সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আমার শহরের সান্তারা

আমার শহরটা নাকি বেশ রঙিন। এক এক সময়ে তার বিভিন্ন রঙ ধরা পরে। এই যেমন শীতকাল আসতেই শহরের রঙ বদলে গেছে। একটা কার্নিভাল কার্নিভাল ভাব এসে গেছে। আর এখন আমরা সেই কার্নিভালের একেবারে মধ্যগগনে। বড়দিন কাটিয়ে এখনও হয়ত আলমোরা যায়নি। রঙিন আলোর রেশ কাটিয়ে উঠতে আরও কিছুক্ষণ সময় হয়ত লাগবে। এরই মধ্যে আমাদের অগোচরে সান্তা এসে ঘুরে গেছে।














 আমাদের আবদার মেনে একরাশ ওম দিয়ে গেছে। যাকে আমরা পকেটে পুরে নিয়েছে। সারাবছর তাই আমাদের আর কিছু ভাববার নেই। কিন্তু আমরা কি সান্তাকে দেখতে পাই? বা পেয়েছি কোনদিনও? আমি কিন্তু পেয়েছি। আমার আশেপাশে সমস্ত সময় তারা ঘুরে বেরায়। প্রয়োজন হলে হাত বাড়িয়ে দেয়। দুঃখের সময় হঠাৎ করে উপস্থিত হয়, পাশে দাড়ায়, হয়ত হয়ত কেউ কেউ জিজ্ঞেস করে ‘কি হয়েছে?’ আবার কখনও কখনও আমার মোজার ভিতর লুকিয়ে রেখে যায় আমার চাহিদামত জিনিসপত্তর। তাই সান্তারা আছে আমাদের মধ্যেই আছে।
















হয়ত ঘন কুয়াশায় আমরা তাদের দেখতে পাই না। হয়ত তারা ট্রাম লাইন বরাবর সোজা হেঁটে যায়। হয়ত তারা ভিড়ের মধ্যে মিশে থাকে কিংবা আমাদের একেবারে গা ঘেঁসে থাকে কিন্তু আমরা বুঝতে পারি না। তাদের স্পর্শে কোন জাদুমন্ত্র নেই কিংবা হাতে কোন জাদুছড়ি। তাদের হাসি আমাদের মতই, আবার কান্নাও। কিন্তু আমরা হয়ত হাসি বাদে আর কিছুই দেখিনা। 














আমার শহরের সান্তারা তাই এই জমজমাট শীতে আবার এসে হাজির প্রতিবারের মত। শহরের ধুলো উড়িয়ে তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে। একটু চোখ ঘোরালেই দেখতে পাওয়া যায়। ময়দানের প্রান্তর ঘিরে কিংবা ভিক্টোরিয়ার দেওয়ালের ধারে তারা দাড়িয়ে থাকে। ব্যস্ত ফুটপাথে কিংবা রাস্তা ধরে হাঁটতে দেখা যায়। তাদের কাছে থাকে আমাদের জন্য উপহারের পশরা।














সেই উপহার যা  আমাদের মনে করিয়ে দিতে পারে এই শীতের সময় উষ্ণতা কিভাবে পাওয়া যায়। কিভাবে আগুনের পাশে বসে ওম নেওয়া যেতে পারে। কিভাবে জানালার সীট এসে জানান দেই রোদের কথা। এরাই আবার আমাদের নিঃশব্দে বলে যায় সান্তারা আছে আমাদের মধ্যেই আছে। আমরা চাইলেই এক একজন সান্তা হয়ে উঠতে পারি। আমরাই পারি অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে।














আমরাই বুক পকেটে থেকে ওম বের করে দিতে পারি ফুটপাথের ওই শিশুটাকে। আমরাই পারি সান্তা সেজে ওদের কাছে যেতে, আগুনের শিখায় উষ্ণতা পাওয়া শরীরকে আলিঙ্গন করতে।














তাই যেসব মানুষেরা আমাদের সান্তা সাজার ডাক দেয়, অভিনয় করে দেখায় সান্তার কেরামতি এই লেখাটি তাদের নিয়ে। এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সেইসব মানুষেরাই যে শহরের অন্যতম প্রধান চরিত্র। তাই না চিনলেও অচিরেই তাদের দেখে বুঝতে পারি শহরের সান্তা আমরা চাইলেই নিজেরাই হয়ে উঠতে পারি।














এই যারা আমারা একে অপরকে চিনি তারাই তো পারি একে অন্যের জন্য সান্তা হতে। অকস্মাৎ হাসি আসলে যে হৃদয়কেই প্রমোদিত করে। অন্যের হাসির মধ্যে নিজের হাসিটুকু খুঁজে নেওয়ার মধ্যেও তো আনন্দ থাকে।














সেই আনন্দটুকুই নাহয় একটু ভাগ করে নিই। সান্তা সাজা নাহয় একটা উপলক্ষই হোক। পরিশেষে রাতের অন্ধকারে মিশে যাওয়ার মধ্যেই নাহয় আনন্দের উপলব্ধিটুকু থাক। কুয়াশা ঘেরা শহর শুধু গুনবে তখন তার সান্তাদের আত্মকথা।। 


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যেদিন বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম

                        ওপারেতে বৃষ্টি এল ঝাপসা গাছাপালা,                    এপারেতে মেঘের মাথায় একশো মানিকজ্বালা।                     বাদলা হাওয়া মনে পরে ছেলেবেলার গান,                        বৃষ্টি পরে টাপুর-টুপুর নদে এল বান।                        বৃষ্টির কিছু নিয়ম আছে, সে যখন তখন ঝড়ে পড়ে না। ইচ্ছে হলেও না। অনেকটা ঠিক আমাদের মতন, আমরা যেমন চাইলেও কাঁদতে পারি না সবসময়। কান্নার কথা লিখতে গিয়ে মনে পড়ল ক্লাস এইটে এই বৃষ্টির দিনেই একদিন খুব কেঁদেছিলাম। বিকেলে ...

মণিপুর জ্বলছে! কিন্তু কেন? অন্তিম পর্ব।

  সূচনা। বর্তমান দাঙ্গার সূত্রপাতের কারন হিসেবে যদি কিছু পয়েন্টকে লিস্ট করা যায় তাহলে দাঁড়ায়- বীরেন সিংয়ের রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদ, পোস্ত চাষের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান, অনিবন্ধিত অভিবাসন, কুকিল্যান্ডের দাবি এবং মেইতেই পুনর্জাগরণবাদ।  গত বছরের এপ্রিলে বহুদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভের স্ফুলিঙ্গ  জ্বলন্ত উত্তেজনাকে প্রজ্বলিত করে। অসম রাইফেলসের উপস্থাপনায় এই সময়কালকে "সূচনা" হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই মাসে, মণিপুর হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে মেইতেই সম্প্রদায়কে তফসিলি উপজাতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদনগুলি বিবেচনা করতে বলেছিল-সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী মণিপুরের পাহাড়ি অঞ্চলগুলিতে কুকিদের দ্বারাই বেশিরভাগ সম্পত্তির মালিকানা আছে। 1960 সালের মণিপুর ভূমি রাজস্ব ও ভূমি সংস্কার আইন শুধুমাত্র তফসিলি উপজাতিদের পার্বত্য অঞ্চলে জমি কেনার অনুমতি দেয়। মণিপুরের শীর্ষস্থানীয় উপজাতি নাগরিক সমাজের সংগঠন অল ট্রাইবাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন মণিপুরের পাহাড়ি জেলাগুলিতে যেখানে উপজাতি সম্প্রদায়ের আধিপত্য রয়েছে সেখানে "সংহতি মিছিল" করার আহ্বানের দেয়।  ৩রা মে সেনাপতি, উখরুল, কাংপোকপি, ত...

নিয়তির কাছে যা যা বলার ছিল

নবারুণ সেই কবেই বলেছিলেন- “গাঁড় মারি তোর মোটরগাড়ির, গাঁড় মারি তোর শপিং মলের। বুঝবি যখন আসবে তেড়ে, ন্যাংটো মজুর সাবান কলের। পেটমোটাদের ফাটবে খুলি, ফাটবে মাইন চতুর্দিকে। গলায় ফিতে নেংটি বেড়াল, তার বরাতেই ছিঁড়বে শিকে”। আজ একুশ দিন শেষ হবার ছিল। শেষ হবার আগেই আরও উনিশ দিনের জন্য লকডাউন কার্যকর হয়ে গেল। প্রধানমন্ত্রী এসে বলেছেন সরকার বহু আগে থেকেই এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত ছিল। হয়ত ছিল কিন্তু কীভাবে ছিল সেই প্রশ্ন কি কেউ করেছে? তিনঘণ্টার নোটিশে দেশে জুড়ে সমস্ত রকমের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেল। আমরা আনন্দ পেলাম। এবারে দীর্ঘ ছুটি। ওয়ার্ক ফ্রম হোম। কিন্তু একবারও ভাবলাম না হোমলেস পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা। যাদের জন্য আমাদের ঝাঁ চকচকে সুন্দর শহরে এখনও বসন্ত এলে আমরা প্রেমে পড়ি। যত ছ্যাঁচড়া কাজের জন্য হাড়হাভাতে মানুষগুলো গ্রাম ছেড়ে শহরের কোণায় কোণায় আস্তাকুঁড়ে আস্তানা গারতে শুরু করে সেই চল্লিশ দশকের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময় থেকে। সত্যজিতের ‘পথের পাঁচালি’র কাশবনের মধ্যে দিয়ে রেলগাড়ি দেখে আমরা দৃশ্য ভাবনার তারিফ করি। কিন্তু রেলগাড়ি ব্যবহারের ইঙ্গিত বুঝতে ব্যর্থ হই। রেলগাড়ি শুধু কাশবনের মধ্য...