সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

যে ডাক দিয়ে যায়

যদিও বা দেখার ছিল অনেক কিছু, স্মৃতিরা এখনও নেয় পিছু। রাত ভোর হলে কেউ দেয় না ডেকে তবুও তো থাকে ওরা- খেয়ে পড়ে বেঁচে। সেদিনও না কোন দিন ছিল, না কোন রাত, গভীর স্মৃতির মাঝেই ওরা বেঁচে থাক। ফেরিওয়ালা হাঁক দিয়ে যায়, অনুভূতিরা ঘুমায়, কাল ভোর হলে পাওয়া যাবে, পাখির ডানার শব্দ। বইয়ের পাতায় লেখা শতশত কবিতা প্রেম, চায়ের গ্লাসে ধোঁয়া ওঠা, চোখেরা ভাবে, মাঝে মাঝে সারা শহর কুয়াশা ঘেরা থাকে। তবুও ঐ বুঝি হাঁক দেয়- শহরতলির কেউ।।

জন্মদিনের (ভালোবাসার) উপহার

এখন কটা বাজে জানা নেই। হয়ত খুব বেশী রাত নয়, অনেক লোক তো এখনও দেখি রাস্তায়। শুধু আমি নেই, না আমি নেই, কোথাও নেই। ঘরে নেই, বাইরে নেই, কোথাও নেই। জানি তুমি আছ, ঘরে। হ্যাঁ ঘরেই আছ। আজ কোথাও জাওনি জানি। তোমায় ঘিরে এখন অনেক লোক, রঙিন আলো, হয়ত সাথে বেলুনও। একটা ২১ লেখা মোমবাতি, আর বড় একটা কেক। নাহ ক্যাটবেরী ফ্লেভার না, তুমি তো বলতে ওটা ভালো লাগে না। যেটা ভালো লাগে, ব্ল্যাকফরেস্ট- সেটা কেউ আনবে না জানি। তুমি হয়ত বলবেও না। এতক্ষনে সবাই হাততালি দিয়ে ফেলেছে। আনন্দে তোমায় জড়িয়ে ধরেছে, শুভেচ্ছা জানাছে, উপহার দিচ্ছে, আরও কত কি। তোমার মা হয়ত বলছে- “রাতের খাবার কিন্তু রেডি, তোরা তাড়াতাড়ি খেয়ে গল্প করিস”। তোমাদের ডিভিডি তে গান বাজছে হয়ত, তালে তাল মেলাচ্ছ বোধহয়। ছোট খোকা কেক মাখামাখি করে ফেলেছে। তোমার কোন বন্ধু হয়ত, সামনের বারান্দায় এসে তার প্রেমিক কে মেসেজ করছে- “সাবধানে এসো, আমি এখান থেকে বেরিয়ে জানিয়ে দেবো”। তুমি হয়ত সবার জন্য এবারে, আরও এক গ্লাস কোল্ডড্রিঙ্কস আনতে গেলে। মা এসে জিজ্ঞেস করল- “আর কেউ আসবে নাতো”? নাহ আর কেউ আস...

সেই ছেলেটা........সেই মেয়েটা

নিচের কবিতাটি নিছক কোনো কবিতা নয়, সংবাদপত্র 'এইসময়'  তে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন ( http://www.epaper.eisamay.com/Details.aspx?id=8165&boxid=144328781  ) পড়ার পর এ আমার একান্ত আত্মব্যক্তি, সমবেদনা ও অনুরোধ সকলকে একবার, মাত্র একটিবার ভেবে  দেখার যে সত্যিই কি আমরা পারিনা শাসন মুক্ত শোষণ মুক্ত ভালোবাসার জন্য একটা  রঙিন পৃথিবী উপহার দিতে?আবেদন রইল সকলের কাছে ওই যে ওই ছেলেটি শুয়ে আছে রেললাইনের ধারে। কিছুক্ষন আগেই যার সারা দেহ লোকাল ট্রেনটি মারিয়ে গেছে । যার কাটা হাত পা আরও কত কিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে আশেপাশে...। চাপচাপ রক্ত লেগেছে পাথরগুলিতে আমি তো ওর কথাই বলছি। আমি ওর কথাই বলবার চেষ্টা করছি... বছর কুড়ির ছেলেটি আজ অপঘাতে মৃত বাড়ির সকলে মূর্ছা যাচ্ছে অনবরত। তারই কিছুদুরে যেখানে আনন্দে খই ফুটছে বিষ দাঁত তুলে সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস নিচছে। সেখানেই কেউ অনবরত কাঁদছে সংসার গড়ার স্বপ্নে নিজের শাঁখা ভাঙছে। সুখ সারির ছবি সে এঁকেছিল খাতায় তাদের কথাই লিখছি আমি আমার ব্লগের পাতায়। ওরা একে অপরের সান্নিধ্যে এসেছিল। ওরা একে অপরকে ভালবেসেছিল। ভা...

৩রা ডিসেম্বর

দুয়ারখানি হাট করে খোলা, জানলা দিয়ে আসে শীতের বাতাস, মা বোধহয় স্নানে গেছে ঠাকুরদালান শোঁকে তুলসীর সুবাস। এসবের মাঝেও ঘটে অনেক কিছু, আদিখ্যেতা না হোক ভালোবাসার পিছু- ছেড়ে এগিয়ে যায় শবের গাড়ি, পিছন থেকে মৃত্যু মশাল, এগিয়ে আসে সারি সারি। জানতাম তুমি এসব কিছুই জানবে না, আরেকবারের জন্য বলবেও না- “ভেবো না সব ঠিক হয়ে যাবে”। আর সত্যিই নেই কিছু বাকি, মৃত্যুর দিনক্ষণ নির্দিষ্ট ৩রা ডিসেম্বর আমি একার সাথেই থাকি। থাক তবে এসব, আমার তো হল বলা। তুমি শুনলে কি না শুনলে, হল না তা জানা। শুধু রাত থেকে দিন, দিন থেকে রাত কীভাবে যেন সময় চলে যায়। আমি চুপি চুপি পিছু নিই, শববাহী গাড়িটার সাথে, সে আমায় পৌঁছে দেয় সময়ের অনন্ত গভীরতায়, যেখানে কেউ বলেছিল একদিন- “ভেবো না সব কিছুই ঠিক হয়ে যায়”।

শেষের অংশটা

অন্ধকারে পথ হাঁটত রবি, আর সুদেষ্ণা আঁকত ছবি। সেই পথেই একদিন দেখা ওদের, প্রথম দেখাতেই প্রেম, এরপর শুরু দিন বদলের।     ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে মেলামেশা, একে ওপরের কাছে আসা। এরপর এক অনিয়মিত আবদার, দেখাশুনাও হত মাঝেমধ্যে আবার।     রবি লিখত চিঠিতে ভরা কবিতা, আর সুদেষ্ণা রাখত বুকের মাঝে গুছিয়ে তা। একটা ইচ্ছে ছিল ওদের ঠিক যেমনটা আছে আমাদের।   কিন্তু সময় বড়ই সূক্ষ্ম, পাশ কাটিয়ে যায়- আর রবি শুধুই অন্ধকারে আলোকে হাতড়ায়, সুদেষ্ণা পাশে এসে দাড়ায়, বৃষ্টির দিনে, একটা ছাতায় ওদের দুজনের চলে যায়।   কিন্তু কটাই বা স্বপ্ন ছিল ওদের? ওরাই তা জানত। আমি শুধু জানি, ওরা একসাথে থাকতে চাইত।     ওরা ঝড় ওঠবার ভয় পেত, লোকাল ট্রেনে আলাদা বসত, আর কখনও বা সুযোগ পেলে- হাতে হাত ধরত।   আর মাঝে মাঝে বলত- ‘শেষের কবিতা’র মতন আমাদের শেষটাও যদি এক হয়?   কিন্তু কেইই বা মানতে চায় সবটা শুধু আমিই দাড়িয়ে দেখেছি শেষটা। ...

আর্তনাদ

  আমি দীর্ঘ অনন্তদেহী নই, আমি ক্ষুদ্র, আমি তুচ্ছ, হাওয়া দিলে উড়েও যেতে পারি। তবুও মন আছে, দেহ আছে, ঘর আছে, সংসার আছে, আর আছে ফুটপাথে রাত কাটানো, ঐ বাচ্চাটার পাশে দাঁড়ানোর সাহস। যে সাহস অর্জন করেছি, ঐ মানুষটাকে দেখে। যাকে তারা ফিরিয়ে দিয়েছিল সকল খাত থেকে, পাগল পাগল বলে চেল্লিয়ে উঠেছিল সকলে, তিনিও তো ভেবেছিলেন, ভালোবাসা সকলের তরে বিলিয়ে দেওয়ার জন্যই। ঐ যে ঐ মানুষটা, যাকে দেখে তোমরা বুকে সাহস বাঁধলে, দুর্গমকে সুগম করার কাজের ভার নিলে, আমি তো তার কথাই বলছি। আমি তো তার কথাই বলছি, যে বারবার আমাদের বলতে চেয়েছিল- ভালোবাসাই একমাত্র আনতে পারে পরিবর্তন। আজ সে নেই, তার নামে কোন নামফলক নেই, টাকা নেই, পয়সা নেই, নাতনিটাও নেই, শুধুই রয়ে গেছে তার বিলিয়ে যাওয়া ভালোবাসা গুলো। আর... কিছু মানুষের এমনই এখনো, ফাঁকা গলার চিৎকার।।      

আমি এবং ইন্দ্রজিৎ

আচ্ছা ইন্দ্রজিৎ আপনারা কেউ চেনেন? সেই যে সেই ছেলেটা, মাথায় ছোট ছোট চুল নীল রঙের জামা পড়ে স্কুলে যায় আর সাথে আরও দুচারজন থাকে তার। চিনতে পারছেন না বোধহয়? আমিও চিনতাম না, যদি না একদিন ইউনিভার্সিটি ফেরার পথে তার সাথে দেখা হত। বেশ কিছুদিন হয়ে গেছে তার সাথে আমার দেখা হয়েছে। এই যে আপনারা যে পুজো কাটিয়ে উঠলেন যার রেশ এখনও আমাদের লোমকূপে লেগে আছে আমি তার কিছুদিন আগের কথা বলছি। সেদিনও আমি ঠিক সময়েই বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলাম ভেবেছিলাম একটা নিরুদ্দেশের ভ্রমণ করে আবার ফিরে আসব। কিন্তু হল না, ভয় পেয়ে গেলাম। আর এই ভয়ই যখন জমতে শুরু করেছে ঠিক সেই সময়ই লোকাল ট্রেনের জানলার পাশে আমার সাথে ইন্দ্রজিতের আলাপ। বছর দশকের ইন্দ্রজিৎ। হাতে বেশ কিছু রঙিন বেলুন নিয়ে সে জানলার ধারে বসে আছে। ওর হাতে বেলুন গুলো দেখে আমার মনে পড়ে যায় সেই যে ছোটবেলায় আমার বাড়ির পাশে মেলা বসত পুজোর সময় আর আমাদের বাড়িতে এসে থাকত রঞ্জন দা, রঞ্জন দাও ওর মতন বেলুন ফোলাত। কিন্তু সেগুলো সে বিক্রি করত আর প্রতিদিন বেরোবার আগে আমার হাতে একটা বেলুন দিয়ে বলত “দাদাবাবু আজ এটা নিয়ে খেলা কর কাল আবার একটা দেব”। আজ মেলাটা আমার বা...