একই পাড়াতে থাকি আমি অসীম দা,
লোডশেডিং হলে দুজনেরই সমস্যা,
আমার নেট অচল আর
অসীম দার তখন চুইয়ে পরে ফ্রিজের
জল।
আমাদের দুজনের মধ্যে সম্পর্ক
ক্রেতা আর বিক্রেতার।
দিনেরা আলো নিভিয়ে দেওয়ার পর,
খোঁজ পরে অসীম দার।
দুঃখেরা ইনবক্সে ভিড় করলে,
খোঁজ পরে অসীম দার।
একা একা গল্প করার ইচ্ছে হলে,
খোঁজ পরে অসীম দার।
শনিবার বারবেলায় বা ছুটিছুটি
খেলায়,
খোঁজ পরে অসীম দার।
আনন্দরা পারফিউম মেখে এলে,
খোঁজ পরে অসীম দার।
বোতলের টুং টাং শব্দ করে,
হাজির হয় অসীম দা।
চাঁদের আলো মানিব্যাগে পড়বার
আগেই-
সাইকেল নিয়ে অন্যত্র ধাবমান তখন
অসীম দা।
অনেকটা মোবাইল ভ্যানের মত কাজ
মিটিয়ে,
সিগনাল পেরিয়ে আবার ধরে নতুন
হাইওয়ে।
এইভাবেই চলত আমাদের,
বোতল ভর্তি ভালোবাসা দিয়ে যেত,
আর আমরা ধোঁয়া উড়িয়ে সেলিব্রেট
করতাম।
ঢুলুঢুলু চোখে বাড়ি ফিরে বিছানায়
গড়াগড়ি খেতাম,
পাশ বালিশে চোখ মুছতাম,
রাতের অন্ধকার জানান দিত-
স্লিপিং পিলের অভাব, নীল খামে
মোড়া চিঠি,
প্রথম লেখা কবিতা, হাতের ওপর হাত,
আজ না হয় থাক।
স্বপ্নেরা জানান দেয়, ঘুম আসতে আর
খানিকক্ষণই বাকি।
একটা ধাবমান দোকান,
ভালোবাসা ফেরি করে বেড়ায়।
যার যখন দরকার-
প্রয়োজন মত মিটিয়ে নেওয়া যায়।
আজ পয়লা বোশেখ,
আজকের লোকাল ট্রেন খানিক
ব্যাতিক্রমি,
সময়ের অনেক আগেই সে ফিরে এসেছে।
প্রিয়জনেরা যখন মাস্তুল তোলা
জাহাজ দেখতে ব্যস্ত,
আছড়ে পড়া ঢেউয়ে ব্যাঙ্ক
ব্যাল্যান্স যখন কুপোকাত,
অসীম দার নতুন খাতায় সিঁদুরের
ছোঁয়া লাগে তখন।
কেউ মনে করিয়ে দেয় আজ হালখাতা,
আজ ভালোবাসার সাথে আপ্যায়ন ও জোটে।
সাইকেল চালিয়ে অসীম দা টুং টাং
শব্দ করে-
ভালোবাসা বয়ে আনে। আর তার সাথে
বাক্স ভর্তি আবদার।
এই আবদারে নেশা হয় না, স্বাদ কোরক
গুলো মিষ্টির ছোঁয়া পায়।
দমকা হাওয়া বলে যায় এটাই হাল
ফ্যাশান, এটাই
নতুন বছরের উপহার,
ভালোবাসার উপহার।
জানি, চাইলেই আবার পাওয়া যাবে-
বোতল ভর্তি ভালোবাসা।
টুং টাং শব্দ করে হাজির হবে অসীম
দা।
মানিব্যাগ হিসেব গোনার আগেই-
হারিয়ে যাবে আবার।
তবুও ফিরে আসবে,
ডাক দিলেই হাজির হবে
বোতল ভর্তি ভালোবাসা নিয়ে।
স্পিরিটের মত সে ভালোবাসা উবে যায়
না,
নেশা হয়ে লেগে থাকে শরীরের
প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গে।।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
ধন্যবাদ অসংখ্য।