সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

টেলসঃ বর্ষাকাল (১ম পর্ব)


এবারের গরমকালটা যেরম ভুগিয়েছে বর্ষাকালশুরু হওয়ার পর থেকে বৃষ্টি ঠিক সেই একই রকম ভুগিয়ে চলেছে এক একটা নিম্নচাপের মেয়াদ দীর্ঘদিন ধরে চলছে বৃষ্টি একবার শুরু হলে থামবার নাম গন্ধ নেই গরমের সময় যেমন দুফোটা বৃষ্টির জন্য মন ব্যকুল হয়ে উঠেছিল এখন দীর্ঘ দেড় মাসের বর্ষার পর মনে হয় কখন শরতের মেঘ আকাশে দেখা যাবে কিন্তু উপায় নেই সবে শ্রাবণের দ্বিতীয় সপ্তাহ
আজ সকাল থেকেই যেন আকাশের মন আরও খারাপ হয়ে গেছে  সেই যে ভোররাত থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে তা থামার নাম গন্ধ নেই বেলার দিকে আবার কালো করে এসে এক পশলা ভারি বর্ষণ হয়ে গেছে তারপরও যে থেমেছে তা নয় টিপটিপ করে পরেই চলেছে কখনও আবার একটু জোড়ে হয় তো কখনও একটু রেহাই দেয় এরম দিন ঘরে বসে কবিতা লেখার পক্ষে আদর্শ কিন্তু কাজের জন্য এই ঝড় জল মাথায় নিয়ে বেরোনোর পক্ষে একেবারে সুবিধার নয় কোন উপায় নেই কাজলকে আজও বেরোতেই হবে দুপুরের ট্রেনে না হোক বিকেলের ট্রেনে যেতেই হবে না গেলেই ফোন আসা শুরু হবে কখন আসছিস? আর কতক্ষন লাগবে? তাড়াতাড়ি আয় অনেক কাজ ইত্যাদি ইত্যাদি এই কারনেই কাজলের মাঝে মাঝে মোবাইল ফোনটাকে সহ্য হয় না মনে হয় এর থেকে নিস্তার পেলে বাঁচা যায় কিন্তু সে উপায়ও বা কই একবেলা যদি ফোনের কাছাকাছি না থেকেছে কি বাড়ির ফোনে ফোন আসা শুরু হয়ে যাবে।
বৃষ্টিটা একটু রেহাই দিতেই কাজল স্নান খাওয়া সেরে বেরোবার জন্য প্রস্তুত হতে লাগল। কিন্তু বেরোতে যাবে এমন সময় আবার মুশল ধারায় বৃষ্টি নামল। কাজল একবার ভাবল ফোন করে বলে দিই যে আজ আসা যাবে না। আবার ভাবল না একগাদা কাজ পড়ে আছে, কাল আবার ছুটি আজ যেতেই হবে। সবে তিনটে দশ, সাড়ে তিনটের ট্রেনটা না পেলে চারটের ট্রেনে গেলেও কোন অসুবিধা নেই। একটু অপেক্ষা করাই যেতে পারে।  কিছুক্ষন পরে বৃষ্টিটা একটু হাল্কা হল, কাজল ভাবল এই সুযোগে বেরিয়ে পরা ভাল নচেৎ এরপর যদি আবার জোড়ে নামা শুরু হয় তো এই ট্রেনটাও পাওয়া যাবে না। কাজল ষ্টেশনের উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পরল।
ষ্টেশনের যাওয়ার সময় বিশেষ করে এই বর্ষাকালে কাজলের রোজই মনে হয় যে এই সময় সবচেয়ে খারাপ অবস্থা থাকে রাস্তাগুলোর। একেবারে তথৈবচ। একটু বৃষ্টি হয়েছে কি জল জমে একাকার। অথচ এই একটিই রাস্তা দিয়ে দিনে কয়েক হাজার লোক যাতায়ত করে। কিন্তু রাস্তাটা যে ভালো হলে সকলের উপকার হয় তা কি কেউ বোঝে না। বিশেষত যারা সাধারন মানুষের বেসিক রাইটের দায়িত্ব নিয়ে আছে। এসব ভাবলেই কাজলের রাগ আরও বেড়ে যায়। কাজল জানে ভেবে কোন লাভ নেই এটাই প্রথা। এইভাবেই মানিয়ে নিয়েই সকলে থাকে।
ষ্টেশনে পৌঁছে জানা গেল যে ট্রেন লেটে চলছে। একেই এক ট্রেন পরে যাচ্ছে তাও আবার ট্রেন লেটে চলছে। কখনও যে পৌঁছাবে আজ কে জানে। প্ল্যাটফর্মের একদম শেষের দিকে শেডের তলায় গিয়ে বসল।  কিছুক্ষন পর কে যেন পিঠে হাত রাখল। কাজল ঘুরে দেখল সুপ্রিয়।
-       আরে কি ব্যাপার তুই? কোথায় যাচ্ছিস?
-       বলিস না আর। মা পরশু বাথরুমে পরে গিয়ে হাত ভেঙে ফেলেছে। মাকেই দেখতে যাব হাসপাতালে।
-       বলিস কি? কিভাবে হল?
-       আরে আমি ছিলামই না বাড়িতে। অফিসে গিয়েছিলাম। পাশের বাড়ির কাকিমা ফোন করে বলল। তারপর সে যা অবস্থা আর বলি কি...............
-       কেন?
-       একেই প্যাচপ্যাচে বৃষ্টি। সারা শহরে জল জমে একাকার। তারপর অমুকের মিটিং তমুকের মিছিল এসব তো লেগেই আছে। ২০ মিনিটের রাস্তা বাসে ৪৫ মিনিত লাগল। শেষে বাধ্য হয়ে ট্যাক্সি করে এলাম।
-       হ্যাঁ সে যা বলেছিস। বর্ষা শুরু হল আর রাস্তাঘাটে বেরনোর উপায় নেই। আমাদের এই ষ্টেশনরোড টাকেই দেখ দীর্ঘদিন ধরে এক অবস্থা। আজ দেখলাম ইট ফেলেছে। বোধহয় সারাবে।
-       হ্যাঁ আমিও আসতে গিয়ে দেখলাম।
-       তুই বল এটা কি আগে করা যেত না?
-       আরে ভাই আগে করলে মুনাফাতে লোকসান হত যে। বৃষ্টির সময় করবে, মাল মেটেরিয়াল, লেবার কস্ট এসবে ঘাটতি দেখিয়ে বেশি টাকা নেবে। এ তো সিম্পল ফান্ডা। যত বেশি বৃষ্টি তত বেশি টাকা।
-       একদম ঠিক বলেছিস।
-       তবে ভাই ডেলি প্যাসেঞ্জারি করি তো এতটুকু বলতে পারি তিন চার বছর আগে এরম অবস্থা ছিল না রাস্তাঘাটের। দুই মিটার অন্তর অন্তর বাতি না লাগিয়ে রাস্তাঘাট তো আগে সারাতে পারত। সব হল দেখনদারি......
-       চল চল এগিয়ে যাই ট্রেন ঢুকছে।
কাজল নেমে গেল। সুপ্রিয় ওর মাকে দেখতে চলে গেল। কাজল নেমেই দেখল তিনটে মিসকল। ব্যাল্যান্স নেই কাজেই ফোন করার কোন প্রশ্নই ওঠে না। আর তো ভারি লাগবে পনেরো বিশ মিনিট। মেট্রো থেকে নেমে সিঁড়ির কাছে গিয়ে দেখল এস্ক্যালেটর বন্ধ আর গেটের মুখে অনেক লোক দাড়িয়ে আছে। তবে কি আবার বৃষ্টি নামল? গেটের কাছে এসে বুঝল না বৃষ্টি তো হচ্ছে না তবে? ওরে বাবা! রাস্তার অবস্থা দেখে চক্ষু চড়কগাছ। একহাঁটু জল জমে গেছে। কিন্তু এই বৃষ্টিতেই এত জল জমে গেলে কিভাবে?
প্যান্ট ফোল্ড করে অগত্যা জলে নেমে গেল। মেট্রোর এই গেটেই প্রতিদিন এক বৃদ্ধা ভিক্ষে করে। কাজল রোজই দেখে আসবার সময় তাকে। পকেটে খুচরো থাকলে দু এক টাকা দেয়ও তাকে। দুদিন ধরে অন্য আরেক বৃদ্ধাও ওপাশের গেটে ভিক্ষে করা শুরু করেছে। অংশীদার বেড়েছে। কিন্তু আজ দুজনের কেউ নেই। বৃষ্টির জন্য বোধহয় আসেনি। এসব ভাবতে ভাবতে কাজল অবশেষে অফিসে পৌঁছলো। গিয়ে দেখে কেউ আসেনি। যাক এক দিকে ভালোই হয়েছে তাড়াতাড়ি বেড়িয়ে যাওয়া যাবে।
সাড়ে সাতটার ট্রেন আটটা বাজে গেছে এখনও এসে পৌঁছায়নি। কোন ঘোষণা অবধি হয়নি এখনও। বৃষ্টি হলে ট্রেনের এরম গণ্ডগোল লেগেই থাকে। এ আর নতুন কিছু নয় নিত্যযাত্রীদের কাছে। দুটো ট্রেনের ভিড় ঠেলতে ঠেলতে এবারে যেতে হবে। তার ওপর ঈদের সময় এখন, ভিড় যে রোজকারের থেকে সামান্য হলেও বেশি হবে তা ষ্টেশনে দাড়িয়ে থাকা লোকেদের দেখেলেই বোঝা যায় বেশ। কোনরকমে ট্রেন এলে ভিতরে ধুঁকে একজায়গায় সেঁধিয়ে যেতে পারলে হয়। বৃষ্টির মধ্যে গেটে দাড়িয়ে যাওয়ার কোন মানেই হয়না। নেমে আবার কাজলকে পড়াতে যেতে হবে। কাজেই ভিজে গেলে চলবে না। সওয়া আটটায় ঘোষণা হল ট্রেন আসছে। সাড়ে আটটায় এল। ভিড় ঠেলেঠুলে কোনরকমে একটু দাঁড়াবার জায়গা পেয়ে কাজল হাঁফ ছেড়ে যেন বাঁচল। সামনে বসা দুই মধ্যবয়স্ক ভদ্রলোক তখন তাদের স্মার্ট ফোনে গেম খেলতে ব্যস্ত। কাজলের পিছনে এক মহিলা যে ভিতরে ঢুকতে পারছে না ওদের এতে কোন ভ্রূক্ষেপই নেই। অগত্যা কাজল কেই বলতে হল ‘ একটু পা টা টেনে নিন, উনি ঢুকতে পারছেন না’। কাজল ভেবে পায় না এদের মত প্রায় অধিকাংশই সারাদিন এই মোবাইলে কি করে? এদের কি আর কোন কিছু নেই? একটু অবসর পেয়েছে কি মোবাইল নিয়ে শুরু হয়ে গেছে। আর কি সত্যিই এদের কোন ভাবনাচিন্তা নেই? নিজেদের সময় টাকেও নিয়েও কি এরা ভাবে না? কাজল কিছু বোঝে না। মোবাইল বের করে দেখে ন’টা বাজতে দশ। আজ আর হল পড়াতে যাওয়া!
ট্রেন থেকে যখন নামল তখন ন’টা পনেরো। পড়াতে যেতে হবে না। ট্রেনে থাকেতেই ছাত্রবাড়ি থেকে ফোন এসেছিল কাজল বলে দিয়েছে শনিবার সকালে যাবে, আজ এখনও ফিরতে পারেনি। গত বছর অ্যাকসিডেন্ট এর পর কাজল এখন আর প্ল্যাটফর্ম থেকে রেললাইনে লাফ দিয়ে নেমে উল্টোদিকের প্ল্যাটফর্মে যায় না। ইদানীং সে ওভারব্রিজ দিয়েই পারাপার হয়। এদিকের প্ল্যাটফর্মটার শেষের দিকে বেশ কিছুদিন হল কিছু উদ্বাস্তু মানুষ এসে ঠাই নিয়েছে। এরা কারা কোথা থেকে এসেছে বোধহয় কেউ জানেনা। কারোর জানবার কখনও কোন প্রয়োজন হয় নি। হয়ত এদের মধ্যেকার হবে, এক মহিলা তার দুই সন্তানকে নিয়ে ওভারব্রিজের এক কোনায় পরে থাকে। রোজ রাতে ফেরবার সময় কাজল দেখে ওদের। সাড়ে আটটা ন’টার মধ্যেই ওরা ঘুমিয়ে পরে। দিনের বেলা দেখা যায় না। হয়ত ওদের দলের মধ্যে মিশে থাকে। গরমকাল থেকেই কাজল ব্যাপারটায় নজর দিয়ে এসেছে। কিন্তু বর্ষা শুরু হওয়ার পর রোজ রোজ ওদের আর দেখা যায়না। যেদিন খটখটে থাকে বৃষ্টি হয়না সেদিন থাকে বৃষ্টির দিন থাকে না। তবে বৃষ্টির দিন কোথায় যায়? কাজল এটা মাঝে মধ্যেই ভাবে।
ওভারব্রিজের সিঁড়িগুলোতে এখন কিছু ইয়ং ছেলে রোজ বসে বসে আড্ডা মারে। ভিড়ের সময় লোকজনের নামতে খুব অসুবিধা হয়। একদিকে ঐ মহিলা তার সন্তানরা শুয়ে থাকে আবার সিঁড়িতে ঐ ছেলেগুলো বসে থাকে। আজ নামবার সময় কাজলের এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হল।  আজ মহিলা ছিলেন না। ছেলেগুলো বসে ছিল। লোকজন ওদের পাশ দিয়েই নেমে যেতে লাগল। কাজল খেয়াল করল ওর একটু আগে সেই ভদ্রলোক যাচ্ছে যিনি ট্রেনে কাজলের সামনে বসে মোবাইলে গেম খেলছিলেন, যাকে কাজল বলেছিল একটু পা টা টেনে নিয়ে বসতে। বলবার পর ভদ্রলোক কাজলের মুখের দিকে এমন ভাবে তাকিয়েছিল যেন ‘ কে হে তুমি’? এমন একটা ভাব। এই ভদ্রলোক তার পাশের ভদ্রলোক কে বলছে-
-       আর বলবেন না এখন এই ট্রেন, প্ল্যাটফর্ম সব ছোটলোকে ভর্তি হয়ে গেছে। যাতায়ত করা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে।
-       কেন?
-       কেন আর কি? এখানে শুয়ে থাকে সেখানে বসে থাকে পাশ দিয়ে যাওয়া দুর্বিষহ। ট্রেনে ভিড় হলে তো কথাই নেই। আমি তো পারলে এক ট্রেন আগে চলে আসি। আজ নেহাত দেরি হয়ে গেল তাই।
-       ওহ আচ্ছা। তা ঠিক বলেছেন।
-       দেখুন কত সুন্দর এই ছেলেগুলো বসে আসে দিব্যি পাশ কাটিয়ে নেমে যাচ্ছি কোন অসুবিধা হচ্ছে না।
-       হ্যাঁ। ওদেরও আড্ডা মারার জায়গা দরকার।
-       একদিকে ভালো হয়েছে আজ নেই। নইলে ব্রিজের ঐ কোনাটায় একগাদা বাচ্চা নিয়ে পরে থাকে। আপনি হেঁটে যেতে পারবেন না।  
-       হ্যাঁ আমিও দেখেছি। কিন্তু ওরাও থাকবে কোথায় বলুন? ওদেরও তো থাকার একটা জায়গা দরকার।
-       যেখানে পারুক থাকুক। আমি কি জানি। আমার জায়গায় এসে কেন ভাই আছ?
কাজলের আর এর পরবর্তী বার্তালাপ শোনা হয়নি। সে ওদের পাশ কাটিয়ে সাইকেল গ্যারেজে চলে এসেছে সাইকেল নিতে। গ্যারেজ থেকে সাইকেল নিয়ে একটা সিগারেট ধরিয়ে কাজল এটাই ভাবতে থাকে যে, মানুষের আড্ডা দেওয়ার জায়গা দরকার পরে কিন্তু থাকবার জায়গার দরকার পরে না? আসলে আমরা আমরা আমাদের মত করে যেটা ঠিক, যেটা পরিস্কার সেটা নিয়েই ভাবি। যেটা ভুল কিংবা নোংরা সেটা কে ঠিক বা পরিস্কার করার আমাদের কোন দায়িত্ব নেই। অথচ এটা কেউ একবারও ভাবল না বৃষ্টির দিনে ঐ মা তার সন্তানকে নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেবে। কিন্তু আমাদের সংবিধানেই তো বলা আছে থাকা, খাওয়া, পরা সকলের অধিকার। তাহলে?
-       আরে তুইও এই ট্রেনে ফিরলি? ( সুপ্রিয়, কাজল কে জিজ্ঞেস করল)
-       হ্যাঁ। কোথায় ছিলিস তুই?
-       আরে বলিস না একদম শেষ মুহূর্তে পেয়েছি ট্রেনটা। পিছনে ছিলাম একদম। যা ভিড় হয়েছিল দম বন্ধ হয়ে আসছিল আর একটু হলেই।
-       সে যা বলেছিস।
-       কোন দিক দিয়ে যাবি?
-       সোজা চল।
-       আবারও ঐ রাস্তায়। আসবার সময় বুঝি কিছুই বুঝতে পারিস নি?
-       আরে বাঁদিক দিয়ে গেলেও একই হবে।
-       তাও এদিকটা একটু ভালো।
-       কতটা?
-       ঐ উনিশ বিশ।
-       তাহলে?
-       আরে চল চল। দেরি করিস না। আমাকে দেখা করতে যেতে হবে। বারবার ফোন করছে।
-       কার সাথে?
সুপ্রিয় একটু তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলল- অত জানতে হবে না বস এখনই। সময় হলে সব জানতে পারবি।
বড় রাস্তায় এসে ডানদিকে যে রাস্তাটা চলে গেছে সুপ্রিয় হাত নেড়ে সেদিক দিয়ে সলে গেল। কাজল সোজা যেতে লাগল। কিছুদুর যেতেই কাজলকে সাইকেল থেকে নেমে পরতে হল। আবার বৃষ্টি শুরু হয়েছে। কাজল ব্যাগ থেকে ছাতা বের করে আবার সাইকেলে উঠে কিছুদুর সোজা গিয়ে বাঁদিকে ঘুরে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল।  (ক্রমশ) 
ছবি সৌজন্যেঃ গুগল।  


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যেদিন বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম

                        ওপারেতে বৃষ্টি এল ঝাপসা গাছাপালা,                    এপারেতে মেঘের মাথায় একশো মানিকজ্বালা।                     বাদলা হাওয়া মনে পরে ছেলেবেলার গান,                        বৃষ্টি পরে টাপুর-টুপুর নদে এল বান।                        বৃষ্টির কিছু নিয়ম আছে, সে যখন তখন ঝড়ে পড়ে না। ইচ্ছে হলেও না। অনেকটা ঠিক আমাদের মতন, আমরা যেমন চাইলেও কাঁদতে পারি না সবসময়। কান্নার কথা লিখতে গিয়ে মনে পড়ল ক্লাস এইটে এই বৃষ্টির দিনেই একদিন খুব কেঁদেছিলাম। বিকেলে ...

মণিপুর জ্বলছে! কিন্তু কেন? অন্তিম পর্ব।

  সূচনা। বর্তমান দাঙ্গার সূত্রপাতের কারন হিসেবে যদি কিছু পয়েন্টকে লিস্ট করা যায় তাহলে দাঁড়ায়- বীরেন সিংয়ের রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদ, পোস্ত চাষের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান, অনিবন্ধিত অভিবাসন, কুকিল্যান্ডের দাবি এবং মেইতেই পুনর্জাগরণবাদ।  গত বছরের এপ্রিলে বহুদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভের স্ফুলিঙ্গ  জ্বলন্ত উত্তেজনাকে প্রজ্বলিত করে। অসম রাইফেলসের উপস্থাপনায় এই সময়কালকে "সূচনা" হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই মাসে, মণিপুর হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে মেইতেই সম্প্রদায়কে তফসিলি উপজাতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদনগুলি বিবেচনা করতে বলেছিল-সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী মণিপুরের পাহাড়ি অঞ্চলগুলিতে কুকিদের দ্বারাই বেশিরভাগ সম্পত্তির মালিকানা আছে। 1960 সালের মণিপুর ভূমি রাজস্ব ও ভূমি সংস্কার আইন শুধুমাত্র তফসিলি উপজাতিদের পার্বত্য অঞ্চলে জমি কেনার অনুমতি দেয়। মণিপুরের শীর্ষস্থানীয় উপজাতি নাগরিক সমাজের সংগঠন অল ট্রাইবাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন মণিপুরের পাহাড়ি জেলাগুলিতে যেখানে উপজাতি সম্প্রদায়ের আধিপত্য রয়েছে সেখানে "সংহতি মিছিল" করার আহ্বানের দেয়।  ৩রা মে সেনাপতি, উখরুল, কাংপোকপি, ত...

নিয়তির কাছে যা যা বলার ছিল

নবারুণ সেই কবেই বলেছিলেন- “গাঁড় মারি তোর মোটরগাড়ির, গাঁড় মারি তোর শপিং মলের। বুঝবি যখন আসবে তেড়ে, ন্যাংটো মজুর সাবান কলের। পেটমোটাদের ফাটবে খুলি, ফাটবে মাইন চতুর্দিকে। গলায় ফিতে নেংটি বেড়াল, তার বরাতেই ছিঁড়বে শিকে”। আজ একুশ দিন শেষ হবার ছিল। শেষ হবার আগেই আরও উনিশ দিনের জন্য লকডাউন কার্যকর হয়ে গেল। প্রধানমন্ত্রী এসে বলেছেন সরকার বহু আগে থেকেই এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত ছিল। হয়ত ছিল কিন্তু কীভাবে ছিল সেই প্রশ্ন কি কেউ করেছে? তিনঘণ্টার নোটিশে দেশে জুড়ে সমস্ত রকমের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেল। আমরা আনন্দ পেলাম। এবারে দীর্ঘ ছুটি। ওয়ার্ক ফ্রম হোম। কিন্তু একবারও ভাবলাম না হোমলেস পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা। যাদের জন্য আমাদের ঝাঁ চকচকে সুন্দর শহরে এখনও বসন্ত এলে আমরা প্রেমে পড়ি। যত ছ্যাঁচড়া কাজের জন্য হাড়হাভাতে মানুষগুলো গ্রাম ছেড়ে শহরের কোণায় কোণায় আস্তাকুঁড়ে আস্তানা গারতে শুরু করে সেই চল্লিশ দশকের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময় থেকে। সত্যজিতের ‘পথের পাঁচালি’র কাশবনের মধ্যে দিয়ে রেলগাড়ি দেখে আমরা দৃশ্য ভাবনার তারিফ করি। কিন্তু রেলগাড়ি ব্যবহারের ইঙ্গিত বুঝতে ব্যর্থ হই। রেলগাড়ি শুধু কাশবনের মধ্য...