিক অভিজিৎ রায়ের মৃত্যুর পর বাংলাদেশ ছাড়াও পৃথিবীর অন্যান্য দেশে প্রতিবাদের আওয়াজ উঠেছে। আপনাকে সর্বসমক্ষে হত্যা করার অপরাধে হত্যাকারীকে কঠোরতম সাজা দেওয়ার দাবী উঠেছে। বলা বাহুল্য ন্যায্য দাবী। কিন্তু এসবের মাঝে আমার ভুমিকা কি? আমি অভিজিৎ রায়বাবু কে চিনতাম না। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে আমি তাঁকে চিনি। তখন আপনার ফেসবুক পেজ এ যাই এদিক ওদিক ওলটাই পাল্টাই। আপনার সম্বন্ধে জানা শুরু হয়। পরিচয় হয় আপনার নিজের ব্লগ ‘মুক্তমনা’ এর সাথে। আপনার বেশ কিছু বইয়ের কভার ফটো দেখি কয়েকটার ভুমিকা পড়ার সুযোগ হয়। ব্যাস এইটুকুই এর বেশি আমি আর কিছুই আপনার সম্বন্ধে জানি না। এইসব জানতে জানতেই ভোর হয়ে এসেছিল। আমায় শুতে হত। ঘুম হয়ত পাইনি তখনও, কিন্তু ক্লান্ত ছিলাম। ক্লান্তিটা কাটান...

আমার শহরের সান্তারা

আমার শহরটা নাকি বেশ রঙিন। এক এক সময়ে তার বিভিন্ন রঙ ধরা পরে। এই যেমন শীতকাল আসতেই শহরের রঙ বদলে গেছে। একটা কার্নিভাল কার্নিভাল ভাব এসে গেছে। আর এখন আমরা সেই কার্নিভালের একেবারে মধ্যগগনে। বড়দিন কাটিয়ে এখনও হয়ত আলমোরা যায়নি। রঙিন আলোর রেশ কাটিয়ে উঠতে আরও কিছুক্ষণ সময় হয়ত লাগবে। এরই মধ্যে আমাদের অগোচরে সান্তা এসে ঘুরে গেছে।   আমাদের আবদার মেনে একরাশ ওম দিয়ে গেছে। যাকে আমরা পকেটে পুরে নিয়েছে। সারাবছর তাই আমাদের আর কিছু ভাববার নেই। কিন্তু আমরা কি সান্তাকে দেখতে পাই? বা পেয়েছি কোনদিনও? আমি কিন্তু পেয়েছি। আমার আশেপাশে সমস্ত সময় তারা ঘুরে বেরায়। প্রয়োজন হলে হাত বাড়িয়ে দেয়। দুঃখের সময় হঠাৎ করে উপস্থিত হয়, পাশে দাড়ায়, হয়ত হয়ত কেউ কেউ জিজ্ঞেস করে ‘কি হয়েছে?’ আবার কখনও কখনও আমার মোজার ভিতর লুকিয়ে রেখে যায় আমার চাহিদামত জিনিসপত্তর। তাই সান্তারা আছে আমাদের মধ্যেই আছে। হয়ত ঘন কুয়াশায় আমরা তাদের দেখতে পাই না। হয়ত তারা ট্রাম লাইন বরাবর সোজা হেঁটে যায়। হয়ত তারা ভিড়ের মধ্যে মিশে থাকে কিংবা আমাদের একেবারে গা ঘেঁসে থাকে কিন্তু আমরা বুঝতে পারি না। তাদের...

পিকেঃ আরও একটু সাহসিকতার প্রয়োজন ছিল।

আমার মনে হয় আমরা অধিকাংশ ভারতবাসীই আজকের সময়ে দাড়িয়ে ভাবি যে এই সোশ্যাল সিস্টেমের দশা একেবারে ভগ্ন। এই ভগ্নদশা যে বিভিন্ন আর্ট ফর্ম গুলোতে উঠে আসবে সেটাই কাম্য। কিন্তু আমরা বোধহয় শিল্পের নান্দনিক গুরুত্বের থেকে বিনোদনের গুরুত্বকেই প্রধান্য দিয়ে থাকি। তাই মানুষের সমস্যা কিংবা সিস্টেমের অপপ্রচার যাই হোকনা কেন তাকে বিনোদনের মোড়কে আবদ্ধ করেই পেশ করতে হয় নচেৎ ব্যাবসায়িক ধান্দা নিপাত যাবে। তাই আমরা ভাবলেও সিস্টেমের দিকে অঙ্গুলিনির্দেশ করতে পারিনা। ঠিক সেটাই বড় চোখে পড়ল রাজকুমার হিরানীর ‘পিকে’-তে। ঠিক যেমন আমির খানের টেলিভিশন শো। যে বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনায় বসে সেগুলি নিঃসন্দেহে অবশ্যই স্পর্শকাতর কিন্তু তা আমাদের শুধুমাত্র এই বোধ উপলব্ধ করিয়েই সীমিত থাকে। প্রথাভিত্তিক জীবনকাঠামো থেকে বেরিয়ে এসে ঠিক কে ঠিক কিংবা ভুল কে ভুল হিসেবে মেনে নিতে বলেনা। বলেনা এই উপলব্ধি থেকে আমাদের চারপাশে ঘটে চলা অন্যায়ের বিরোধিতা করতে বা নিদেনপক্ষে যুক্তিসঙ্গত ভাবে ভুল-ঠিকের কারন তুলে ধরতে। ‘ পিকে’-তেও তাই যে বিষয় নিয়ে ১৫৩ মিনিট ধরে গল্প এগিয়ে চলে তা আপামর ভারতবাসীর সকলেরই জানা। আমরা জানি কিন্তু জেনেও ...

দু-এক কাপ কফির জন্য

কারোর জন্য আজকে ভীষণ মনখারাপ। ইচ্ছে ছিল , আড্ডা দেব। সঙ্গে কফি দু-এক কাপ। সন্ধ্যে হল, সূর্য বুঝি ডুবল ঐ। ট্র্যাফিক জ্যামে আটকে আছি , সময়ের আর খেয়াল কই ? ঘড়ি বলছে সবে মাত্র ছটা বাজতে পাঁচ। এখনও অনেক দেরি আছে , সাতটা থেকে রেডিওতে মনখারাপের গান বাজে। বাড়ি ফিরতে এই পথে , রোজই শুনি (রেডিওতে) , কারা যেন সব চিঠি লেখে আঁকরে ধরে জাপটে ধরে ভালোবাসে একে অন্যকে। আজকে কোন চিঠি নেই। মনখারাপের বাজছে শানাই , বিকেল থেকেই। রাস্তাঘাটে খুঁজছি তাই আনন্দকে , হন্যে হয়ে শেষমেশ বাড়ির পথে। সুখ কি হয় ? জানিনে আজ। আজ ভীষণ মনখারাপ। কথা ছিল অনেকটা পথ হেঁটে যাব। ফাঁকা থাকবে রাস্তাঘাট। শীত এসেছে। ভিড় এখন তাই হয়না মালুম লোকাল ট্রেনে। রোজই দেখি ওরা দুজন প্রেম করে লুকিয়ে লুকিয়ে স্টেশনে। আজকে ভীষণ হিংসে হল ওদের দেখে , ঠিক যেন আমরা দুজন , বৃষ্টির দিনে এক ছাতাতে। হারিয়ে গেছে সেসব দিন। অনেক ভিড়ের মাঝে , এখন আর হয়না শোনা গুলজারের গান , মাঝে মাঝে ঐ রেডিওতে বাজে। তোমার জন্য আজকে ভীষণ মনখারাপ। হয়ত হবে দেখা। কোনএকদিন। সঙ্গে কফি , দু-এক কাপ।...