সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

আমার শহরের সান্তারা

আমার শহরটা নাকি বেশ রঙিন। এক এক সময়ে তার বিভিন্ন রঙ ধরা পরে। এই যেমন শীতকাল আসতেই শহরের রঙ বদলে গেছে। একটা কার্নিভাল কার্নিভাল ভাব এসে গেছে। আর এখন আমরা সেই কার্নিভালের একেবারে মধ্যগগনে। বড়দিন কাটিয়ে এখনও হয়ত আলমোরা যায়নি। রঙিন আলোর রেশ কাটিয়ে উঠতে আরও কিছুক্ষণ সময় হয়ত লাগবে। এরই মধ্যে আমাদের অগোচরে সান্তা এসে ঘুরে গেছে।   আমাদের আবদার মেনে একরাশ ওম দিয়ে গেছে। যাকে আমরা পকেটে পুরে নিয়েছে। সারাবছর তাই আমাদের আর কিছু ভাববার নেই। কিন্তু আমরা কি সান্তাকে দেখতে পাই? বা পেয়েছি কোনদিনও? আমি কিন্তু পেয়েছি। আমার আশেপাশে সমস্ত সময় তারা ঘুরে বেরায়। প্রয়োজন হলে হাত বাড়িয়ে দেয়। দুঃখের সময় হঠাৎ করে উপস্থিত হয়, পাশে দাড়ায়, হয়ত হয়ত কেউ কেউ জিজ্ঞেস করে ‘কি হয়েছে?’ আবার কখনও কখনও আমার মোজার ভিতর লুকিয়ে রেখে যায় আমার চাহিদামত জিনিসপত্তর। তাই সান্তারা আছে আমাদের মধ্যেই আছে। হয়ত ঘন কুয়াশায় আমরা তাদের দেখতে পাই না। হয়ত তারা ট্রাম লাইন বরাবর সোজা হেঁটে যায়। হয়ত তারা ভিড়ের মধ্যে মিশে থাকে কিংবা আমাদের একেবারে গা ঘেঁসে থাকে কিন্তু আমরা বুঝতে পারি না। তাদের...

পিকেঃ আরও একটু সাহসিকতার প্রয়োজন ছিল।

আমার মনে হয় আমরা অধিকাংশ ভারতবাসীই আজকের সময়ে দাড়িয়ে ভাবি যে এই সোশ্যাল সিস্টেমের দশা একেবারে ভগ্ন। এই ভগ্নদশা যে বিভিন্ন আর্ট ফর্ম গুলোতে উঠে আসবে সেটাই কাম্য। কিন্তু আমরা বোধহয় শিল্পের নান্দনিক গুরুত্বের থেকে বিনোদনের গুরুত্বকেই প্রধান্য দিয়ে থাকি। তাই মানুষের সমস্যা কিংবা সিস্টেমের অপপ্রচার যাই হোকনা কেন তাকে বিনোদনের মোড়কে আবদ্ধ করেই পেশ করতে হয় নচেৎ ব্যাবসায়িক ধান্দা নিপাত যাবে। তাই আমরা ভাবলেও সিস্টেমের দিকে অঙ্গুলিনির্দেশ করতে পারিনা। ঠিক সেটাই বড় চোখে পড়ল রাজকুমার হিরানীর ‘পিকে’-তে। ঠিক যেমন আমির খানের টেলিভিশন শো। যে বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনায় বসে সেগুলি নিঃসন্দেহে অবশ্যই স্পর্শকাতর কিন্তু তা আমাদের শুধুমাত্র এই বোধ উপলব্ধ করিয়েই সীমিত থাকে। প্রথাভিত্তিক জীবনকাঠামো থেকে বেরিয়ে এসে ঠিক কে ঠিক কিংবা ভুল কে ভুল হিসেবে মেনে নিতে বলেনা। বলেনা এই উপলব্ধি থেকে আমাদের চারপাশে ঘটে চলা অন্যায়ের বিরোধিতা করতে বা নিদেনপক্ষে যুক্তিসঙ্গত ভাবে ভুল-ঠিকের কারন তুলে ধরতে। ‘ পিকে’-তেও তাই যে বিষয় নিয়ে ১৫৩ মিনিট ধরে গল্প এগিয়ে চলে তা আপামর ভারতবাসীর সকলেরই জানা। আমরা জানি কিন্তু জেনেও ...

দু-এক কাপ কফির জন্য

কারোর জন্য আজকে ভীষণ মনখারাপ। ইচ্ছে ছিল , আড্ডা দেব। সঙ্গে কফি দু-এক কাপ। সন্ধ্যে হল, সূর্য বুঝি ডুবল ঐ। ট্র্যাফিক জ্যামে আটকে আছি , সময়ের আর খেয়াল কই ? ঘড়ি বলছে সবে মাত্র ছটা বাজতে পাঁচ। এখনও অনেক দেরি আছে , সাতটা থেকে রেডিওতে মনখারাপের গান বাজে। বাড়ি ফিরতে এই পথে , রোজই শুনি (রেডিওতে) , কারা যেন সব চিঠি লেখে আঁকরে ধরে জাপটে ধরে ভালোবাসে একে অন্যকে। আজকে কোন চিঠি নেই। মনখারাপের বাজছে শানাই , বিকেল থেকেই। রাস্তাঘাটে খুঁজছি তাই আনন্দকে , হন্যে হয়ে শেষমেশ বাড়ির পথে। সুখ কি হয় ? জানিনে আজ। আজ ভীষণ মনখারাপ। কথা ছিল অনেকটা পথ হেঁটে যাব। ফাঁকা থাকবে রাস্তাঘাট। শীত এসেছে। ভিড় এখন তাই হয়না মালুম লোকাল ট্রেনে। রোজই দেখি ওরা দুজন প্রেম করে লুকিয়ে লুকিয়ে স্টেশনে। আজকে ভীষণ হিংসে হল ওদের দেখে , ঠিক যেন আমরা দুজন , বৃষ্টির দিনে এক ছাতাতে। হারিয়ে গেছে সেসব দিন। অনেক ভিড়ের মাঝে , এখন আর হয়না শোনা গুলজারের গান , মাঝে মাঝে ঐ রেডিওতে বাজে। তোমার জন্য আজকে ভীষণ মনখারাপ। হয়ত হবে দেখা। কোনএকদিন। সঙ্গে কফি , দু-এক কাপ।...

নবারুনের প্রতি

শারীরিক স্বাচ্ছন্দ্য জ্ঞাত হওয়ায়, কমিউনিস্ট পার্টির শেষ মিছিলে- শুধু মৃতদেহরা এসেছিল কফিন বন্দী হয়ে। তারপর দিন বদলেছে, আগুন এসে পুড়িয়েছে, শরীরের সকল ছাল চামড়া। ভোরের বাতাসকে দুর্গন্ধ করেছে মোরগের হিসি। রাস্তা ভাসিয়েছে শালিক, কাগের গু। মানুষ অতি সাবধান, আস্তানা গেড়েছে জংলা নদীর পাড়ে। সেখানে নতুন শহর হবে। হবে নতুন শপিংমল, বসবে নতুন মোবাইল টাওয়ার, বিদেয় হবে চড়ুই পাখির দল। শুধু এরপর থেকে বইমেলার এক কোনায়, নতুন বইয়ের গন্ধ নিয়ে চুপচাপ বসে থাকবে না, সাদা চাপ দাড়ির ভদ্রলোক। যিনি চিৎকার করে বলেছিলেন- “এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ নয়”।।  

যেদিন বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম

                        ওপারেতে বৃষ্টি এল ঝাপসা গাছাপালা,                    এপারেতে মেঘের মাথায় একশো মানিকজ্বালা।                     বাদলা হাওয়া মনে পরে ছেলেবেলার গান,                        বৃষ্টি পরে টাপুর-টুপুর নদে এল বান।                        বৃষ্টির কিছু নিয়ম আছে, সে যখন তখন ঝড়ে পড়ে না। ইচ্ছে হলেও না। অনেকটা ঠিক আমাদের মতন, আমরা যেমন চাইলেও কাঁদতে পারি না সবসময়। কান্নার কথা লিখতে গিয়ে মনে পড়ল ক্লাস এইটে এই বৃষ্টির দিনেই একদিন খুব কেঁদেছিলাম। বিকেলে ...